ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন


চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে মোহাম্মদ সফিউল আলম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব দ্বারা।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি রবিবার সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কার্যকরীভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।

ঐ অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সহযোগিতায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ন সচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ১৯ মামলার আসামি বদিউজ্জামান গ্রেপ্তার

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাসিবুস সাত্তার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সেলিম বালি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম ও জাফর আহমেদ, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. আবু জাকের খান, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মাহবুব হাসান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিম এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন যে, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য।

জেলায় এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৭ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ হাজার ৭০৮ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে জেলার পাঁচটি উপজেলা ও পৌরসভাসহ ৬১টি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ২০৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯১টি আউটরিচ কেন্দ্র, ৭টি মোবাইল ও অতিরিক্ত কেন্দ্র এবং ৬টি স্থায়ী কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন ১৮৮ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ১৭৯ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং ২ হাজার ৪১২ জন স্বেচ্ছাসেবক।

আরও পড়ুন: নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসবিদ আব্দুল জলীলকে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ

এছাড়া উল্লেখ্য যে, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, গ্রেইন এবং নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। এর ফলে দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার খুলনা খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ক্ষেত্রে উল্লেখ করেন, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার সারাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও পরিচালনা করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. আকিব উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস, খুলনা খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এবারের ক্যাম্পেইনে খুলনা মহানগরে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১২ হাজার ৩৩৭ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৬১৫ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক ৫৮০টি কেন্দ্র, মোট ৭১০টি কেন্দ্র, ৮০টি মোবাইল কেন্দ্র ও ৫০টি এনজিও পরিচালিত কেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুরো কর্মসূচি তদারকিতে রয়েছেন ৬২ জন সুপারভাইজার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় তিন মাস পর উদ্ধার অপহৃত স্কুলছাত্রী, গ্রেফতার যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


গাইবান্ধায় তিন মাস পর উদ্ধার অপহৃত স্কুলছাত্রী, গ্রেফতার যুবক

গাইবান্ধায় অপহরণের প্রায় তিন মাস পর দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। সংস্থাটি এই ঘটনায় জড়িত সম্পর্কিত অপহরণ মামলার প্রধান আসামী আহসান হাবিব (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতারও করেছে।

আহসান হাবিব সদর উপজেলার রামনাথের ভিটা (বালুচর) এলাকার বকুল মিয়ার ছেলে। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার মধ্যরাতে সাঘাটা উপজেলার সাতটেকোর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুক্তভোগী সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় আহসান হাবিব তাকে প্রেম নিবেদনসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ভুক্তভোগী বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার আহসান হাবিবের মাতা-পিতাকে জানালে তারা বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এতে আহসান হাবিব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী রামনাথের ভিটা মন্ডলপাড়া এলাকায় তার চাচার বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তাকে একটি অটোবাইক যোগে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর গত ১১ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাঘাটার সাতটেকোর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আহসান হাবিবকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য স্কুলছাত্রী ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে র‌্যাব-১৩-এর পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না : সড়কমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না : সড়কমন্ত্রী

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব বেশি আমলে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়া, ঘাটতি বাজেট নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্যও তিনি তুলে ধরেন।

রবিবার তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। এছাড়া, ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের ওপরে বরাদ্দ রেখেছেন এবং সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থাৎ অর্থের বরাদ্দের অনুপাতটি তিনি চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন। সামাজিক অবকাঠামো দ্বারা আমাদের ১৮ কোটি যে মানুষ, তাদের আমরা সক্ষম করতে সক্ষম হবো। তাদের মানবসম্পদ উন্নয়নের অর্থাৎ সেই জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ, যোগ্য হিসেবে তৈরি করতে হলে, সেক্ষেত্রে তিনি যে বরাদ্দ রেখেছেন, তা যথেষ্ট এবং সময়োপযোগী। ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ। যখন এই দক্ষ মানবসম্পদ রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবে, অনগ্রসর জাতিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এবং সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। তাই ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয় এবং রাজস্ব ঠিকমতো যদি আহরিত হয়, ব্যাংক থেকে যদি নির্ধারিত লোনটা পাওয়া যায়, তাহলে ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বাজেটে ৫.৫ জিডিপির ঘাটতি বাজেট রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ এটি। আবার চীনে ৪ শতাংশ জিডিপির ঘাটতি বাজেট রয়েছে। সুতরাং, এই ঘাটতি বাজেট আমরা আমাদের দুরবস্থার মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হবো এবং অ্যাচিভ করতে পারবো। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৬.৫ শতাংশ।

বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের প্রতি বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েও কিছু জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনো হননি। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল হলে তারা ধীরে ধীরে সমালোচনা বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব বেশি আমলে নিচ্ছি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মারা গেলেন মহাকাশে কোরআন তিলাওয়াতকারী প্রথম আফগান নভোচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


মারা গেলেন মহাকাশে কোরআন তিলাওয়াতকারী প্রথম আফগান নভোচারী

জার্মানির স্টুটগার্ট শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল আহাদ মোমান্ড শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি ছিলেন মহাকাশে প্রথম কোরআন তিলাওয়াতকারী আফগান নভোচারী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসার রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ৬৭ বছর ছিল। তাঁর এই প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমী এবং আফগান সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আবদুল আহাদ মোমান্ডের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশে হয়েছিল। তরুণ বয়সে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে সামরিক বিমান চালনার ওপর উচ্চতর শিক্ষা ও নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দেশে ফিরে তিনি আফগান বিমানবাহিনীতে যুদ্ধবিমানচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং দ্রুতই পাইলট হিসেবে মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সুনাম অর্জন করেন।

১৯৮৮ সালটি তাঁর জীবনের এবং সমগ্র আফগানিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে পরিচিত। ওই বছরের ২৯ আগস্ট, সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘সয়ুজ টিএম-৬’ মহাকাশযানে চড়ে তিনি পৃথিবীর কক্ষপথে রওনা দেন। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের দরবারে প্রথম আফগান মহাকাশচারী হিসেবে একটি স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লিখে রাখেন। মহাকাশে অবস্থানকালে, তিনি ‘মীর স্পেস স্টেশনে’ কাটান। সেখানে নয় দিন পরে, ৭ সেপ্টেম্বর, সফলভাবে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রা কেবল আফগানিস্তানের জন্যই নয়, বরং তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের জন্যও ছিল বিশাল গৌরবের বিষয়।

মহাকাশ অভিযানের সময়, আবদুল আহাদ মোমান্ড অনেক অনন্য কর্মকাণ্ড ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে মহাকাশে নিজের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের একটি কপি নিয়ে গিয়েছিলেন। মহাকাশ স্টেশন থেকে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কোরআন তিলাওয়াত করার গৌরব অর্জন করেন। একই সঙ্গে, মহাকাশ থেকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নিজের মাতৃভাষা পশতুতে কথা বলে অনন্য একটি রেকর্ড তৈরি করেন, যা আফগান সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী বার্তা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেয়। মহাকাশে অবস্থানকালে তিনি আফগানিস্তানের ভূপ্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ছবি তোলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেন।

তৎকালীন ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে, তাঁর এই অভিযানের গুরুত্ব ছিল অপারিসীম। ১৯৮৮ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে, মোমান্ডের এই মহাকাশযাত্রাকে দুই দেশের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।

তবে সময়ের পরিক্রমায়, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং গৃহযুদ্ধের কারণে এই মহানায়কের অবদান অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। নব্বইয়ের দশকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিনি সপরিবারে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং জীবনের বাকি সময় প্রবাসেই কাটান। বর্তমানে তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের প্রথম এই মহাকাশচারীর ঐতিহাসিক অর্জন রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ স্মরণ বা আলোচনা করা হচ্ছে না।

রাজনৈতিক পটভূমি যাই হোক না কেন, আবদুল আহাদ মোমান্ডের নাম আফগান জাতির ইতিহাসে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মহাকাশ অভিযানের অমূল্য একটি নক্ষত্র হয়ে থাকবে। প্রতিকূলতার মাঝে আকাশ ছোঁয়ার যেটুকু স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, তা আগামী প্রজন্মের আফগান তরুণদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%