ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন


সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন এই তথ্য।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পরিচালিত অভিযানে এবং পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত গুলির ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৯০ টাকা নিয়ে বিরোধে রডের আঘাতে দর্জির মৃত্যু

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করা সম্ভব হবে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে।

পর্যায়ক্রমে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের, যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের টেন্ডারে দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একইসাথে এ বিষয়ে সঠিক অগ্রগতি জানাতে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা বাদে মামলার অন্য আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এছাড়া জামায়াতের কর্ণেল জিয়াসহ আরো অনেককে পলাতক আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ইউনেস্কোর

এই মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভেজাল কীটনাশক কারখানায় অভিযান, মালিক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভেজাল কীটনাশক কারখানায় অভিযান, মালিক গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি সার ও কীটনাশকের দোকানে অভিযান চালিয়ে ভেজাল কীটনাশক তৈরি ও প্যাকেটজাত করার সময় সদের আলী নামে দোকান মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একবছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় ওই দোকান থেকে ৩০৭ বস্তা ইউরিয়া, ২৪৪ বস্তা এমওপি, ১৯ বস্তা ডিএপি এবং ৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সদের আলী হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার বাজারের মেসার্স সদের ট্রেডার্সের মালিক। সোমবার সন্ধ্যায় এই অভিযান চালানো হয় এবং রাতে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়।

কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় মেসার্স সদের ট্রেডার্সে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণে নকল কীটনাশক তৈরি ও প্যাকটজাত করার সময় দোকান মালিক সদের আলীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

পরে দোকান ও গোডাউন তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিকের বোতল, কীটনাশকের খালি প্যাকেট, প্যাকেটজাত করার মেশিন এবং বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়। সারগুলো দ্রুত বিক্রি করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সদের আলীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ এম


কক্সবাজারে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলার পালংখালীতে একটি বিশেষ অভিযানে বিজিবি মালিকবিহীন ১ লাখ চল্লিশ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজিবি সূত্র জানায়, ১৭ আগস্ট রাত ১১ টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ পালংখালী বিওপি’র বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ক্যারেঙ্গাঘোনা পোল্ট্রি ফার্মের নিকট অবস্থান করে। ওইসময় জেলে ছদ্মবেশে ৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখতে পেয়ে বিজিবি টহল দল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। পরবর্তীতে চোরাকারবারীরা তাদের হাতে থাকা ১টি প্লাস্টিকের মাছের ড্রাম ফেলে রেখে দ্রুত দৌড়ে নিকটবর্তী গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। উক্ত স্থানে তল্লাশি চালিয়ে প্লাস্টিকের মাছের ড্রামের ভিতর হতে ১টি পলিথিন ব্যাগের ভিতরে খাকী রঙ্গের প্যাকেটের ভিতরে নীল রঙ্গের বায়ুরোধী ১৪ কাট অর্থাৎ ১ লাখ চল্লিশ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উখিয়া বিজিবি’র অধিনায়ক আরও জানান, মাদক সরবরাহকারী এবং জড়িত চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিকে, রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি) অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। ৩০ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী জানান, ১৭ আগস্ট রাতে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর একটি বিশেষ টহলদল ১ নং জিপি গেট এর সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে একটি সন্দেহজনক সিএনজি থামানো হয়। এসময় যাত্রী রোকসানা আক্তারকে (৪০) তল্লাশি করে বাম পায়ের সাথে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রোকসানা আক্তার রামু দারিয়ার দীঘির এলাকার মুক্তার মিয়ার স্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিগত পাঁচ মাসে অভিযানের মাধ্যমে সারা দেশে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বেশ কয়েকটি অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেও উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানের ফলে ২৫০টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধন করার সময় দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে এবং আরো ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম এবং নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে রয়েছে। এরপর রংপুরে ১১১, ময়মনসিংহে ২৫২, রাজশাহীতে ৫৫, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ৪৮, খুলনাতে ১৫৬ এবং সিলেটে ৮টি রয়েছে। জানা গেছে, গত কয়েক মাসের অভিযানে রাজধানীর প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দল এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করা হয় এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফরিদপুরে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ৬টি ক্লিনিক, শরীয়তপুরে ২টি ক্লিনিক, নরসিংদীতে ২টি ক্লিনিক, পাবনায় ২টি ক্লিনিক, মানিকগঞ্জে ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে ১টি, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১টি ক্লিনিকসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সারা দেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম দূরীকরণ এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে। বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম দূরীকরণ ও স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা, সিলগালা বা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে ২২.৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে ২২.৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী রেথিয়নকে ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার ১৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা) একটি চুক্তি দিয়েছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য। সোমবার দেশটির যুদ্ধ দপ্তর এই চুক্তির ঘোষণা দেয়।

রেথিয়ন হচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি আরটিএক্সের একটি প্রতিষ্ঠান। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘ পাল্লার হামলায় ব্যবহৃত এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা শক্তিশালী করা। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামরিক কর্মকর্তারা আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ অবস্থায় টমাহক উৎপাদন বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। যুদ্ধ দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা ব্যবহারে তাদের ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন খাতের সামগ্রিক সক্ষমতাও বাড়ানোর লক্ষ্যে এটি আসছে।

 

যুদ্ধ দপ্তরের অধিগ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি মাইকেল পি. ডাফি জানান, অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে তারা প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আরটিএক্স সেই আহ্বানে সম্মতি জানিয়েছে। ডাফি বলেছেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের এই চুক্তি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এভাবে মার্কিন সেনা সমান শক্তির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় প্রয়োজনীয় অস্ত্রের ঘাটতিতে শিকার হবে না। যুদ্ধ দপ্তর জানায়, চুক্তিটি প্রতিরক্ষা শিল্পের অংশীদারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য স্থিতিশীলতা প্রদান করবে।

এরফলে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ পাবে, উৎপাদনের গতি বৃদ্ধি করবে এবং সরবরাহব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার দিশা নিয়ে এগোতে পারবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ দপ্তরের অস্ত্র সংগ্রহের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রকল্পে আসবে। এই পরিকল্পনাটির লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র দ্রুত সংগ্রহ করা এবং অস্ত্র কেনার পুরো প্রক্রিয়ায় যে সময় লাগে, তা কমিয়ে আনা। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও জানান, এই বিনিয়োগের ফলে নৌবাহিনী এবং যৌথ বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রের রয়েছে। তিনি বলেন, ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎপাদন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করবে। কাও জানিয়েছেন, অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমান সামরিক অভিযানের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাও দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং আরটিএক্স সেই কাজ করছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে টমাহক চুক্তির ঘোষণা করা হলো। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত অনেক কমে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে তাদের উদ্বেগও রয়েছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

 

মার্কিন নৌবাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহ বিভাগের বিশেষ দপ্তর নৌবাহিনীর অস্ত্র ও হামলার সক্ষমতা উন্নয়ন, অস্ত্র কেনা এবং সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কর্মসূচিগুলোকে এক জায়গায় আনা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং প্রয়োজনের সময় মার্কিন নৌবহরের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয় অস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এইভাবে ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের টমাহক চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সুযোগে অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%