বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪২ পি.এম
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের (জেসিএসসি) সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি কোর্স সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের সনদপত্র ও ট্রফি প্রদান করেন।
কোর্সে সেরা নৈপুণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হাসিন তানভীর, জিডি (পি) কে বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি দেওয়া হয়। এরপর বিমান বাহিনী প্রধান কোর্সে উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
বিমান বাহিনী জানায়, এবারের কোর্সে দেশ ও বিদেশের বিমান বাহিনীর ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে কমান্ড, স্টাফ ও নির্দেশমূলক দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলতে কর্মলব্ধ জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে কোর্সটি পরিচালিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (সিএসটিআই) প্রশিক্ষক এবং কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের প্রতি ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান জনমতের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রতিফলন। রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভিন্ন শিবিরে এখন চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা বেড়েছে, যদিও কিছু সংশয় রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল মহলে চীনের ভাবমূর্তি পূর্বের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের চীন সম্পর্কে “নেতিবাচক” ধারণা রয়েছে, যা ২০২১ সালে ছিল ৬৮ শতাংশ। জুলাইয়ে গবেষণা সংস্থা শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছিল যে, আমেরিকাতে ৫৭ শতাংশ মানুষ চীনের সাথে “বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার” পক্ষে মত দিয়েছে; এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান রয়েছেন।
কাউন্সিলের জনমত জরিপ তদারককারী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা দিনা স্মেল্টজ মন্তব্য করেছেন, “চীন সম্পর্কে মানুষের মনোভাব সত্যিই বিস্ময়করভাবে বদলেছে।” গ্যালাপের এ বছরের জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার ৩৪ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে, যা ২০২৩ সালের সর্বনিম্ন হারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এক দশক আগে, ট্রাম্পের কঠোর চীন-বিরোধী বক্তব্য তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
দিনা আরও বলেন, “মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছেÑআগে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চীনের উত্থান ও প্রভাব সীমিত করার পক্ষে ছিল, এখন সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান চীনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।” বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে, ট্রাম্প গত বছর সর্বোচ্চ ১শ’ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এ পরিবর্তন এপ্রিলে বেইজিং সফরের সময় তাঁর বিনয়ী আচরণে স্পষ্ট হয়েছিল এবং এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে বেইজিং এখনও বড় কোনো ছাড় দেয়নি। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় চীনের ব্যাপারে এখনও বেশি কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকলেও, তাদের মনোভাবও আগের চেয়ে ইতিবাচক হয়েছে, যা হয়তো ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তনের ফল। ডেমোক্র্যাটরাও একই পথে অগ্রসর হয়েছেন।
এদিকে, চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক সক্ষমতা এবং তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা থাকলেও, জনমত জরিপ পরিচালনাকারীরা বলছেন, আমেরিকানরা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে খুব একটা ভাবেন না এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি খুব কমই প্রভাব ফেলে।
পিউ এবং শিকাগো কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি। পিউ-এর সহযোগী পরিচালক লরা সিলভার বলেন, “তরুণরা চীনকে একটি পরাশক্তি হিসেবেই জেনে এসেছে।” অন্যদিকে, বয়োজ্যেষ্ঠ প্রজন্মের কাছে চীন মূলত উন্নয়নশীল দেশ, কমিউনিজম এবং ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ার হত্যাকা-ের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তরুণ প্রজন্মের কাছে চীন পরিচিত হয়ে উঠছে এর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক প্রসারের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে অনলাইনে প্রচলিত ‘চায়নাম্যাক্সিং’ (চীনকে সর্বোতভাবে অনুসরণ করা)-এর মতো প্রবণতা-মাধ্যমে।
শিকাগো কাউন্সিলের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যে ১০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার প্রতি সম্মান কমেছে।
কার্টার সেন্টারের গবেষক নিক জেলার এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে আসলে আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগই প্রতিফলিত হচ্ছে। চীনের প্রতি এই ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে খোদ চীনের চেয়ে বরং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবই বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ নিয়ে।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
লুইস বেননের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাস।
বৈঠকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গঠন ও কার্যকারিতা বাড়ানো এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান সতর্ক করেছে যে, যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল নতুন করে ইয়েমেন বা ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ভারত মহাসাগর ছাড়িয়ে আরও দূরের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি প্রদান করেছেন। তিনি ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা 'ফারস নিউজ'-এ প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এই বক্তব্য দেন।
সাফাভি বলেন, "যেহেতু সংঘাত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু হয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, তাই নতুন কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে প্রতিক্রিয়া হিসেবে রণক্ষেত্র আরও প্রসারিত হতে পারে। এবার যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট ভারত মহাসাগর কিংবা তার থেকেও দূরের অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।"
তিনি আরও জানান, আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী যদি পুনরায় হামলা শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতির (Worst-case scenario) জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রশংসা করে তিনি বলেন, "ইয়েমেনি জনগণ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যেকোনো হামলাকারী শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করে আসছে।" সাফাভি আরও যোগ করেন, আমেরিকানরা যদি নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু করে, তবে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের চোখ ফুটেই নতুন যুদ্ধের ফ্রন্ট উন্মোচিত হবে।
ফারস উপসাগর থেকে শুরু হওয়া উত্তাপ এখন ভারত মহাসাগরের দিকে মোড় নেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সাংবিধানিক পদটি প্রায় আট মাস ধরে খালি রয়েছে।
স্থানীয় সময় সকাল থেকে মুজাফফরাবাদে বিধানসভার সচিবালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার ২৭টি ভোট পেয়ে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সমর্থিত প্রার্থী নজীব নাকি খান বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জোরালোভাবে আলোচনা চলছে। তিনি সুধানোতি জেলার একজন সাবেক মন্ত্রী এবং একাধিকবার নির্বাচিত আইনপ্রণেতা।
অন্যদিকে, বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিধানসভার সাবেক স্পিকার চৌধুরী লতিফ আকবর।
আইন অনুযায়ী, বিধানসভার কোনো সদস্য রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে না পারলেও, ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই বিধানসভায় পিএমএল-এন এবং তাদের মিত্রদের হাতে পর্যাপ্ত আসন থাকায় তাদের প্রার্থীর জয় একরকম নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই পদটি ফাঁকা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সরকারের সময়ক্ষেপণের কারণে তা এতদিন করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের অনুকূলে পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্বাচনে দীর্ঘ বিলম্ব করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে পুনচ ও সুধানোতি জেলার সাতটি আসনে ভোটগ্রহণ এখনো সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ওই আসনগুলোতে ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি।
সমালোচকদের মতে, ওই এলাকার মানুষদের ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা একধরনের অন্যায় হলেও, আইনি জটিলতা না থাকায় আজকের নির্বাচন আংশিক বিধানসভার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ