প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ময়মনসিংহ সার্কেল অফিসে ঘুষের বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল কালের কণ্ঠে ‘দালাল চক্রের দাপট, ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা’ শিরোনামে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এছাড়া, সম্প্রতি একাধিক সংবাদ মাধ্যমেও ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের মতোই ঘুষ গ্রহণ এবং গ্রাহকদের হয়রানি চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে, তবে তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। তথাপি, ওই কার্যালয়ে বাবরের কর্তৃত্ব এখনো বজায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের বাইরের কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানগুলোতে অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়। এসব দোকান থেকে দালালদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ থাকে। বিআরটিএর সেবার জন্য দালালরা গ্রাহকদের কাছ থেকে যে অর্থ নেন, তার একটি অংশ বিআরটিএ কার্যালয়ে পৌঁছে যায়। মোটরযান পরিদর্শক বাবর দালালদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেন, যা পরে বিভিন্ন ‘চেয়ারে’ পৌঁছায়।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিআরটিএতে দালাল হিসেবে নিয়মিত ঘুষ লেনদেনকারী কয়েকজন দালাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী যারা দালাল ধরেন, কেবল তারাই পরীক্ষার সব ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্স পান। দালাল ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীরা এক বা দুই ধাপে উত্তীর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ধাপে অকৃতকার্য হন।
দালালদের দাবি, তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা বাবরের হাতে তুলে দিতে হয়। প্রতি পরীক্ষায় অন্তত ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।
প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচবার এ ধরনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় অবৈধভাবে অন্তত চার লাখ টাকা আদায় হয়। এই টাকার ভাগ পরীক্ষা বোর্ডের সভাপতি, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছে যায়।
এ বিষয়ে গত বুধবার ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসাদুজ্জামানের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বিআরটিএতে গ্রাহকরা বিভিন্ন সেবা পেতে গিয়ে ঘুষ দেন—এমন অভিযোগ আমি প্রায়ই শুনি। তবে আমি এডিএম কোর্ট পরিচালনা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকি যে, বিআরটিএতে বেশি মনোযোগ দিতে পারি না। তবে আমি বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা থেকে অবৈধ এক টাকাও নিই না। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে আমাকে অবৈধ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি।
জানা যায়, সম্প্রতি কালের কণ্ঠ ছাড়াও ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ে গ্রাহক ভোগান্তি ও দালালদের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে মোটরযান পরিদর্শক বাবর এ ঘুষ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি একজন গ্রাহকের লিখিত অভিযোগের পর বিআরটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে বাবরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও তাতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কিনা জানা যায়নি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘অফিসের বাইরে মানুষ কী আলোচনা করল সেটি আমার জানা নেই। আমি কোনো অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নই।’
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ময়মনসিংহ কার্যালয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে পুনর্তদন্ত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন