শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৯ পি.এম
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মৃত্যু শিশুদের মধ্যে ২ জনই চট্রগ্রাম বিভাগের। এরমধ্যে একজন চট্রগ্রাম ও অন্যজন নোয়াখালীর। আর একজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।
হালনাগাদ প্রতিবেদন আরও বলছে, নতুন আক্রান্ত নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনে।
এছাড়া এই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টা করা এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করেন। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাসুদুর রহমান ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব।’
এ ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মোঃ সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের ফলে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ওই সেনা কর্মকর্তা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী সিএমএইচে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন ওই সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী আহত সেনা কর্মকর্তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন এবং তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী আহত সেনা কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাহস ও সান্ত্বনা প্রদান করেন।
গত বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হন এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পরে আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনা সদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, পাশাপাশি তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের গোপদ এলাকায় একটি অটো রাইস মিলে চুরি করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়ায় পালিয়েছে একটি চোরচক্র। এ সময় চক্রের সদস্যরা মিলের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ও তামার তার কেটে ব্যাপক ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চোরেরা কাটা তার ও অন্যান্য মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে গোপদ এলাকার মেসার্স জনতা অটো রাইস মিলে এ ঘটনা ঘটে। মিল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চোরচক্রটি রাত ১টা থেকে প্রায় ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে। এ সময় তারা মিলের নাইটগার্ডদের জোরপূর্বক একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে মিলের বিভিন্ন কক্ষের দরজার তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান তামার তার কেটে ফেলে।
মিলের ম্যানেজার মেহেদী জানান, চোরেরা প্রথমে দায়িত্বে থাকা নাইটগার্ডদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তাকেও আটক করে মিলের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে তারা মিলের বৈদ্যুতিক লাইনের গুরুত্বপূর্ণ তারগুলো কেটে ফেলে এবং বিভিন্ন স্থানে তছনছ করে।
মিলের মালিক সাদিকুল ইসলাম আমিন বলেন, চোরচক্র তাঁর মিলের বিদ্যুৎ লাইনের গুরুত্বপূর্ণ তার কেটে দিয়েছে। এতে মিলের প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার তার ও অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
খবর পেয়ে মধুপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চোরচক্রটি কাটা তার ও অন্যান্য মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘মিল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশের উপস্থিতির পর চোরচক্র পালিয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবার উদ্দেশ্যে সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের একটি চতুর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের অপরাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাকিয়া খানকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে বিচারক নাতাশা সি মার্ল এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, এটি একটি লোভ ও প্রতারণার অবিশ্বাস্য কাহিনী। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ এবং ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন জাকিয়া। পাশাপাশি, বাসায় সেবা দেওয়ার আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং বেআইনি অর্থ লুকানোর জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর ধরে এই কারচুপি চলতে থাকে। প্রবীণ নাগরিকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাকিয়া ও তার চক্রের দালালরা তাদের নগদ টাকার প্রলোভন দেখাতেন। প্রবীণরা কোনো সেবা না পেয়েও কেবল ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করতেন, আর তার বিনিময়ে নগদ ঘুষের টাকা পেতেন। অন্যদিকে, জাকিয়া খান সরকার বা মেডিকেয়ারের কাছে সেবা প্রদানের ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কোটি কোটি ডলার তুলে নিতেন।
গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খান নিজের অফিসে বসে কীভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। জানা গেছে, এই কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠান দুটি প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ দিয়ে জাকিয়া বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, জমা করেছেন প্রচুর নগদ টাকা ও খাঁটি সোনার গয়না।
তদন্তে সব কিছু ধরা পড়ার পর গত বছর জাকিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারের সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ওই ৫৬ মিলিয়ন ডলার সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, তার দুটি বাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা এবং পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নাম ভাঙিয়ে যারা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করবে, তাদের সবাইকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ