ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়ে প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা


দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়ে প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসেসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার মূল্য ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তটি বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় গৃহীত হয়। বাজুস জানায়, আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বসম্মতভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের ভ্যাটসহ নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি শুরু

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনার মূল্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বাজুস সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বৃদ্ধি করা হলো।

সোনার পাশাপাশি বাজুস রুপার দামও নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, সোনা ও রুপার অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

আরও পড়ুন: পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় অর্থায়নের অভিযোগ, ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকবে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাজুস দেশের বাজারে ১৩১ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে ৬৩ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৬৭ বার দাম কমানো হয়েছে। একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের ঋণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে শর্ত শিথিল করেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ পরিবারকে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ পরিবারকে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

ফেনী, ৪ নভেম্বর ২০২৬: সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬টি পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়েছে। এই চেকের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে আজ সকালে চেক হস্তান্তর করা হয়।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব চেক তুলে দেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি মন্তব্য করেন, "জনগণের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী সড়ক সম্প্রসারণ, পথচারী ও চালকদের সচেতনতার সমন্বয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হবে।"

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, "টাকা দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের ক্ষতির মূল্যায়ন হবে না। অপূরণীয় ক্ষতি টাকা দিয়ে পূরণ হয় না। সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।"

চেক পেয়ে বাবা হারানো রায়হানুল ইসলাম ভূঞা, তন্দ্রা মনি দেবীসহ অন্যান্য উপকারভোগীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

রায়হানুল ইসলাম ভূঞা বলেন, "বাবার সাথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি গাড়ি চাপা দিলে আমার বাবা মারা যান। পরবর্তীতে আবেদনের প্রেক্ষিতে সহায়তার চেক পেয়ে অনেক উপকৃত হয়েছি।"

বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আল ফয়সাল জানান, জেলায় ৩১ জন নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে ১ কোটি ৫৫ লাখ এবং গুরুতর আহত ৫ জনকে ১১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট ফাতেমা সুলতানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর আলী আশরাফ মোল্লা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে এসআরবির অভিযানে ১১ লাখ ইয়াবা ও ৫ অস্ত্র উদ্ধার, ২ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


টেকনাফে এসআরবির অভিযানে ১১ লাখ ইয়াবা ও ৫ অস্ত্র উদ্ধার, ২ গ্রেফতার

টেকনাফে অভিযান পরিচালনা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ১১ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার গ্রামের আশারঘরপাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুল রহমান এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।

ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ নভেম্বর টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল টেকনাফ থানার সাবরাং বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করার সময় মাদক পাচার সংক্রান্ত তথ্য পায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে হ্নীলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার গ্রামের আশারঘরপাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয় এবং মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন আব্দুর রহিম এবং মোহাম্মদ আদিম, যারা উভয়েই হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা।

এসআরবি প্রধান জানান, গত ৬ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে স্পেশাল রেসপন্স টিম মোট ৫৫টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা, ৪৮ কেজি গাঁজা, একটি একনলা বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটার গান, ১০০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং শটগানের সাতটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া, এসব অভিযানে সাতজন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে এসআরবি প্রধান বলেন, মাদক এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এসআরবি বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাউশি কর্মকর্তা ও ইন-সিটু হিসেবে কর্মরতদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


মাউশি কর্মকর্তা ও ইন-সিটু হিসেবে কর্মরতদের জন্য নতুন নির্দেশনা

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এর পে-ফিক্সেশন অনুমোদনের পর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বিল জমা দেওয়ার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। আগামী ৮ নভেম্বর তারিখ থেকে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বিলের হার্ডকপি জমা দিতে হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মাউশিতে কর্মরত কর্মকর্তা, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইন-সিটু) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জন্য, যারা জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিক্সেশনের অনুমোদন লাভ করেছেন, তাদের বকেয়া বিলের হার্ডকপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

নির্দেশনার ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ২০২৬ সালের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বিলের হার্ডকপি আগামী ৮ নভেম্বর থেকে অধিদপ্তরের ক্যাশ শাখায় জমা দিতে হবে। নির্ধারিত স্থান হিসেবে প্রথম ব্লকের ৩০৬ নম্বর কক্ষ উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুরের মহারাজার রাজ সিংহাসন এখন জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


দিনাজপুরের মহারাজার রাজ সিংহাসন এখন জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত

দিনাজপুর, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : দিনাজপুর মহারাজার ঐতিহাসিক রাজ সিংহাসন বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। পর্যটকরা ঢাকা জাদুঘরে মহারাজার সিংহাসন সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারছেন।

দিনাজপুর রাজ দেবত্বর স্টেটেট এজেন্ট মি. রনজিৎ সিংহ গতকাল মঙ্গলবার বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, এই জেলা শহরের নিকটবর্তী রাজবাড়ী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় ছিল, যেখানে ঝোপঝাড় ও ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমে গিয়েছিল। বর্তমান জেলা প্রশাসক ও রাজ দেবত্বর স্টেটের ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলাম এর প্রচেষ্টায় রাজবাড়ীর সেই অবস্থা পরিবর্তন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। যা বাইরের পর্যটকদের রাজবাড়ী পরিদর্শনে আকৃষ্ট করছে।

জেলা প্রশাসক জানান, বর্তমানে দিনাজপুর রাজবাড়ী পরিদর্শনে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটছে এবং তারা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।

এই সুন্দর পরিবেশে সম্প্রতি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অতীতে জেলার লোকজন ও নতুন প্রজন্ম আগ্রহ নিয়ে এই শহরের দিনাজপুর রাজবাড়ী দেখতে যেতো, কিন্তু সেখানে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরত। রাজবাড়ীতে একমাত্র একটি মন্দির ছাড়া কিছুই গোছালো ছিল না। দরবার হল, আয়না ঘর এবং অন্যান্য কক্ষগুলো ভেঙে পড়েছিল। পুকুর পাড়ে একটি ছোট বাসা অক্ষত থাকলেও তা ধংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল। রাজবাড়ীর ভিতরে মাদকের আখড়া ও মাদকাসক্ত ছেলেদের আড্ডা বসতো।

তিনি বলেন, বর্তমানে এসব অনৈতিক কার্যক্রম জেলা প্রশাসক তথা রাজ দেবত্বর স্টেটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দূর করা হয়েছে। রাজবাড়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। ঐতিহাসিক অবকাঠামোগুলোর মূল বিষয়বস্তু ঠিক রেখে সংস্কার করে একটি অবস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা রাজবাড়ী পরিদর্শন করে নিজেদের আত্মতৃপ্তি অনুভব করছেন।

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বাসস’কে জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা জীবনে তার জন্মভূমি দিনাজপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন, যা দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি দেশের বাইরে বা দেশের ভিতরে সেমিনারে অংশগ্রহণ করলে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর ইতিহাস তুলে ধরেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, রাজবাড়ীর ঐতিহাসিক স্থানগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষণ করে পর্যটকদের নজরে আনা। বর্তমান জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে রাজবাড়ী তার বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, যদি রাজবাড়ীটি সংরক্ষণে পূর্ণাঙ্গ পর্যটনের আওতায় আনা যায়, তবে প্রতিদিন পর্যটকরা এখানে ভিড় করবে। এই খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে।

তবে এসব বিষয়ে সরকারের দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এবং জেলা প্রশাসনের আগ্রহ প্রয়োজন এবং বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

রাজবাড়ী নিয়ে কোনো সংরক্ষণ বা পর্যটন নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত করা হয়নি। ফলে রাজবাড়ীর সম্পদ বেদখল হয়ে যাচ্ছে এবং রাজবাড়ীর অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ীর জমিতে অবৈধ দখলদাররা পাকা ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছে। এ ধরনের অভিযোগ শহরের অসংখ্য মানুষের মধ্যে রয়েছে।

দিনাজপুর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রতন সিংয়ের অভিযোগ, রাজবাড়ীর রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের উদাসীনতার কারণে সম্পদ একের পর এক দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাজবাড়ীর অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সহযোগিতায় রাজবাড়ীর জবর দখলকারীদের বিতাড়িত করতে হবে। নইলে ঐতিহাসিক নিদর্শন বিলীন হয়ে গেলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দেখার কিছুই থাকবে না। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারেক রহমান দেশের ইতিহাস সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা হলে এক রাজবাড়ী দিয়েই দিনাজপুরের ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব হবে। তুলে ধরা যাবে যে, দিনাজপুর দুই দিন আগের কোনো শহর নয়। হাজার বছর ধরে দিনাজপুর নামেই এই শহর পরিচিতি লাভ করে আসছে। আজ আমাদের দিনাজপুরের পরিচিত ধান-লিচু, কয়লা কিংবা পাথরের একটি জেলা হিসেবে। কিন্তু তুলে ধরা যেত এই জেলার আভিজাত্যের কথা।

কিন্তু তা না হয়ে কী হয়েছে? দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে, এখনও ঠিকমতো সংস্কার হয়নি রাজবাড়ীটি। রাজবাড়ীটি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হতে পারতো। সেখানে একটি কক্ষে সংরক্ষণে থাকতো এই জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং আভিজাত্যের কথা।

নতুন প্রজন্মকে পাঠ্য বইয়ের কোনো এক লাইনে বলা হলে যে, দিনাজপুর এক সময় প্রাচীন রাজ্য পুন্ড্রবর্ধনের একটি অংশ ছিল, তা বোঝানো যেত। কিন্তু রাজবাড়ীতে জাদুঘর স্থাপন কিংবা সেখানে এর ইতিহাস তুলে ধরলে অনেক বেশি বোঝানো যেত।

গুপ্ত ও পাল যুগের বিভিন্ন নিদর্শন দিনাজপুরের ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়। লক্ষৌতির রাজধানী দেবকোটের অবস্থান ছিল দিনাজপুরে। রাজবাড়ি মহারাজার গড়া দিনাজপুরে ঐতিহাসিক ৫টি দিঘির নামকরণ সাগর হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে, রামসাগর, মাতা সাগর, আনন্দ সাগর, সুখ সাগর ও জুলুম সাগর। রাম সাগর সারাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক জলভাগ ও নান্দনিক জলাশয় হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

এই মহারাজার গড়া উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন দিনাজপুর কাহারোল উপজেলায় অবস্থিত কান্তনগর কান্তজি মন্দির এবং একই সাথে নয়াবাদ মসজিদ। এই কান্দজি মন্দিরের শতাধিক একর জমি এখন ভূমি দস্যুদের দখলে চলে গেছে।

দিনাজপুর মহারাজার ঐতিহাসিক সিংহাসনটি বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সিংহাসনটি হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি। দিনাজপুর থেকে সাড়ে ৪শ’ কিলোমিটার দূরে রাজধানীতে এসে জানা যাচ্ছে যে, দিনাজপুর রাজবাড়ীর সিংহাসন এখনো অক্ষত রয়েছে। এর সাথে আরো কিছু নিদর্শন বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. লোকমান হাকিম বাসস’কে জানান, তিনি সম্প্রতি ঢাকা জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে দিনাজপুর মহারাজার রাজ সিংহাসন দেখে কিছুটা খারাপ লেগেছে। তিনি বলেন, "আমি না হয় রাজধানীতে এসে এসব কিছু দেখতে পাচ্ছি। হাজারো নতুন প্রজন্ম এসব দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে, নতুন প্রজন্ম এসব ইতিহাস সম্পর্কে জানতে। নিশ্চয়ই একদিন নিজ জেলায় এমন কিছু গড়ে উঠবে, যেখানে এই জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য আভিজাত্য তুলে ধরা হবে। নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে তার জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য কি ছিল।"

দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বাসস’কে বলেন, বিগত সময় যে সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, তারা দেশের ইতিহাস সংরক্ষণ তো করেইনি বরং এসব ধংস করে গেছে। বর্তমান বিএনপি সরকার এসব ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%