বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৩ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সভাপতি পদে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন।
এছাড়াও, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর অথবা তার ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যা আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত এ পদে বহাল থাকবেন।
এর আগে, সম্প্রতি অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরির ঘটনা বৃদ্ধি নিয়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য যৌথ অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে। বুধবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সালাহ উদ্দিন ও সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের মনোনীত সদস্য সাবিকুন্নাহার এ বিষয়ে আলোচনা করেন।সালাহ উদ্দিন উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় একজন নারী শিক্ষকের মৃত্যু, বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতার দ্বারা স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্যে ছিনতাই এবং যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে হত্যার মতো ঘটনা সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ ঘটছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, নির্লিপ্ততা এবং অক্ষমতার কারণে জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।তিনি জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানান। সালাহ উদ্দিন বলেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফুটপাতগুলো পথচারীদের জন্য তৈরি হলেও অনেক জায়গায় দোকান, ভাসমান ব্যবসা ও স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনার দখলে চলে গেছে। এর ফলে মানুষ ফুটপাত ছেড়ে সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।ফুটপাতে দোকান বসানোর কারণে সংঘটিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি চক্র গড়ে উঠেছে। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করে ফুটপাতে ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিছু জায়গায় চায়ের দোকান বসাতে ২০ হাজার টাকা এবং অন্য দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, চাঁদাবাজি যেন সরকারি দলের সংক্রামক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিএনপি একটি পরিবেশবান্ধব দল হিসেবে পরিচিত। বৃক্ষরোপণ, নদী-নালা ও জলাশয় রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিএনপি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আজ (বুধবার) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি আর বৃক্ষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিএনপি এবং বিশুদ্ধ নদী-নালার মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় গাছ, মাছ, নদী, পুকুর, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষা করা অপরিহার্য। অন্যথায়, মানুষের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণকে পরিবেশ দূষণের একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতে শরৎকালে বিল ও ঝিলের পাশে কাশফুল দেখা যেত। জলাশয় ভরাটের কারণে বর্তমানে সেই দৃশ্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাই, পরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শহরের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পাশাপাশি নদী, খাল, বিল ও জলাশয় রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অতীতে পুরান ঢাকা অপরিচ্ছন্ন রাস্তা, নদী-নালা ও জলাশয়ের কারণে ভীতিকর মনে হতো। তবে বর্তমানে বিভিন্ন পুকুর, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার করার ফলে পরিবেশের পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ছয় মাসে আড়াই কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য থাকলেও ইতোমধ্যে প্রায় তিন কোটির বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের সময় মামলা, হামলা ও নিপীড়নের মধ্যেও বিএনপির নেতা কর্মীরা বৃক্ষরোপণ ও নদী-নালা পরিষ্কারের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার সময়েও ঝুঁকি নিয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি জনস্বার্থের দল। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। জনগণের কল্যাণে দলটি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেয়েদের বিএ ও অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার পরিকল্পনা করেছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাই এবং এর মান নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে গবেষণাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস বা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যাতে জনমনে বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক সভা সম্পন্ন করেছে।
তিনি জানান, কমিটির তত্ত্বাবধানে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি তুলনামূলকভাবে নতুন পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ। বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ডে এটি সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরি সুবিধাও বিএসটিআইয়ের কাছে ছিল না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিড সংযোজন নিষিদ্ধ করা, পণ্যের গায়ে ব্যবহৃত উপাদানের স্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা পদ্ধতি জাতীয় মানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ও পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসিএসআইআর থেকে পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে।
খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরাপদ মোড়কীকরণ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মোড়কীকরণে মানসম্পন্ন ভার্জিন ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত খাদ্য কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকার কোনো আপস করবে না। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় কোনো পণ্যে অননুমোদিত উপাদান বা বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, বিএসটিআইয়ের নিয়মিত নজরদারির আওতায় সম্প্রতি নির্ধারিত বাংলাদেশ মান অনুসরণ না করায় ১০টি খাদ্যপণ্য ও আটটি কসমেটিকস বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কয়েকটি মশলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘি ও বাটার অয়েল রয়েছে।
তিনি বলেন, মানসম্মত নয়-এমন পণ্য প্রত্যাহার এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিএসটিআই কাজ করছে।
সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্ধারিত জাতীয় মান বর্তমানে নেই। এ কারণে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকের একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফল ও পণ্যের মান অনলাইনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, ভোক্তা মহলসহ সবার সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর ও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোণা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আসতে চান, তবে তিনি তা করতে সক্ষম হবেন, কিন্তু তার বিষয়টি আইন অনুযায়ী চলবে।
আজ বুধবার দুপুরে মদন উপজেলার জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর আরও বলেন, আমি সাড়ে ১৭ বছর জেলে কাটিয়েছি। আমাকে অন্যায়ভাবে, মিথ্যার ভিত্তিতে তিনবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি যদি দেশে ফিরে আসেন এবং বিচারের মুখোমুখি হন, তবে আমি তাকে সাধুবাদ জানাব।
বিগত সরকারের সময় নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার বিচার সম্পূর্ণ অন্যায় ও মিথ্যার ভিত্তিতে হয়েছিল।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বর্তমানে জাতিসংঘ দ্বারা তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হয়ে রায় মেনে নেবেন, দেশের জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করে।
এর আগে, তিনি পূবালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি নিজ হাতে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি চারা গাছ রোপণ করে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসরিন সুলতানা এবং পূবালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চল প্রধান ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হুমায়ুন মিয়া।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যাংকের কর্মকর্তা, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ