বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:১৭ এম
> বিশ্ব
> মধ্যপ্রাচ্য
মার্কিন সংলাপের সমালোচনার প্রেক্ষিতে গালিবাফ বলেছেন, আলোচনা মানেই আপস নয়।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আলোচনা মানে পশ্চাদপসরণ নয়, বরং এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি প্রতিরোধ। এই তথ্যটি আলজাজিরা থেকে প্রাপ্ত।
গালিবাফ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা দ্বারা প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের দৈনিক কায়হানে প্রকাশিত আলোচনার সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ উল্লেখ করেছেন, ‘আমাকে বলতেই হচ্ছে যে, যেকোনো যৌক্তিক পদক্ষেপ, যেকোনো কর্তৃত্বপূর্ণ সংলাপ, বা শত্রুর কাছ থেকে জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ভুলভাবে আপস এবং নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের অর্জনকে সুসংহত করা এবং শত্রুর পরিকল্পিত গুরুতর বিপর্যয় থেকে দেশকে নিরাপদে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রের শক্তির উপকরণগুলো সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।
এছাড়া, গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং আলোচক দলের প্রতিটি অর্জনকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়টিকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> বিশ্বমার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক গ্রেপ্তার বন্ধ করেন।
৪৭ সদস্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের মধ্যে ৪৫ জন বুধবার নেতানিয়াহুর কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের ‘প্রাণঘাতী সহিংসতা’ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে নেতানিয়াহুকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা দমনে ইসরাইলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অপরাধী যে পক্ষেরই হোক না কেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটররা উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম তীরে সহিংসতার ‘উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি’ ঘটেছে। এর ফলে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, বসতিস্থাপনকারীদের মসজিদে হামলার অভিযোগও উঠেছে।
চিঠিতে ২০২২ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত নয়জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেটররা এসব মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত জোরদার করার জন্যও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি এমন এক সময়ে পাঠানো হলো, যখন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইল সরকারের পশ্চিম তীর নীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কারণে দলের অনেক সদস্য ইতোমধ্যে দেশটির জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিটি যৌথভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট নেতা ও সিনেটর চাক শুমার এবং নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার তৈরি করেছেন। শুমার দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
চিঠিতে পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক একটি প্রাণঘাতী ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে, ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দলের নিরাপত্তায় থাকা এক ইসরাইলি ব্যক্তি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা পশ্চিম তীরে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৫৭ জনে পৌঁছেছে। এখনও অন্তত ৪০৩ জনের খোঁজ মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে ২৬টি দেশের ৩৪১ জন নাগরিক এবং ৬২ জন নেপালি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ কৈলাস মানসসরোবরের উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রায় ছিলেন। নিখোঁজ তীর্থযাত্রীদের মধ্যে ১০৫ থেকে ১৩৩ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় রয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই আকস্মিক বন্যার ফলে কৈলাস মানসসরোবর তীর্থযাত্রা আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
এই বন্যায় কৈলাস পর্বত এবং মানসসরোবর হ্রদে যাওয়ার প্রধান রুটের রাস্তা, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা কেবল একটি ভ্রমণ বা সাধারণ তীর্থযাত্রা নয়; এটি এক পরম আত্মিক ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সন্ধান, যা তীব্র শারীরিক কষ্টের ঊর্ধ্বে। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতের বোন ধর্মের কোটি কোটি মানুষের কাছে এই স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র এবং রহস্যময় কেন্দ্র। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত সাধারণ কোনো পর্বত নয়।
এটি দেবকূলের প্রধান ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীর আদি বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, কৈলাসে স্বয়ং শিব সশরীরে বিরাজ করেন। মনে করা হয়, মানসসরোবর হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে পরমপিতা ব্রহ্মার মন থেকে, যার কারণেই এর নাম মানসসরোবর। এই হ্রদের জল অত্যন্ত পবিত্র।
বিশ্বাস করা হয়, মানসসরোবরের পবিত্র জলে একটি ডুব দিলে মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায়। আর কৈলাস পর্বতের চারপাশে ৫২ কিলোমিটারের এক চক্কর বা 'পরিক্রমা' সম্পূর্ণ করতে পারলে মানুষ মোক্ষ লাভ করে, অর্থাৎ সে জন্ম ও মৃত্যুর চিরন্তন চক্র থেকে মুক্তি পায়। তিব্বতি এবং হিন্দু উভয় ঐতিহ্যেই কৈলাস পর্বতকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র মনে করা হয়। বলা হয়, এটি স্বর্গ ও মর্ত্যের সংযোগস্থল। সাধক এবং আধ্যাত্মিক অন্বেষণকারীদের মতে, এখানকার মহাজাগতিক শক্তির স্তর এতটাই তীব্র যে, এখানে ধ্যান করলে অতি দ্রুত আত্মিক উন্নতি ঘটে এবং ভেতরের কুপ্রবৃত্তিগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
মাউন্ট এভারেস্টে হাজার হাজার মানুষ উঠলেও, ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার উচ্চতার কৈলাস পর্বতের চূড়ায় আজ পর্যন্ত কোনো মানুষ পা রাখতে পারেনি। চীনের সরকার এবং ধর্মীয় বিশ্বাস উভয় কারণে এখানে আরোহণ নিষিদ্ধ। লোককথা আছে, যিনিই এই পাহাড়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন, তিনি হয় দিক হারিয়েছেন, না হয় তীব্র আবহাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই চিরন্তন এবং অলৌকিক রহস্য মানুষকে এক তীব্র চৌম্বকীয় আকর্ষণে কাছে টানে। ভক্তদের কাছে এই যাত্রার শারীরিক কষ্ট হলো অহংকার ও অহমিকা বিসর্জনের একটি প্রক্রিয়া। তারা বিশ্বাস করেন, শিবের ডাক না এলে কেউ কৈলাশে যেতে পারে না।
১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর এই যাত্রা প্রায় দুই দশকের জন্য স্থগিত ছিল। ১৯৮১ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তির পর এটি পুনরায় চালু হয়। এরপর কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি আবার বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর ২০২৫ সালে পুনরায় যাত্রাটি শুরু হবে।
ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা মূলত তিনটি প্রধান রুটের মাধ্যমে কৈলাস মানসসরোবরে পৌঁছাতে পারেন। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস রুটটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আলমোড়া ও ধারচুলা হয়ে এগিয়ে যায়। এরপর গুঞ্জি এবং লিপুলেখ পাশ দিয়ে তিব্বতে প্রবেশের জন্য হেঁটে বা ট্রেকিং করে যেতে হয়। সিকিম নাথু লা পাস রুটটি দিল্লি থেকে গ্যাংটক হয়ে নাথু লা পাস অতিক্রম করে এবং এরপর গাড়ির সাহায্যে তিব্বতের ভেতরে এগিয়ে যায়। সরকারি মাধ্যমে পরিচালিত এই রুটে ট্রেকিং বা হাঁটার পরিমাণ কম এবং গাড়িতে ভ্রমণের সুযোগ বেশি। ফলে এটি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ, যদিও পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে ২০ দিনেরও বেশি সময় লেগে যায়।
তৃতীয় রুটে তীর্থযাত্রীরা কাঠমান্ডু থেকে বিমানে বা গাড়িতে করে নেপালগঞ্জ বা সিমিকোট যান এবং সেখান থেকে হিলসা হয়ে অথবা সড়কপথে তিব্বতে প্রবেশ করেন। সরকারিভাবে পরিচালিত রুটগুলোর মতো না হয়ে, এই রুটটি বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কঠিন ট্রেকিং এড়ানোর জন্য এতে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও রয়েছে। নেপালের আকস্মিক বন্যায় এই রুটটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের সাড়ে ৪ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় যেতে হয়, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। তীর্থযাত্রীদের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, ভূমিধস এবং দুর্গম ভূখণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়। এর সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো কৈলাস পর্বতের চারপাশের ৫২ কিলোমিটারের পরিক্রমা, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৬৩০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ডলমা লা পাস অতিক্রম করা অন্তর্ভুক্ত।
শারীরিক কষ্ট ছাড়াও কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় যেতে নানান সরকারি অনুমতি ও ভিসা লাগে। শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ঝুঁকি বিবেচনায় ভারত সরকার এ যাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। নির্ধারিত কোটার বাইরে কেউ এ যাত্রায় যেতে পারেন না। এমনকি কেউ চাইলেও একা এ যাত্রায় সামিল হতে পারবেন না। সরকারি ব্যবস্থাপনা বা নির্ধারিত বেসরকারি ট্রাভেল অপারেটররাই এ তীর্থযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এত বাধার পরও প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পুণ্যের আশায় কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করা উচিত।
তিনি এ আহ্বানটি হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ১৫০১তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
র্যালিতে লক্ষাধিক আশেকে রাসুল অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, দিনব্যাপী আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি দরবারের পির সাহেবরাও ছিলেন।
কুদরত এ খোদা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-কে আশেকে রাসুলদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুসলিম জাতি দীর্ঘদিন ধরে এই আনন্দ উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।
তিনি জানান, মুসলিমরা জানত যে, হজরত রাসুল (সা.) একই দিনে জন্মগ্রহণ ও ওফাত লাভ করেছেন। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সংস্কারক সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) মুসলিম জাতির এ ভুল ভেঙে দেন। তিনি ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, হজরত মোহাম্মদ (সা.) ১ রবিউল আউয়াল ওফাত লাভ করেছেন এবং ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন।
এ কারণে, মুসলিম জাতি আজ দয়াল রাসুল (সা.)-এর জন্মদিনে প্রাণভরে আনন্দ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন কুদরত এ খোদা।
সম্মেলনে বক্তারা জানান, হজরত দেওয়ানবাগী (রহ.) ইসলামে শতাধিক সংস্কার করেছেন। তারা বলেন, দেওয়ানবাগী হুজুরের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন শুরু করেছে।
সম্মেলনে দেশবরেণ্য আলেমগণের পাশাপাশি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. ফারুক (এম. ফারুক), নজরুল গবেষক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেন, কলাম লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন সোহেল, জাতীয় আইন কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান মিয়া, মুহাদ্দিস এমরান হোসাইন মাজহারীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা : গোপালগঞ্জ থেকে ‘অন্যতম আসামি’ গ্রেপ্তার
যশোরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন (২৯) হত্যার মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে। হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি গোলাম রসুলকে (৩০) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার পুইশুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুইশুর এলাকায় বাসু সিকদারের বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম রসুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরের স্বর্ণপট্টিতে নিজ দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন আল-আমিন হোসেন, যিনি পূর্ব বারান্দীপাড়া, মাঠপাড়ার বাসিন্দা।
পরে পূর্ব বারান্দীপাড়া লিচুতলা মাদরাসার পেছনে বাবুর মেহগনি বাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে পিবিআই যশোর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তের সময় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই জানতে পারে, আল-আমিনের সঙ্গে গোলাম রসুলসহ কয়েকজনের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এই বিরোধের ফলস্বরূপ আল-আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে গোলাম রসুল ও তার সহযোগীরা মোবাইল ফোনে একাধিকবার আল-আমিনকে কল করে লিচুতলা মাদরাসার পেছনের মেহগনি বাগানে ডেকে নেন। সেখানে তাকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে এবং ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আল-আমিনের মৃত্যু ঘটে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম রসুল জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর গোলাম রসুল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই। এরপর বুধবার ভোরের দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার পুইশুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুইশুর এলাকায় বাসু সিকদারের বসতঘর থেকে গোলাম রসুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ জানান, গ্রেপ্তারের পর গোলাম রসুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যা কাণ্ডের বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পিবিআই যশোর জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, আল-আমিনের সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামিসহ অন্যদের বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার গোলাম রসুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ