ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য ফেরাতে নওগাঁয় দিনব্যাপী চিঠি উৎসবের আয়োজন


নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য ফেরাতে নওগাঁয় দিনব্যাপী চিঠি উৎসবের আয়োজন

নওগাঁ, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : ‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা করে রেখে যায়’ এই আবেগঘন প্রতিপাদ্য নিয়ে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’।

নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে আজ সোমবার বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে অংশগ্রহণ করেন কয়েক’শ শিক্ষার্থী।

আজ সকালে ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস উৎসবের উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন: নেটফ্লিক্সে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের ‘মহানগর’ ও ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’

উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ উপ ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারি সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো: ইদ্রিস আলী শেখ, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

আজ সোমবার সকাল থেকেই নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে উৎসবের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বর্তমান যুগের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা খুদে বার্তার যুগে কাগজের পাতায় কলম ছুঁইয়ে মনের কথা প্রকাশের সুযোগটি তরুণ-তরুণীরা লুফে নেয়। ডিজিটাল যুগে চিঠির খাম ও ডাকটিকিটের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে ছিল একেবারে নতুন ও রোমাঞ্চকর।

দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়। উৎসবস্থলে বসেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন ও ফেলে আসা শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন চিঠি লেখেন। লেখার পর সেগুলো কলেজ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেন।

উৎসবে অংশ নেওয়া নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কোনদিন কাগজে কলমে চিঠি লিখে কোথাও পাঠাইনি। এটিই প্রথম। আমরা তো সবসময় মেসেঞ্জারে বা ফোনে কথা বলি। কিন্তু আজ প্রথম নিজ হাতে একটা চিঠি লিখলাম। কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর আনন্দটা যে এত বেশি হতে পারে, তা আজ চিঠি না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।’

আরও পড়ুন: ‘আমান’ চলচ্চিত্রটি ট্রান্সজেন্ডারদের বাস্তবতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে

গণিত অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বাসসকে বলেন, ‘আমি সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেটি ছিলো প্রথম। আর আজ জীবনে দ্বিতীয়বার কাগজে চিঠি লিখলাম। চিঠি লেখার সুযোগ পেয়ে এবং বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে খুব ভাল লেগেছে। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে আমরা খুশি।’

এ সময় ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস বাসসকে জানান, শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া চিঠিগুলো উৎসব শেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগে দ্রুত যোগাযোগের অনেক মাধ্যম থাকলেও চিঠির গভীরতা ও চিরন্তন আবেদন অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে চিঠি লেখার এই সুপ্ত অভ্যাসকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে এবং ডাক বিভাগের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবা সমূহ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্পীড পোস্ট সার্ভিসের মাধ্যমে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং এ সেবা গ্রহণ করে মানুষ ডাক সেবা গ্রহণে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

আরও পড়ুন: শিউলি ফুলের খোঁজে বের হলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ৩ থেকে ৪০০ লাশের মধ্যে ছেলেকে শনাক্ত করলেন তাসলিমা আক্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ পি.এম


ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ৩ থেকে ৪০০ লাশের মধ্যে ছেলেকে শনাক্ত করলেন তাসলিমা আক্তার

জুলাই বিপ্লবের উত্তাল সময়ের মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ ইসমাইল। এক পর্যায়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি। ঢাকা মেডিকেলে খোঁজ করতে গিয়ে মা জানতে পারেন, তার ছেলে বেঁচে নেই এবং তার লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। পরে মর্গে থাকা ৩ থেকে ৪০০ লাশের মধ্যে পোশাক দেখে তিনি ছেলেকে শনাক্ত করেন।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শহীদ ইসমাইলের মা তাসলিমা আক্তারের জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে আসে।

জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, "আমি শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইলের মা। আমার ছেলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে আনুমানিক ৩টার সময় বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেয়।" ছেলের বন্ধু মনির ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে জানান, ইসমাইলকে আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে দেখা গেছে এবং সে তাকে বাসায় ফিরে আসতে বলে। ছেলে বাসায় ফিরে না এসে আন্দোলনে থেকে যায়। তিনি জানান, "আমি আমার ছেলেকে ফোন করতে পারিনি, কারণ আমার ফোনে টাকা ছিল না।"

জবানবন্দিতে শহীদের মা বলেন, "পরে আমার বোন আকলিমা ছেলেকে ফোন দেয়, কিন্তু সে ফোন ধরে না।" কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর তার বন্ধু কালু ফোন ধরে জানান, "ইসমাইল আপনার কে হয়।" তার বোন বলেন, "আমি তার খালা।" তখন কালু জানান, "ইসমাইল গুলি খাইছে। তাকে আমরা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।"

তখন ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশা নিয়ে তিনি, তার মা এবং বোনসহ ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখে। তখন সেখানে কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপস ও বিপ্লব কুমার জোয়ার্দার অস্ত্রসহ উপস্থিত ছিলেন। তার সামনে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তাসলিমা আক্তার বলেন, "আমরা রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পৌঁছাই।" তারা প্রথমে জরুরি বিভাগে যান, সেখানে গুলিবিদ্ধ বহু লোককে জীবিত ও মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তারা তলায় তলায় তার ছেলেকে খুঁজতে থাকেন। পরে একজন ডাক্তারকে তার ছেলেকে খুঁজে দিতে বললে, তিনি তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার ছেলে নেই।

কিছুক্ষণ পর ডাক্তার মোবাইলে কিছু ছবি দেখান। ছবি দেখে তিনি ছেলেকে শনাক্ত করেন। ছেলে কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করলে ডাক্তার তাকে মর্গে নিয়ে যান। মর্গে গিয়ে তিনি দেখেন, ৩০০ থেকে ৪০০ লাশ একটার ওপর একটা পড়ে আছে। ছেলের পরনের পোশাক দেখে তিনি চিনতে পারেন। তিনি দেখেন, তার মাথায় গুলি লেগেছে।

জবানবন্দিতে শহীদের মা আরও বলেন, "আমি ছেলের লাশ চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, লাশ দেওয়া যাবে না। যার যার থানার ওসি এলে তারপর লাশ দেবে।" পরদিন সকাল ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা থেকে সাইফুল দারোগা হাসপাতালে আসেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশ পেয়ে বাসায় নিয়ে আসেন। হাসপাতাল থেকে মামলা করব না, এই শর্তে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, "আমার ছেলেকে হত্যার জন্য শেখ হাসিনা, তাপস, নানক, কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, রাসেল, মোল্লা রুবেল, বিপ্লব কুমারসহ অনেকে দায়ী। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।" এ সময় সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে জনবল সংকট, এমপি কালামের সমাধানের আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে জনবল সংকট, এমপি কালামের সমাধানের আশ্বাস

নারায়ণগঞ্জ, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম।

তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মী সংকটের পাশাপাশি ৩০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় রূপান্তরের কাজ চলমান থাকায় কিছু বিভাগের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে বন্ধ বিভাগগুলো আবারও চালু করা যাবে।

আজ সোমবার বিকালে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে হাসপাতালগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

সংসদ সদস্য আবুল কালাম আরও বলেন, হাসপাতালটিতে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা শনাক্ত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করার লক্ষ্যে সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ১৫ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ৭ তলার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা সম্ভব হবে। এতে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা আরও সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এর আগে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩ হাজার ৭শ’টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক শহিদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উদ্ভাবন, গবেষণা এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। এই এক্সপো আগামী ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার (১২ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পকে উদ্ভাবন, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, জ্বালানি ও পানির সাশ্রয় এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।

আইটিইটি বাংলাদেশের মহাসচিব ও টিআইই স্টিয়ারিং বোর্ডের সদস্য প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, "বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ‘ব্র্যান্ড ফ্রম বাংলাদেশ’ স্লোগানকে শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।" এক্সপোতে প্রায় ৫০টি কারখানা ও শতাধিক উদ্ভাবনী অংশীদার তাদের পণ্য, প্রযুক্তি ও গবেষণা তুলে ধরবেন।

আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, "দেশের টেক্সটাইলশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি এক্সপোতে শিল্পসংশ্লিষ্টদের ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

বিজিবিএর প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ বলেন, "বিশ্ববাজারে উচ্চমানের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের চাহিদা বাড়ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, আমদানিনির্ভর কাঁচামাল ও বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দেশের পোশাকশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাট ও তুলার মিশ্রণসহ নতুন উপকরণ নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো গেলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, এক্সপোতে ডাইং ও প্রিন্টিং, টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়াল, গার্মেন্ট অটোমেশন এবং গ্রিন ও সাসটেইনেবল প্রযুক্তি নিয়ে চারটি থিম জোন থাকবে। পাশাপাশি ছয়টি টেকনিক্যাল সেমিনার ও একটি প্লেনারি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকেরা আশা করছেন, এক্সপোতে প্রায় পাঁচ হাজার দর্শনার্থী, ১০০টি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা এবং ৩০টির বেশি দেশ থেকে ২০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

এক্সপোর অংশ হিসেবে আটটি বিভাগে ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হবে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, পণ্য উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর পরিচালক ইমরান কাদের তুর্জো, আইটিইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক এবং টিআইইর চেয়ারম্যান ও টিটিআইএইচের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইহসানুল করিম কায়সার।

এক্সপোর আয়োজক টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ (টিআইই)। সহ-আয়োজক টেক্সটাইল ইনোভেশন সেন্টার (টিআইসি), সহযোগী ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) এবং অংশীদার বিকেএমই ও বিজিবিএ। আয়োজনটি বাস্তবায়ন করছে টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব (টিটিআইএইচ)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৃহবন্দি ধ্রুব রাঠির বাড়ির বাইরে ৫০ পুলিশ মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


গৃহবন্দি ধ্রুব রাঠির বাড়ির বাইরে ৫০ পুলিশ মোতায়েন

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাকে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তাকে অনুসরণ করছে যখনই তিনি বাইরে বের হন।

ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেছেন যে, কোনো বিক্ষোভে যোগ দিতে গেলেই তাকে আটকের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখী পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবাদে যোগ দিতে চাই। কিন্তু আমার বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আমি যেখানেই যাই, তাঁরা আমাকে অনুসরণ করেন। কোনো বিক্ষোভের কাছে গেলেই আমাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

ধ্রুব রাঠি আরও দাবি করেছেন, তিন-চারটি গাড়িতে করেও পুলিশ তাকে অনুসরণ করছে। তবে তিনি সম্ভাব্য ভিসা তদন্তের বিষয়টি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভারতীয় নাগরিক। আমার ক্ষেত্রে ভিসার কোনো প্রশ্নই নেই।’

এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে পুলিশ ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছিল। রোববার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি ওই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভিডিওবার্তায় ধ্রুব রাঠি জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে তার বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক জড়ো হন। তার মা দরজা খুললে সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা সরাসরি তার শোবার ঘরে চলে যান।

তিনি বলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে কথা বলা বা কিছু করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তার মা চিৎকার করছিলেন।

ধ্রুব রাঠির অভিযোগ, তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নিজের ও তার বাবা-মায়ের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে এক থানা থেকে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ফোন ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, তাকে বারবার বলা হচ্ছিল, এটি গ্রেফতার বা আটক নয়; তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ঘটনাকে অপহরণ ছাড়া আর কী বলা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%