প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরির ঘটনা বৃদ্ধি নিয়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য যৌথ অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে। বুধবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সালাহ উদ্দিন ও সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের মনোনীত সদস্য সাবিকুন্নাহার এ বিষয়ে আলোচনা করেন।সালাহ উদ্দিন উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় একজন নারী শিক্ষকের মৃত্যু, বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতার দ্বারা স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্যে ছিনতাই এবং যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে হত্যার মতো ঘটনা সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ ঘটছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, নির্লিপ্ততা এবং অক্ষমতার কারণে জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।তিনি জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানান। সালাহ উদ্দিন বলেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফুটপাতগুলো পথচারীদের জন্য তৈরি হলেও অনেক জায়গায় দোকান, ভাসমান ব্যবসা ও স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনার দখলে চলে গেছে। এর ফলে মানুষ ফুটপাত ছেড়ে সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।ফুটপাতে দোকান বসানোর কারণে সংঘটিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি চক্র গড়ে উঠেছে। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করে ফুটপাতে ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিছু জায়গায় চায়ের দোকান বসাতে ২০ হাজার টাকা এবং অন্য দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, চাঁদাবাজি যেন সরকারি দলের সংক্রামক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন