বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৩৭ পি.এম
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) বিএনপির সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ এ দুজনকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রায়গঞ্জ আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদির (মুত্তাকিন) (৪২) এবং রনতিথা গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৫), যিনি ক্যাফে ফাস্ট ফুডের দোকানদার।
সিরাজগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানি জানিয়েছেন, এমপির গাড়িতে হামলা মামলায় কারাগারে থাকা দুই আসামির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার ধানগড়া বাজারে টিটিসির ভবন নির্মাণসংক্রান্ত মতবিনিময়সভা থেকে বের হওয়ার পর এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা করা হয়েছিল।
এতে এমপি অক্ষত থাকলেও তার গাড়ির পেছনের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছে।
এদের মধ্যে দুজন কারাগারে রয়েছেন, চারজন জামিন পেয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ২২ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ যথাযথ ব্যবস্থায় দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন আবাসিক হোটেলে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক আছে। এতে নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন আকরাম আলী, দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শিরমিন, সর্নাশীষ দত্ত, বাবু আহমেদ, রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান। দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান এবং শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল।
বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে নিহত নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। সেই দিন দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অন্যান্য সাত বাংলাদেশির মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া থেকে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা এবং সাতক্ষীরা থেকে মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছেছেন। ভারতীয় নাগরিক সন্দীপ পাশওয়ান ও যোগ নারায়ণ আগারওয়ালের পরিবারের সদস্যরাও মর্গে উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের ভাগ্নে মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, আলিমুজ্জামান তার মামা। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ থেকে মামার মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ দেখতে মর্গে এসেছেন। ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজন হোটেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এন্টালি থানার মেইন মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি জোড়াসাঁকো এলাকায়। পুলিশ হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজ সংক্রান্ত নথি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসি মেশিনে বিস্ফোরণ অথবা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। পরে আগুন হোটেলের অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার। তারা অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকার হোটেল ও লজগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে কলিন লেনের সাতটি লজ ও চারটি গেস্ট হাউসে আপাতত অতিথি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
কলকাতার সীমায় নয়, বরং অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার অভিযান শুরু হয়েছে। বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় পারিবারিক কলহ ও কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্ত্রী হালিমা খাতুনকে হত্যার অভিযোগে স্বামী মো. শামীম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-০১-এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান কর্তৃক এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দোহালী-কোয়ালীপাড়া গ্রামের মো. শামীম সরদার ও হালিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। পরে যখন হালিমা একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন, তখন শামীম সন্তানকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি অবহেলা শুরু করেন।
একপর্যায়ে শামীম এবং হালিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। হালিমার পরিবারের সদস্যরা স্ত্রী ও সন্তানের কাছে যেতে বললে, শামীম বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তা এড়িয়ে যান। ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর শামীম হালিমার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তাকে নওগাঁর মহাদেবপুরে গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে বলেন। হালিমার পরিবার যখন তাকে একা পাঠাতে অসম্মতি জানায়, তখন ২৭ ডিসেম্বর সকালে হালিমার পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন।
এরপর শামীম হালিমাকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেবপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
হালিমাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, শামীম বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। পরে ২৯ ডিসেম্বর নওগাঁ সদর মডেল থানাধীন তিলকপুর ইউনিয়নের কিশোরীপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে হালিমার গলাকাটা এবং ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে হালিমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার গলা, মুখ এবং পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওই সময় তারা জানতে পারেন, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই শামীম পলাতক ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শামীম ২০১৯ সালের ২৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময় হালিমাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ধানখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ এবং ২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. শাহরিয়ার এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. এমরান হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. শাহরিয়ার বলেন, 'এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নৌযান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সাথে সংযুক্তদের সঠিক হিসাব নিরূপণের উদ্দেশ্যে সরকার দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু করেছে।
এই নৌযান শুমারিতে উপকূলীয় জেলা ভোলা এবং তৎসংলগ্ন জেলাগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে এই নৌযান শুমারি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে নির্ধারিত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের আয়োজনের মাধ্যমে ভোলার উপশহর ইলিশা নৌবন্দরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র্যালিতে স্থানীয় জেলে, নৌযান মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই অংশ নেন।
পরে এই র্যালিটি বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং মেঘনা নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন নৌযান পরিদর্শন করেছে। র্যালিতে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিন্দ্য মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহ আব্দুর রহিম নূরন্নবী, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগে নৌযান শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের হালনাগাদ তথ্য এবং পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হবে।
জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান বাসসকে বলেন, “মেঘনার বুকে প্রতিদিন নৌকা, ফেরি এবং বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে। অনেক মানুষের জীবিকা নদী ও নৌযানকে ঘিরে, আবার কারও যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। অথচ এসব নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই দেশজুড়ে নৌযান শুমারি শুরু হয়েছে। এরই প্রচারের অংশ হিসেবে উপকূলীয় ভোলায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।”
আয়োজকরা জানান, আজ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই শুমারির তথ্য নৌ-দুর্ঘটনা কমানো, নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নৌপরিবহন খাতের জনবল ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, নদীকেন্দ্রিক জেলা ভোলার জন্য এই শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌপথে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং জীবিকার সাথে জড়িত বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তব চিত্রও এই তথ্যভাণ্ডারে উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ভোলা শহরতলীর ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে কথা হয় নৌযানে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও নৌযান মালিকদের সঙ্গে।
জেলার কর্ণফুলী লঞ্চ মালিক মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশনের মালিক মো. সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, “নৌযান শুমারি সম্পন্ন হলে দেশের মানুষ নৌযান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সঠিক হিসেব জানতে পারবেন।” সরকারের এ পদক্ষেপকে তিনি সাধুবাদ জানান।
বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি ও ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বাসসকে বলেন, “নৌযান শুমারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়ন করতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।”
ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. লুকু চৌধুরী জানান, “নৌযান শুমারির মাধ্যমে সরকার দেশের নৌপথকে আরও যুগোপযোগী করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।”
একই এলাকার ফেরিঘাটের শ্রমিক সালাউদ্দিন, ইউসুফ ও কামাল হোসেন জানান, “নৌযান শুমারি সম্পন্ন হলে প্রতিটি জেলায় লঞ্চ ও ফেরিঘাটে কর্মরত শ্রমিকদের পরিসংখ্যানও জানা যাবে।”
ইলিশা ফেরিঘাটের গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নোমান বাসসকে বলেছেন, “নৌযান শুমারির ফলে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের নৌযানগুলো একটি শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসবে। সব মিলিয়ে নৌযান শুমারি দেশের নৌপথকে আরও আধুনিকতার ছোঁয়ায় অবতীর্ণ করবে বলে মনে করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এসব মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "বিদ্যমান সংবিধান মেনে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিরোধী দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল বিদ্যমান সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়েছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "অলি আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।"
এ সময় ৭০ অনুচ্ছেদ মেনে বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি বলেন, "তারা যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাহলে বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে শপথ নিয়েছেন, সেটি আর টেকে না।"
দলের মহাসচিব কে হবেন সে বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "এটি দলের স্থায়ী কমিটি দেখবে। এটি দলীয় প্রধানের এখতিয়ার।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ