০৫:৫০ পি.এম
আজ রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, যেখানে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আলোচনা করেছে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান যে, এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী
রাজধানীর শাহবাগস্থ শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে, যার শীর্ষক ছিল ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়’ , ডেপুটি স্পিকার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ সেইসঙ্গে কায়সার কামাল আরও উল্লেখ করেন যে, শিশু নির্যাতনের মূল কারণসমূহ চিহ্নিত করা জরুরি। বিদ্যমান আইন, নীতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন।
শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর এবং টেকসই কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
রামিসা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে, ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী হতে হবে।
আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
বর্তমানে শিশুদের প্রতি শারীরিক, মানসিক ও অনলাইনভিত্তিক নির্যাতনের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গোলটেবিল বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য আইনগত ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা সেল পরিচালনাকারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, শিল্পী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী, সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী পরিবার এবং নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু
এ সময় বক্তারা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি, নিপুণ রায় চৌধুরী এমপি, অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, রামিসার বাবা, নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন