০৬:০২ পি.এম
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে ভারতবর্ষের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে। তবে সিজেপির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে কয়েকটি বিরোধী দল নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। সেই সাথে, এই দাবিটি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। সিজেপির প্রধান যুক্তরাষ্ট্রে পড়ুয়া অভিজিৎ দিপকের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলোড়ন তৈরি করলেও কংগ্রেসের নেতারা এখনও এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন।
দলীয় সূত্র থেকে যে তথ্য এসেছে, তা অনুযায়ী, কংগ্রেসের অন্যতম অংশের মনে হচ্ছে- সিজেপির পেছনে আম আদমি পার্টির (এএপি) সমর্থন রয়েছে। ফলে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজটি করছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির উপস্থিতি ব্যাপক। তাদেরকে টেলিভিশন বিতর্কে বেশি সময় দেয়া হচ্ছে এবং রাজধানীতে বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলটির মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তবে কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস বিভাগের প্রধান সুপ্রিয়া শ্রীনাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে উল্লেখ না করে বলেছেন, তারা দৃঢ়ভাবে জেন-জি বা জেনারেশন জেডের পাশে রয়েছেন।
গত এক মাসে এনএসইউআই এবং ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং সিবিএসই মূল্যায়নসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করেছে বলেও জানায় তিনি। যদিও সিজেপির চলমান বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেস চুপ জন্য রয়েছে, তাদের মিত্র সমাজবাদী পার্টি (এসপি), তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি), শিবসেনা (ইউবিটি), আরজেডি, সিপিআই (এমএল) এবং সিপিআইয়ের (এম) মত দলগুলো এই বিক্ষোভকে স্বাগত জানিয়েছে।
রাজ্যসভার তৃণমূলের উপনেতা সাগরিকা ঘোষ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ক্ষুব্ধ তরুণদের নেতৃত্বে তৈরি এই আন্দোলন তার দল সমর্থন করে এবং এটি সরকারের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সতর্কবার্তা দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করছে, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো জবাবদিহি হচ্ছে না।
আরজেডি মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারি বলেন, আরজেডি ও তাদের নেতা তেজস্বী যাদব প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। লোকসভা সদস্য রাজীব রাই বলেন, এটি সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তরুণেরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে, যা সরকারের আত্মসমালোচনার কারণ হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
এছাড়া, শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, তেলাপোকাদের কখনোই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, যাদেরকে আমরা দেশের ভবিষ্যৎ এবং ভাগ্যনির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করি, তারা নিজেদের যন্ত্রণা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র গরমের মধ্যে রাস্তায় নেমেছেন।
দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এই বিক্ষোভ তরুণদের ক্ষোভ এবং হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, তাদের দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে মোদি সরকারকে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত। আপ তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে হবে।
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বিক্ষোভে সশরীরে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংকটের জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
সুত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন