ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের পাহাড়ে প্রমোদভ্রমণের অভিযোগ, ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল


শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের পাহাড়ে প্রমোদভ্রমণের অভিযোগ, ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ একদল শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি খরচে পাহাড় ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লায় গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী কর্মকর্তাদের নিয়ে দুটি মাইক্রোবাসে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন।

সফরসঙ্গী এক কর্মকর্তা ফেসবুকে পাহাড় ভ্রমণের ভিডিও পোস্ট করার পর পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে এবং এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সরকারি অর্থের অপব্যবহার করে এ ধরনের প্রমোদভ্রমণ নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অতিরিক্ত অভিযোগ এসেছে যে, চেয়ারম্যান বোর্ডে অনুপস্থিত থাকাকালে সচিব প্রফেসর ড. আব্দুর রউফকে শীর্ষ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বভার দিয়ে যান। শীর্ষ কর্মকর্তাদের একযোগে অনুপস্থিতির ফলে বোর্ডে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

আরও পড়ুন: কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগে বাউফলে মানববন্ধন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের যৌথ ব্যবস্থাপনায় গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ৬ অক্টোবর ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ১০ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠান।

এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে বিশাল বহর গঠন করেন। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরীন, কলেজ পরিদর্শক মাহবুব হাসান, বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান, উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) মো. ইব্রাহিম, প্রোগ্রামার মাইনুল অর রশিদ, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ ও রেকর্ডস) মঞ্জুর রহমান খান, উপ-সচিব (ভাণ্ডার) দুরুল হোদা, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জাহিদুর রহিম, সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল করিম, সহকারী সচিব আওলাদ হোসেন, সহকারী কলেজ পরিদর্শক গোলাম নবী, একান্ত সচিব হাসান আলী এবং মোটরযান ক্লিনার রবিউল ইসলাম।

অফিস আদেশের সফরসূচিতে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন—৫ অক্টোবর রাজশাহী থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়ে ৬ অক্টোবর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। ৭, ৮ ও ৯ অক্টোবর কুমিল্লা বোর্ডেই অবস্থান করবেন এবং ১০ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহীতে ফিরবেন। তবে বাস্তবে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মকর্তারা দুটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে কুমিল্লা যান। ৬ অক্টোবর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান যোগ দেন। কিন্তু পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে পুরো বহর রওনা দেয় রাঙ্গামাটির সাজেকের উদ্দেশে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামের উলিপুরে দাদাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, নাতির বিরুদ্ধে

একটি মাইক্রোবাসে ছিলেন বোর্ড চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরীন, কলেজ পরিদর্শক মাহবুব হাসান, বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জাহিদুর রহিম এবং তার ভাই সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল করিম। অন্য গাড়িতে ছিলেন বাকি কর্মকর্তারা। দুপুরে তারা সাজেকে পৌঁছান। সেখানে ঘোরাঘুরি শেষে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করে রাতে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন।

জাহিদুর রহিম তার ফেসবুক আইডিতে সাজেক ভ্রমণের ভিডিও পোস্ট করার পর রাজশাহীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান সতর্ক হন। সূচি অনুযায়ী ১০ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকার কথা থাকলেও তারা ৮ অক্টোবর সকালে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ওই রাতে ঢাকার বোর্ড গেস্ট হাউসে অবস্থানের পর ৯ অক্টোবর সকালে একটি দল এবং সাড়ে ১০টায় অপর দল রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়।

বোর্ড সূত্র জানায়, এ সফরকে সরকারি ভ্রমণ হিসেবে দেখিয়ে বোর্ডের ক্রীড়া তহবিল থেকে অগ্রিম দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন চেয়ারম্যান। এরপর অনুসারী কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি পাহাড়ে যান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত এ ধরনের প্রতিযোগিতায় চেয়ারম্যান, সচিব, বিদ্যালয় পরিদর্শক ও ক্রীড়া কর্মকর্তা অংশ নেন; কিন্তু এবার ক্রীড়া কর্মকর্তাকে বহরে রাখা হয়নি। উল্টো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা, প্রোগ্রামার কিংবা ভাণ্ডার শাখার কর্মকর্তাদের সেখানে কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: বাগেরহাট হাসপাতালে নিয়োগ বঞ্চিতদের অবস্থান, ওয়ার্ড মাস্টারের কক্ষে তালা

আরও জানা যায়, চেয়ারম্যান ও শীর্ষ কর্মকর্তারা সফরে থাকায় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফকে একাই চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্ব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগ, বিদ্যালয় এবং কলেজ পরিদর্শকের বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে। একসঙ্গে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খান এবং দাপ্তরিক কাজে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সেবাগ্রহীতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, কুমিল্লায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নাম ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সরকারি খরচে এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছিল; কিন্তু ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করার পর তা জানাজানি হওয়ায় তারা তড়িঘড়ি করে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে ফিরতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী দাবি করেন, "আমি পাহাড় ভ্রমণে যাইনি। কুমিল্লা শহরের আশপাশে থাকা বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছি। সরকারি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন। জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সব বোর্ডের কর্মকর্তারাই অংশ নেন। আমাদের অনুপস্থিতির কারণে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়েননি, কারণ সংশ্লিষ্ট পদের অধস্তন কর্মকর্তারা কাজ করেছেন।"

তবে ওই বহরে থাকা এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে চেয়ারম্যানসহ সবাই পাহাড়ে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: মোবাইলের পর্দায় পশ্চিমা সংস্কৃতির দাপট, হারিয়ে যাচ্ছে বরগুনার লোকজ ঐতিহ্য

সাজেকের ভিডিও পোস্ট করা উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহিম বলেন, "মানুষের কি ব্যক্তিগত জীবন থাকতে পারে না? কেউ কি ঘুরতে যেতে পারবে না?"

কলেজ পরিদর্শক মাহবুব হাসান বলেন, "পাহাড় ভ্রমণে গিয়েছিলাম কিনা তা বলব না। অফিসে আসেন, কথা বলব।" তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ১০ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠান থাকলেও তারা ৯ অক্টোবরই রাজশাহী ফিরে এসেছেন।

সরকারি খরচে কর্মকর্তাদের এই ভ্রমণের বিষয়ে রাজশাহী বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, "কুমিল্লা বোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী অংশ নেন। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন বলে আমি জানি। তারা কুমিল্লাতেই থাকবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছিল; কিন্তু কেউ যদি পাহাড় ভ্রমণে গিয়ে থাকেন, তা আমার অজান্তেই হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে; সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: দেশে ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু, দাম ও গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবুধাবিতে ম্যানচেস্টার সিটির ব্র্যান্ডযুক্ত বিলাসবহুল ভিলা কিনলেন হালান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


আবুধাবিতে ম্যানচেস্টার সিটির ব্র্যান্ডযুক্ত বিলাসবহুল ভিলা কিনলেন হালান্ড

ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬ : আর্লিং হালান্ড, যিনি ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিত, আবুধাবিতে একটি নতুন আবাসন প্রকল্পের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির ব্র্যান্ডযুক্ত একটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক হয়েছেন। এই তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন হালান্ড। নরওয়ের এই ফুটবলার তাঁর পরিবারের জন্য পাঁচ শয়নকক্ষের একটি ভিলা কিনেছেন।

ম্যানচেস্টার সিটি ইয়াস রেসিডেন্সেস বাই ওহানা আবাসন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে হালান্ড এই ঘোষণা দেন। ইয়াস আইল্যান্ডের পাশে ইয়াস খালের তীরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি ১ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন বর্গমিটার জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে, যেখানে ২ হাজারের বেশি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে টাউনহাউস, ডুপ্লেক্স ভিলা এবং বড় আকারের পারিবারিক বাড়িও থাকবে। বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে এবং ধাপে ধাপে বাড়িগুলো ২০২৯ সালের মধ্যে হস্তান্তর শুরু হবে।

প্রকল্পের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইতিহাদ অ্যারেনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হালান্ডের এই ঘোষণা আসে। অনুষ্ঠানে ৪ হাজারের বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলাকে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত গার্দিওলা পেশাদার ফুটবলের বাইরেও দলগত কাজ, শৃঙ্খলা ও সুস্থতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক খেলোয়াড় এবং হালান্ডের বাবা আলফি হালান্ডও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ওই আবাসন এলাকায় নিজের কেনা বাড়ির চাবি গ্রহণ করেন।

ম্যানচেস্টার সিটির ব্র্যান্ডিংকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটি সাজানো হচ্ছে। পরিকল্পনায় রয়েছে একটি বিশেষ পার্ক, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ একাডেমি। পাশাপাশি ফুটবল মাঠ, টেনিস ও বাস্কেটবল কোর্ট, শরীরচর্চার সুবিধা এবং বিনোদনের বিভিন্ন জায়গা থাকবে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দুই ও তিন শয়নকক্ষের টাউনহাউস, ডুপ্লেক্স ভিলা এবং চার ও পাঁচ শয়নকক্ষের ভিলা নির্মাণ করা হবে। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে আবাসন প্রকল্পে প্লট ও বাড়ি বিক্রি শুরু হবে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুযায়ী, দুই শয়নকক্ষের টাউনহাউসের গড় দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার আমিরাতি দিরহাম।

এই ঘোষণার মাধ্যমে আবুধাবি ও ম্যানচেস্টার সিটির সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলো। ক্লাবটির মালিকানার সঙ্গে আবুধাবির যোগসূত্র রয়েছে সিটি ফুটবল গ্রুপের মাধ্যমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেন্ডুলকার পরিবারে স্মৃতি মান্ধানাকে ইউনিসেফে স্বাগত জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


টেন্ডুলকার পরিবারে স্মৃতি মান্ধানাকে ইউনিসেফে স্বাগত জানালেন

ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬ : ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানাকে ইউনিসেফ ইন্ডিয়া পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাটির নতুন সেলিব্রিটি অ্যাডভোকেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মান্ধানা। ভারতীয় ব্যাটারের জীবনে এই দায়িত্ব যুক্ত হলো একটি ব্যস্ত সপ্তাহের মধ্যে।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে গত রোববার ইউনিসেফ ইন্ডিয়া মান্ধানার নিয়োগের ঘোষণা দেয়। নতুন দায়িত্বে তিনি শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগকে সমর্থন করবেন। বিশেষভাবে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

টেন্ডুলকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “ইউনিসেফ ইন্ডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাগত! মাঠে তুমি লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করো। আমার বিশ্বাস, মাঠের বাইরেও তুমি শিশুদের অধিকারের পক্ষে অসাধারণ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।”

ভারতের সাবেক অধিনায়ক টেন্ডুলকার এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউনিসেফের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি সংস্থাটির বিভিন্ন উদ্যোগকে সমর্থন করে আসছেন। ২০১৩ সালে তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ায় ইউনিসেফের আঞ্চলিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পোলিও প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যবিধি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের মতো বিষয়েও তিনি প্রচারাভিযানে অংশ নিয়েছেন।

ভারতের নারী ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে মান্ধানার নাম ঘোষণার কয়েক দিন পরেই ইউনিসেফে তাঁর এই নিয়োগ এলো। তিনি হারমানপ্রিত কৌরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

২০১৩ সাল থেকে ভারতের হয়ে খেলা বাঁহাতি ব্যাটার মান্ধানার রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা। তাঁর নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু নারী প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) দুটি শিরোপা জিতেছে।

ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন মান্ধানা। ক্রিকেটে তাঁর পথচলা তাঁকে সুযোগ ও উৎসাহের গুরুত্ব বুঝতে শিখিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মান্ধানা বলেন, “প্রতিটি শিশু ও তরুণেরই বড় স্বপ্ন দেখার এবং নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ পাওয়া উচিত।”

নতুন দায়িত্বে মান্ধানা নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশ নিতে, নিজেদের লক্ষ্য অনুসরণ করতে এবং খেলাধুলা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেতে উৎসাহিত করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৮ পি.এম


কালিয়াকৈরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সদস্যরা শাড়ি ও লুঙ্গি পেয়ে আনন্দিত।

এ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপড়া মসজিদ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

দুই শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। এবারের দুর্গাপূজা কালিয়াকৈর উপজেলায় ১৪৭টি পূজামণ্ডপে উদ্‌যাপিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপড়া মসজিদ এলাকায় বস্ত্র বিতরণ করা হয়। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৮নং শ্রমিক দলের সভাপতি ওসমান আলিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের বিনোদন ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি উল্লেখ করেন, গরীব দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য তিনি সবসময় কাজ করে যাবেন। "আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন দানশীল ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে আমরা গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে আছি।"

এ সময় বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য ফেরাতে নওগাঁয় দিনব্যাপী চিঠি উৎসবের আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৮ পি.এম


নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য ফেরাতে নওগাঁয় দিনব্যাপী চিঠি উৎসবের আয়োজন

নওগাঁ, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : ‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা করে রেখে যায়’ এই আবেগঘন প্রতিপাদ্য নিয়ে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’।

নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে আজ সোমবার বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে অংশগ্রহণ করেন কয়েক’শ শিক্ষার্থী।

আজ সকালে ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস উৎসবের উদ্বোধন করেন।

উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ উপ ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারি সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো: ইদ্রিস আলী শেখ, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

আজ সোমবার সকাল থেকেই নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে উৎসবের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বর্তমান যুগের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা খুদে বার্তার যুগে কাগজের পাতায় কলম ছুঁইয়ে মনের কথা প্রকাশের সুযোগটি তরুণ-তরুণীরা লুফে নেয়। ডিজিটাল যুগে চিঠির খাম ও ডাকটিকিটের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে ছিল একেবারে নতুন ও রোমাঞ্চকর।

দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়। উৎসবস্থলে বসেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন ও ফেলে আসা শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন চিঠি লেখেন। লেখার পর সেগুলো কলেজ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেন।

উৎসবে অংশ নেওয়া নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কোনদিন কাগজে কলমে চিঠি লিখে কোথাও পাঠাইনি। এটিই প্রথম। আমরা তো সবসময় মেসেঞ্জারে বা ফোনে কথা বলি। কিন্তু আজ প্রথম নিজ হাতে একটা চিঠি লিখলাম। কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর আনন্দটা যে এত বেশি হতে পারে, তা আজ চিঠি না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।’

গণিত অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বাসসকে বলেন, ‘আমি সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেটি ছিলো প্রথম। আর আজ জীবনে দ্বিতীয়বার কাগজে চিঠি লিখলাম। চিঠি লেখার সুযোগ পেয়ে এবং বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে খুব ভাল লেগেছে। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে আমরা খুশি।’

এ সময় ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস বাসসকে জানান, শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া চিঠিগুলো উৎসব শেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগে দ্রুত যোগাযোগের অনেক মাধ্যম থাকলেও চিঠির গভীরতা ও চিরন্তন আবেদন অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে চিঠি লেখার এই সুপ্ত অভ্যাসকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে এবং ডাক বিভাগের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবা সমূহ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্পীড পোস্ট সার্ভিসের মাধ্যমে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং এ সেবা গ্রহণ করে মানুষ ডাক সেবা গ্রহণে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%