ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রিটিশ স্টিল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ায় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি জিংইয়ের


ব্রিটিশ স্টিল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ায় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি জিংইয়ের

 ব্রিটিশ স্টিলকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার পর চীনের জিংইয়ে স্টিল যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। ২০২০ সালে জিংইয়ে ব্রিটিশ স্টিল কিনেছিল। কিন্তু সংকটে পড়া এই প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের ফলে গত বছর কোম্পানিটি এর নিয়ন্ত্রণ হারায়। বেইজিং থেকে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। উত্তর ইংল্যান্ডের স্কানথর্পের অবস্থিত ব্রিটেনের শেষ ইস্পাত কারখানাটি, যেখানে আকরিক থেকে সরাসরি ইস্পাত উৎপাদন করা সম্ভব, বন্ধ হওয়ার মুখে পড়ে। জিংইয়ে জানায়, কারখানাটি আর আর্থিকভাবে টেকসই নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্য সরকার কারখানাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বৃহস্পতিবার সরকার ঘোষণা দেয় যে, ব্রিটিশ স্টিলকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়েছে। তবে রোববার নিজেদের সরকারি উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিংইয়ে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিধি লঙ্ঘন’ এবং ‘প্রকাশ্য ডাকাতির’ অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে বিনিয়োগজনিত ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, ‘জিংইয়ে তার সব আইনি অধিকার সংরক্ষণ করছে। আমরা আমাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করব।’ যুক্তরাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জিংইয়ের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে ইস্পাত উৎপাদনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই ব্রিটিশ স্টিলকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। তারা অভিযোগ করেছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে’ যুক্তরাজ্য সরকার কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ ‘জোরপূর্বক’ দখল করে নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
এনপিআরের বিশ্লেষণ

কেন ইরান যুদ্ধে জিততে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


কেন ইরান যুদ্ধে জিততে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

 

গত ২৫ বছরের মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি বড় সংঘাতে জড়িয়েছে—প্রথমে আফগানিস্তান, এরপর ইরাক এবং বর্তমানে ইরান। এই সব সংঘাত মধ্যপ্রাচ্য ও তার আশপাশের একই ভূরাজনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বারবার বলেছে, তাদের বিপুল সামরিক শক্তি এসব যুদ্ধে দ্রুত বিজয় অর্জন করবে।

২০০১ সালে, প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হয়। এরপর ২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাত করা যায়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রারম্ভিক দিনেই ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করা হয় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।

কিন্তু দেখা গেছে, বিপুল সামরিক শক্তি কখনো রাজনৈতিক সাফল্যে রূপান্তরিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র যে মৌলিক পরিবর্তন চেয়েছিল তা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আফগানিস্তানে আবার তালেবান ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরাকে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও দেশটি এখনো নানা সংকটে ভুগছে। আর ইরানে ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো বহাল রয়েছে; সংঘাতও সমাপ্ত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ জয় এত কঠিন কেন, তা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষক এবং অল দ্য প্রেসিডেন্টস ওয়ার্স গ্রন্থের লেখক পিটার বার্গেন বলেন, ‘যুদ্ধের শুরুতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং শত্রুকে হত্যা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত সফল হয়। কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ।’

তার মতে, ‘যুদ্ধের পর কী হবে—সেটি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র প্রায়শই করে না।’

লেবাননভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক পল সালেমের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রেক্ষিতে অধিক নির্ভরশীল। তারা দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে কম খরচে যুদ্ধ শেষ করতে চায়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এই বিশ্লেষক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু সেটি বাস্তবায়নে তাদের আচরণ অনেকটা পর্যটকের মতো।’

তার মতে, এই বৈপরীত্য ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধকে প্রভাবিত করেছে এবং ইরানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সালেম বলেন, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাই কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।’

পিটার বার্গেনও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি সাম্রাজ্য হতে চেয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নিতে চায়নি।’

তিনি বলেন, ‘সাম্রাজ্য পরিচালনা করতে হলে স্থানীয় ভাষা শিখতে হয়, দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি। দীর্ঘমেয়াদে কোনো ভূখণ্ড ধরে রাখার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি দরকার, তা দেখাতে তারা বরাবরই অনিচ্ছুক।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন।

তবে আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় স্থলবাহিনী না পাঠিয়ে তিনি বিমান হামলার ওপর নির্ভর করেছেন। তাই মার্কিন সেনাদের হতাহত সংখ্যা সীমিত রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডগলাস লুট এই যুদ্ধের সমালোচক এবং স্থলবাহিনী পাঠানোর বিরোধী। তবে তিনি মনে করেন, স্থলবাহিনী ব্যবহার না করলে যুদ্ধের লক্ষ্যও সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস, সরকার উৎখাত এবং দেশটির বিমান, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কথা বলেছেন।

বুশ ও ওবামা প্রশাসনে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করা লুট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, কৌশল ও সক্ষমতার মধ্যে বারবার অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। আমরা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণাও ছিল না।’

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিজ ভূখণ্ডে যুদ্ধরত ছোট ও দুর্বল পক্ষগুলো নানা কৌশলে মার্কিন বাহিনীকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

আফগানিস্তান ও ইরাকে বিদ্রোহীরা রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা ও আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে দীর্ঘদিন বিপর্যস্ত রেখেছিল। আর ইরান স্বল্পমূল্যের ড্রোন ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রচলিত নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস করলেও দেশটি কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি অচল করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন ওয়াল্ট ফরেন পলিসি সাময়িকীতে লিখেছেন, ‘যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের উন্নত সমন্বিত সামরিক অভিযানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় মুগ্ধ, তারা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন যে আধুনিক যুদ্ধ ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রতিরক্ষাকারীদের অনুকূলে ঝুঁকছে, এমনকি তারা আপাতদৃষ্টিতে অনেক দুর্বল হলেও।’

তিনি আরো লেখেন, ‘ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, তাৎক্ষণিক নজরদারি এবং বিপুল সমরাস্ত্রের অধিকারী ছিল। তবুও তারা প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল অর্জন করতে পারেনি।’

সালেমের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভেবেছে যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা সম্ভব হবে। তাই কূটনৈতিক সমাধানের পথকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

তার ভাষায়, ‘পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শকে দুর্বল বা অকার্যকর বলে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে কার্যত পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।’

মধ্যপ্রাচ্যের যে যুদ্ধকে সফল বলে মনে করা হয়, তার মধ্যে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়া যায়—১৯৯১ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ।

সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল সীমিত—কুয়েত দখলকারী ইরাকি বাহিনীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ জাতিসংঘের সমর্থন আদায়ের পর একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে সামরিক অভিযান শুরু করেন।

ডগলাস লুট বলেন, ‘আমার মতে, সেটিই ছিল শেষ যুদ্ধ যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি চান। তবে পল সালেম মনে করেন, এই সংঘাত যেভাবেই শেষ হোক না কেন, তা হবে শেষ অধ্যায় নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইচ্ছা তখনই ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, ইরানও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব রাখতে পারে এবং পরোক্ষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সালেম বলেন, ‘আমার ধারণা, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত হবে।’

তবে বর্তমান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কীভাবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে, মতবিনিময়ে হেফাজতের নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩০ পি.এম


শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে, মতবিনিময়ে হেফাজতের নেতারা

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ বছর আগে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে দায়ের করা মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে পৌঁছেছে।

ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রবিবার এক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদন পেয়েছি বলতে আমাদের কাছে একটা খসড়া দিয়েছে।’ অর্থাৎ, এটা এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে, তারা এই খসড়ার উপর পর্যালোচনা করছেন।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম কি ধরনের তথ্য খসড়া প্রতিবেদনে রয়েছে, সে বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট করতে রাজি হননি। তিনি আরো জানান, ‘রিপোর্ট নিয়ে আমরা এখনই বলতে পারব না। কারণ, এটা হলো একেবারেই খসড়া।’

অন্যদিকে, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে এদিন প্রসিকিউশনের আইনজীবী দলের সাথে আলোচনা করতে আসেন হেফাজতের নেতারা। এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তারা আমাদের সাথে মতবিনিময় করবেন। এরপর আমরা হয়ত ফাইনাল রিপোর্ট আসার সাপেক্ষে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করব। আপাতত, তারা আমাদের অগ্রগতি জানতে আসছেন, আমরা হয়ত জানাব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদত্যাগে সম্মত হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩২ পি.এম


পদত্যাগে সম্মত হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলইক পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন সাংবিধানিক সংশোধনী মেনে। ইতোমধ্যেই তিনি সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন এবং ফলে, স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব শেষ হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুলইককে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা।

গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অরবানের সরকার 16 বছর ক্ষমতায় থাকার পর পরাজিত হয় এবং তিসা পার্টি বিপুল বিজয়ের সাথে নতুন সরকার গঠন করছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংশোধনীতে স্বাক্ষরের জন্য সুলইকের হাতে পাঁচ দিনের সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি স্বাক্ষর না করলে দেশে দীর্ঘ সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হতো এবং তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালু হতো।

শনিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তিনি সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন। তবে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে এক বিবৃতিতে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, সরকার আইনের শাসন লঙ্ঘন করেছে।

সুলইক বলেন, এই সাংবিধানিক সংশোধনী একদিকে হাঙ্গেরির সাংবিধানিক গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা ভাঙনের মুহূর্ত। তার দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে একটি মুক্ত সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ পদদলিত করা হয়েছে।

তিসা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুলইককে আগের সরকারের ‘পুতুল’ হিসেবে উল্লেখ করে তার পদত্যাগের দাবী জানাচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত একের পর এক সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সংশোধনীকে ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন এবং তিনি এর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানান।

এপ্রিলে নির্বাচনে পরাজয়ের পর অরবানের দল ফিদেজ রাজনৈতিকভাবে একটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। দলের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমতে থাকে এবং অরবান নিজেও নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিয়েছেন। এমনকি নির্বাচনের পর তিনি পার্লামেন্টে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি।

২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় থাকা ফিদেজ সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত করার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন অভিযোগের মুখে রয়েছে।

সোমবার পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হওয়ার ফল ঘোষণা করা হলে তিসা পার্টির ১৪১ জন আইনপ্রণেতা দাঁড়িয়ে করতালি দেন।

ভোটের পর, হাঙ্গেরির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি আন্দ্রাশ বাকা সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সিদ্ধান্তে তিনি একমত।

তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হাঙ্গেরিতে আইনের শাসন কার্যকর ছিল, কিন্তু এরপর ফিদেজ ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

বাকা আরও বলেন, “এমন একটি সুসংগঠিত কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও টিকে থাকতে পারে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু ধর্ষণ মামলায় তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


শিশু ধর্ষণ মামলায় তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন ৩

১৫ বছর পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত শিশুধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া, ছয় আসামিকে প্রত্যেককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। সরকারের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– মো. আনিছ ওরফে রানা, মো. সাইফুল ইসলাম এবং মো. দুলাল। তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালু। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে।

যদি দণ্ডিতরা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় কার্যকরের অংশ হিসেবে আদালত পাঁচ দণ্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিছ ওরফে রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী তার এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যান।

সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার সময় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কের পাশে একটি পেট্রল পাম্প উদ্বৃত্ত এলাকায় পৌঁছলে কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে আরো কয়েকজনকে ডেকে আনা হয়। সেখানে তিনজন পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া আরো তিনজন অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে কিশোরীর চিৎকার শুনে পাশ দিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে সেই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার তিন দিন পর ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত উপস্থাপন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%