ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পাকিস্তানের


অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পাকিস্তানের

অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের বোঝা, মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি প্রতিনিধিদের নিবন্ধন-সংক্রান্ত সরকারি নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটি প্রতি মাসে প্রায় ৯ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করছে, যা বছরে এক কোটি থেকে এক কোটি বিশ লাখ ডলারের সমপরিমাণ।

প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একাধিক প্রভাব-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হলো- পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ব্যবস্থা করা।

আরও পড়ুন: রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশ্লেষক রবিন্দর সচদেব সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ওয়াশিংটনে বিদেশি সরকারগুলোর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ কোনো নতুন বিষয় নয়। বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরেই এমন পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। তবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ব্যয়ের পরিমাণ দেশটির বাড়তি কূটনৈতিক তৎপরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি জানান, সরকারি নথি অনুযায়ী পাকিস্তান প্রতি মাসে প্রায় ৯ লাখ ডলার ব্যয় করছে। এর মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে মাসিক ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। অন্য একটি চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে প্রতি মাসে আড়াই লাখ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।

সচদেব আরও বলেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে একটি প্রতিষ্ঠানকে মাসিক ২৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রতিষ্ঠানই প্রায় বারো লাখ ডলারের নতুন চুক্তি লাভ করেছে।

তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার ব্যাপক সম্প্রসারণের প্রমাণ।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সময় ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

এই তথ্যগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে ভিন্নধর্মী বক্তব্য দিচ্ছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, যিনি পরে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হন, সম্প্রতি দাবি করেন যে ভারত সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল এবং পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিল।

রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন। পাকিস্তানের দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসিম মুনিরের দাবি অনুযায়ী ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের মাধ্যমে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে প্রকাশিত তথ্য ভিন্ন এক বাস্তবতা তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: নেসেটের স্পিকারকে অপসারণের জন্য আলোচনা শুরু করেছে আরব দলগুলো

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৬০টি যোগাযোগ ও বৈঠক সম্পন্ন করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল দেশটির আইনসভা, প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সংস্থা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সময়টিই ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর সময়।

পেহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, সেই অভিযানের সময়ও ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ ও ৭ মে রাতের অভিযানে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চলে অবস্থিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়টি স্থাপনায় সমন্বিত ও নির্ভুল হামলা চালায়।

আরও পড়ুন: মাদক কারবারি ও দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: এমপি মিলন

একদিকে সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে নিবিড় যোগাযোগ এই দুই ধারার কর্মকাণ্ড একই সময়ে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে সমান্তরালভাবে সক্রিয় থাকার মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সীমান্তে সংঘাত চলমান থাকলেও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সমর্থন অর্জন এবং নীতিনির্ধারণী মহলে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা দেশটির কৌশলগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে এই বিপুল ব্যয় পাকিস্তানের অগ্রাধিকার ও পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব চিত্র সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যখন দেশটির সাধারণ জনগণ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট এবং ঋণচাপের মতো সমস্যার মুখোমুখি, তখন আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য হিসেবে সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করা যাবে না: আব্দুল্লাহ আল জাবের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইল যুদ্ধবিরতি মানছে না, লেবাননে ব্যাপক হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ এম


ইসরাইল যুদ্ধবিরতি মানছে না, লেবাননে ব্যাপক হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলেও নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ক্ষেত্রে তা মানবে না ইসরাইল।

দখলদার দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। সৌদি গেজেটের খবর অনুসারে,

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ এখনও চলছে এবং সেনারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো এবং স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জাহরানি নদীর দক্ষিণে ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেন এবং সতর্ক করেন, 'যে দক্ষিণে যাবে, তার জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।'

অন্যদিকে কাটজ বলেছেন, বৈরুতের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো 'শর্তসাপেক্ষ' এবং এটি নির্ভর করছে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরানোর ওপর।

দক্ষিণ লেবাননে এখনও ইসরাইলি যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন উড়তে দেখা যাচ্ছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, টাইর শহরের ওপর দিয়ে খুব নিচু দিয়ে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়,

একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ চালানো হয়।

লেবাননের বেকা উপত্যকার সোহমোর শহরে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। একইভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও টেল আল-আকারেবসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে।

হাদ্দাথা, টিবনিন, হারিস এবং হারিনসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক শহরে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।

লেবাননের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণাঞ্চলে না ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

তারা বলেছে, অবিস্ফোরিত বোমা এবং চলমান ঝুঁকির কোনো কারণেই পরিস্থিতি এখনও বিপজ্জনক।

এর আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননের কানতারায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর রকেট হামলা চালিয়ে এবং বিউফোর্ট দুর্গের কাছে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলি মেজর জেনারেল অল্পের জন্য বাঁচলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ এম


ইসরাইলি মেজর জেনারেল অল্পের জন্য বাঁচলেন

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলোর গাড়ির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। তবে শেষ মুহূর্তে গাড়ি থেকে নেমে যান জেনারেল রাফি। হামলার ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

দখলদার দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, মেজর মিলো দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তিনি ওই সময় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সফরে ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলো ও তার এক সহকারী গাড়ি থেকে নামার কিছুক্ষণ পর একটি বিস্ফোরকবাহী ফার্স্ট-পারসন-ভিউ ড্রোন তাদের গাড়িতে আঘাত হানে। যদিও গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তারা অক্ষত থেকে যান।

এছাড়া, ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষ সংবাদটি প্রকাশের অনুমতি দেওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে আইডিএফের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে চাচ্ছে।

গত সপ্তাহে কান জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহ জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ড্রোন, অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) এবং সমন্বিত হামলার মাধ্যমে ইসরাইলের কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা। জেনারেল রাফির ওপর হামলা সেখানকার কৌশলের অংশ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা ও দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য বাড়ছে, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পরিবারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪০ এম


মা ও দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য বাড়ছে, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পরিবারের

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলায় এক মা এবং তার দুই শিশু কন্যার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ক্রমেই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলা হলেও, নিহত ইতি রানীর স্বজনরা এই অভিযোগে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

বুধবার (৩ জুন) বিকালে বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪), তার বড় মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ দুটি পৃথক কক্ষ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও কক্ষের পরিস্থিতি বিচার করে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত বিশ্লেষণ কিংবা ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই এমন মন্তব্য করায় স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নিহত ইতি রানীর জা মনি রানী উল্লেখ করেছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ আত্মহত্যার কথা বলছে, যা নিয়ে তাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। তারা মনে করেন এটি নিশ্চিতভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

স্বজনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শুধু ইতি রানী ও তাঁর সন্তানদের ডাকবাংলোয় প্রবেশের দৃশ্য দেখা গেছে, কিন্তু এর আগের বা পরের কোনো ফুটেজ রয়েছে কিনা তা প্রকাশ করা হয়নি।

নিহতের ভাই মিত্র সরকার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঁচ মিনিটের ফুটেজ দেখানো হয়েছে। কিন্তু সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ ভিডিও কোথায়? তারা জানতে চাইছেন, কারা সেখানে প্রবেশ করেছে বা বের হয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ইতি রানীর সেদিন ডাকবাংলোয় কাজ করার কথা ছিল না, সেই সাথে তার মেয়েরাও আগে কখনো সেখানে যেত না। তাই ওই দিন তাদের ডাকবাংলোয় উপস্থিত হওয়াটাই রহস্যজনক।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডাকবাংলোর ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ইতি রানী ও ছোট মেয়ে অনুরাধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩ নম্বর কক্ষ থেকে পাওয়া যায় বড় মেয়ে আরাধ্যের মরদেহ। একই পরিবারের সদস্যরা কেন আলাদা কক্ষে অবস্থান করছিল, মৃত্যুর আগে তাদের অবস্থান কী ছিল এবং কক্ষগুলোর দরজা কীভাবে বন্ধ হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার বারান্দায় কোনো গ্রিল নেই। ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করেছেন যে, গ্রিল না থাকায় অতিথিরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। তবে বারান্দার থাই গ্লাসের লকগুলো নষ্ট কি না, সেই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বৃহস্পতিবার বিকালে ইতি রানী ও তাঁর দুই কন্যার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করেন। তারা শহরের বিভিন্ন সড়কে মরদেহ নিয়ে মিছিল করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, আমার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত চান। পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি করেছেন।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। মরদেহের বিভিন্ন নমুনা উন্নত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ অথবা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ফিরতি বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যা মামলার জন্য এখনো নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক স্বামী কর্তৃক এসিডে গুরুতর দগ্ধ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫২ এম


সাবেক স্বামী কর্তৃক এসিডে গুরুতর দগ্ধ নারী

হবিগঞ্জে রুবিনা আক্তার (২৫) নামের এক নারীর মুখ এসিডে ঝলসে দিয়েছেন তার সাবেক স্বামী। গুরুতর অবস্থায় রুবিনাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাসিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের উজ্জল মিয়ার (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রুবিনার দুই বছর আগে। এক সময় তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়ে গেলে ৬ মাস আগে রুবিনা উজ্জলকে তালাক দেন। তাদের দুটি সন্তান বর্তমানে উজ্জল মিয়ার কাছে রয়েছে। কিন্তু এরপরও উজ্জল তার পিছু ছাড়েননি। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে আসা যাওয়ার পথে এবং তার কর্মস্থলে গিয়েও উত্যক্ত করতেন উজ্জল। বৃহস্পতিবার রাতে, রুবিনা অফিসে কাজ শেষে বাড়ি আসার পথে বহুলায় বাড়ির কাছে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা উজ্জল তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করেন। রুবিনার চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে এলে উজ্জল পালিয়ে যান। স্থানীয়রা রুবিনাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাসিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল হক মুনশী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উজ্জলকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%