১১:০০ এম
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী রেথিয়নকে ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার ১৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা) একটি চুক্তি দিয়েছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য। সোমবার দেশটির যুদ্ধ দপ্তর এই চুক্তির ঘোষণা দেয়।
রেথিয়ন হচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি আরটিএক্সের একটি প্রতিষ্ঠান। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘ পাল্লার হামলায় ব্যবহৃত এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা শক্তিশালী করা। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামরিক কর্মকর্তারা আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ অবস্থায় টমাহক উৎপাদন বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। যুদ্ধ দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা ব্যবহারে তাদের ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন খাতের সামগ্রিক সক্ষমতাও বাড়ানোর লক্ষ্যে এটি আসছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
যুদ্ধ দপ্তরের অধিগ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি মাইকেল পি. ডাফি জানান, অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে তারা প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আরটিএক্স সেই আহ্বানে সম্মতি জানিয়েছে। ডাফি বলেছেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের এই চুক্তি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এভাবে মার্কিন সেনা সমান শক্তির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় প্রয়োজনীয় অস্ত্রের ঘাটতিতে শিকার হবে না। যুদ্ধ দপ্তর জানায়, চুক্তিটি প্রতিরক্ষা শিল্পের অংশীদারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য স্থিতিশীলতা প্রদান করবে।
এরফলে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ পাবে, উৎপাদনের গতি বৃদ্ধি করবে এবং সরবরাহব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার দিশা নিয়ে এগোতে পারবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ দপ্তরের অস্ত্র সংগ্রহের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রকল্পে আসবে। এই পরিকল্পনাটির লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র দ্রুত সংগ্রহ করা এবং অস্ত্র কেনার পুরো প্রক্রিয়ায় যে সময় লাগে, তা কমিয়ে আনা। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও জানান, এই বিনিয়োগের ফলে নৌবাহিনী এবং যৌথ বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রের রয়েছে। তিনি বলেন, ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎপাদন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করবে। কাও জানিয়েছেন, অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমান সামরিক অভিযানের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাও দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং আরটিএক্স সেই কাজ করছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে টমাহক চুক্তির ঘোষণা করা হলো। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত অনেক কমে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে তাদের উদ্বেগও রয়েছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহ বিভাগের বিশেষ দপ্তর নৌবাহিনীর অস্ত্র ও হামলার সক্ষমতা উন্নয়ন, অস্ত্র কেনা এবং সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কর্মসূচিগুলোকে এক জায়গায় আনা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং প্রয়োজনের সময় মার্কিন নৌবহরের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয় অস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এইভাবে ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের টমাহক চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সুযোগে অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন