জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫০ পি.এম
বাড়ির সামনে খেলছিল তিন বছরের শিশু সাবরিনা। হঠাৎ দলবেঁধে কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরের দল শিশুটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাংস ছিঁড়ে নেয়। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও এখনো কাটেনি কুকুরের সেই আতঙ্ক।
শুধু সাবরিনা নয়, রাজবাড়ীতে প্রতিনিয়ত বেওয়ারিশ কুকুরের কামড় ও হামলার শিকার হচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশু। বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশি। দলবদ্ধ কুকুরের আক্রমণের ভয়ে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে চান না। শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশুর ওপরও হামলা চালাচ্ছে কুকুরের দল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুকুর নিধন বন্ধ থাকা, জনবল সংকট ও বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ কার্যক্রম। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের উপদ্রবও বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জেলায় বছরে প্রায় ৮ হাজার মানুষ কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি দুই হাজারের বেশি গৃহপালিত পশু কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন ৭৫৬ জন। আর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত একই ধরনের ঘটনায় টিকা নিয়েছেন ৯৫৩ জন।
কালুখালী উপজেলার তোফাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক মোবারক আলী বলেন, আমার মেয়ের বয়স প্রায় তিন বছর। বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় একদল কুকুর তাকে আক্রমণ করে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে মাংস ছিঁড়ে নেয়। চিৎকার শুনে আমার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে প্রায় এক মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কুকুরগুলো দলবদ্ধভাবে চলাচল করে। হামলা করে আবার দ্রুত পালিয়ে যায়। আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকেও একবার কুকুর ধাওয়া করেছিল। এখন সে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যায় এবং কুকুরের ভয়ে হাতে লাঠি রাখে। শুধু শিশুরাই নয়, ছাগলকেও দলবেঁধে আক্রমণ করছে কুকুর।
বালিয়াকান্দি সদরের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের এলাকায় কয়েকজনের বাড়ির ছাগলকে কুকুর কামড়েছে। কামড়ানোর পর কুকুরগুলো ছাগলকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। হামলার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরগুলো পালিয়ে যায়। দু-একদিন দেখা না গেলেও কয়েকদিন পর আবার দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায়। শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্তানকে নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকি। ঘর থেকে রাস্তায় বের হলেই ভয় কাজ করে। প্রতিনিয়ত দলবেঁধে কুকুর ঘুরে বেড়ায়। গৃহপালিত পশু একা পেলেই আক্রমণ করে। ফলে শিশুদের বাইরে পাঠাতেও ভয় হয়।
তালপট্টির বাসিন্দা জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, বাড়তি আয়ের আশায় ছাগল পালন করতাম। আমার তিনটি ছাগল ছিল। প্রতিদিনের মতো ছাগলগুলো বাড়ির পাশেই ঘাস খাচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনটি কুকুর এসে একটি ছাগলকে কামড়াতে শুরু করে। ভয়ে অন্য দুটি ছাগল দৌড়ে বাড়িতে চলে আসে। আক্রান্ত ছাগলটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। দুই দিন চিকিৎসা দেওয়ার পরও সেটিকে বাঁচাতে পারিনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, একসময় প্রকল্পের মাধ্যমে কুকুরের শরীরে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়া হতো। পৌরসভা থেকেও নিধন ও বন্ধ্যাত্বকরণ কার্যক্রম চালু ছিল। অনেকদিন ধরে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমাদের নিজস্ব কোনো প্রকল্প বা বাজেট নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হলে জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে আমরা সহযোগিতা করব।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, কুকুর নিধনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই নিধনের কোনো সুযোগ নেই। কুকুরের ভ্যাকসিন ও বন্ধ্যাত্বকরণের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ময়মনসিংহ সার্কেল অফিসে ঘুষের বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল কালের কণ্ঠে ‘দালাল চক্রের দাপট, ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা’ শিরোনামে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এছাড়া, সম্প্রতি একাধিক সংবাদ মাধ্যমেও ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের মতোই ঘুষ গ্রহণ এবং গ্রাহকদের হয়রানি চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে, তবে তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। তথাপি, ওই কার্যালয়ে বাবরের কর্তৃত্ব এখনো বজায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের বাইরের কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানগুলোতে অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়। এসব দোকান থেকে দালালদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ থাকে। বিআরটিএর সেবার জন্য দালালরা গ্রাহকদের কাছ থেকে যে অর্থ নেন, তার একটি অংশ বিআরটিএ কার্যালয়ে পৌঁছে যায়। মোটরযান পরিদর্শক বাবর দালালদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেন, যা পরে বিভিন্ন ‘চেয়ারে’ পৌঁছায়।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিআরটিএতে দালাল হিসেবে নিয়মিত ঘুষ লেনদেনকারী কয়েকজন দালাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী যারা দালাল ধরেন, কেবল তারাই পরীক্ষার সব ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্স পান। দালাল ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীরা এক বা দুই ধাপে উত্তীর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ধাপে অকৃতকার্য হন।
দালালদের দাবি, তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা বাবরের হাতে তুলে দিতে হয়। প্রতি পরীক্ষায় অন্তত ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।
প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচবার এ ধরনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় অবৈধভাবে অন্তত চার লাখ টাকা আদায় হয়। এই টাকার ভাগ পরীক্ষা বোর্ডের সভাপতি, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছে যায়।
এ বিষয়ে গত বুধবার ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসাদুজ্জামানের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বিআরটিএতে গ্রাহকরা বিভিন্ন সেবা পেতে গিয়ে ঘুষ দেন—এমন অভিযোগ আমি প্রায়ই শুনি। তবে আমি এডিএম কোর্ট পরিচালনা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকি যে, বিআরটিএতে বেশি মনোযোগ দিতে পারি না। তবে আমি বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা থেকে অবৈধ এক টাকাও নিই না। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে আমাকে অবৈধ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি।
জানা যায়, সম্প্রতি কালের কণ্ঠ ছাড়াও ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ে গ্রাহক ভোগান্তি ও দালালদের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে মোটরযান পরিদর্শক বাবর এ ঘুষ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি একজন গ্রাহকের লিখিত অভিযোগের পর বিআরটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে বাবরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও তাতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কিনা জানা যায়নি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘অফিসের বাইরে মানুষ কী আলোচনা করল সেটি আমার জানা নেই। আমি কোনো অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নই।’
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ময়মনসিংহ কার্যালয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে পুনর্তদন্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেস্টওয়ে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মিজানুর রহমান এবং তার স্ত্রী তানিয়া সুলতানা তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক (মানিলন্ডারিং) মো. সেলিম মিয়ার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মিজানুর রহমান এবং তার স্ত্রী তানিয়া সুলতানা তানভী হাউজিং ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এই অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলছে।
এছাড়া, প্লট বরাদ্দের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিশ্রুত প্লট প্রদান না করা এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের এমডি মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী এবং পরিচালক মো. মোমেনের বিরুদ্ধে গত ২১ জুলাই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক জানায়, মিজানুর রহমান এবং তার স্ত্রী তানিয়া সুলতানা তানভী বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। যদি তারা বিদেশে চলে যান, তাহলে অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়া এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হাজার হাজার শিশু শিক্ষা ত্যাগ করে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। সংঘাতের ফলে শত শত স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চরম হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
এই সংকটে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী হল ১৩ বছর বয়সী কিশোর মুনির ফারির। কিছুদিন আগে তার জীবন ছিল ভিন্ন। সে প্রতিদিন সকালে স্কুলে যেত এবং বিকেলে তার কৃষক বাবাকে গবাদি পশুর যত্ন নিতে সাহায্য করত। পড়াশোনা নিয়ে মুনিরের ছিল গভীর আগ্রহ। কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল।
নতুন করে ইয়েমেনে দুই গোষ্ঠীর সংঘাত শুরু হলে এর প্রভাব মুনিরের মতো আরো অনেক শিশুর জীবনে এসে পড়ে। দেশটির তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজেয়াহ জেলায় মুনিরদের গ্রামের কাছাকাছি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই মুনিরের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হতে শুরু করে। স্কুলের ক্লাসরুমে বসে তারা দূর থেকে আসা তীব্র বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ শুনতে পেত। হঠাৎ করেই তাদের বাড়িটি ইরান-সমর্থিত হুতি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর যুদ্ধের একদম মুখোমুখি সীমান্তে পরিণত হয়।
মুনির জানায়, তারা আশেপাশের এলাকায় যুদ্ধ চলার কথা শুনলেও এটি এত দ্রুত তাদের গ্রামে চলে আসবে তা ভাবেনি। সংঘর্ষের শব্দ গ্রামের একদম কাছে চলে আসায় তারা প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত তারা তাদের গবাদি পশু এবং জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে খুব ভোরে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় পালিয়ে যায়।
সে এবং তার পরিবার দক্ষিণ-পশ্চিম তাইজ জেলার আল-শিমায়াতিন এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য তৈরি একটি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। সেখানে পৌঁছানোর সময় তাদের কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না, এমনকি বেঁচে থাকার মতো মৌলিক জিনিসপত্রও ছিল না।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার কারণে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। মুনির ও তার পরিবার তাদেরই অংশ। হুতিরা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার পর খুব দ্রুত দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয় এবং লোহিত সাগর উপকূলের শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
হুতিদের এই অভিযানের ফলে ইয়েমেনে গত কয়েক বছর ধরে চলা শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনগুলো মোটামুটি শান্ত ও স্থিতিশীল ছিল।
হুতিরা এখন তাইজ শহরের উপকণ্ঠে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা এবং যোগাযোগের রাস্তাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে সরকারি বাহিনী ও সৌদি আরবের বিমান হামলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এই লড়াই, বিমান হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
মুনির এবং তার ভাই এখন পড়াশোনা করার বদলে তাদের ক্যাম্পের বাইরের বাজারে মোজা এবং অন্যান্য সস্তা জিনিসপত্র বিক্রি করছে। তার ক্লাসরুমের জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে ছোট্ট একটি তাঁবু, যেখানে রাতের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে সে, তার বাবা-মা এবং পাঁচ ভাইবোন গাদাগাদি করে থাকে।
এই মাসের নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আগে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের কারণে ৩২ লাখেরও বেশি শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল—মুনির এখন তাদেরই একজন।
পড়াশোনা করা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু এমন এক পরিস্থিতিতে নয় যেখানে আমাদের খাবার, পানি এবং অন্যান্য মৌলিক জিনিস জোগাড় করতেই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। আপাতত যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কাজ চালিয়ে যাব বলে যোগ করে মুনির।
বাধ্য হয়ে ছেলেদের কাজে পাঠিয়েছেন জানিয়ে তার বাবা গালেব ফারি বলেছেন, ক্যাম্পে বেঁচে থাকার মতো ন্যূনতম খরচটুকু কোনোমতে জোগাড় করতে পারে। এই ক্যাম্পটি কেবলই একটি সাময়িক ঠিকানা এবং দ্রুতই নিজের গ্রামে ফিরে যেতে চাই। তবে প্রতিদিন নতুন নতুন বাস্তুচ্যুত মানুষকে ক্যাম্পে আসতে দেখে তিনি খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে তাইজ শহরের ৫৬ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি ইসাম নাবিল বলেন, ‘সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির মূল্য সাধারণ নাগরিকদেরই দিতে হয়, এবং মনে হচ্ছে তাইজে আমাদেরকেই এর বিশেষ চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে, কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এখন আর সহজে আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’
এতে অনেকেই মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে সস্তা খাবারের দিকে ঝুঁকছেন বলে যোগ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছাত্রলীগের একজনকে গ্রেফতার করেছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার কাজলার পাড় এলাকা থেকে মো. সাজ্জাদ হাসান (২৫) নামের ওই সদস্যকে আটক করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সাজ্জাদ হাসান নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন ব্রাহ্মণদী ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি যাত্রাবাড়ী থানার এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
গ্রেফতারকৃতকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ