মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:১১ পি.এম
ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ সম্প্রতি পাকিস্তান ও কাশ্মীর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর জম্মুতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকেই তাঁর গ্রেপ্তার এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
গত শনিবার বারামুল্লায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফারুক আবদুল্লাহ ইঙ্গিত দেন যে, কাশ্মীর বিরোধে পাকিস্তানের অবস্থান কাশ্মীরিদের সুরক্ষায় সহায়ক। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), রাষ্ট্রীয় বজরং দল, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা, ডোগরা ফ্রন্ট এবং ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম ফ্রন্টসহ (এনএটিএফ) বেশ কয়েকটি সংগঠন জম্মুতে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা এনসি প্রধানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সৎ শর্মা আবদুল্লাহর বক্তব্যকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, আবদুল্লাহ যদি ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁর পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত।
বিজেপির বিধায়ক বিক্রম রান্ধাওয়া এই মন্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, আবদুল্লাহ এমন একটি দেশের পক্ষে কথা বলছেন যা ভারতের মাটিতে ক্রমাগত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে আসছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক বিজেপি সভাপতি রবীন্দ্র রায়নাও মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান কীভাবে কাশ্মীরিদের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে? তিনি ফারুক আবদুল্লাহর অবিলম্ব ক্ষমা দাবি করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শক্তি রাজ পারিহার দেশদ্রোহিতার অপরাধে আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এনএটিএফ-এর জাতীয় চেয়ারম্যান বিশাল চোপড়ার নেতৃত্বে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশেও তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তিনি বলেন, একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর পদ ও দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করে সচেতনভাবে কথা বলা উচিত।
সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির জম্মু ও কাশ্মীর প্রধান বিবেক বালি ঘটনার তদন্ত দাবি করে বলেন, এই বক্তব্য যদি দেশের আইন লঙ্ঘন করে তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলার সময় জন প্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
‘পানুন কাশ্মীর’ এবং ‘জম্মু স্টেট পিপলস মুভমেন্ট’ নামের দুটি সংগঠন জম্মুর চন্নি থানায় ফারুক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করেছে। পানুন কাশ্মীরের চেয়ারম্যান টিটো গঞ্জু এবং জম্মু স্টেট পিপলস মুভমেন্টের চেয়ারম্যান কর্নেল অজয় রায়নার মাধ্যমে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। টিটো গঞ্জু প্রশ্ন তুলে বলেন, "পাকিস্তান কাকে রক্ষা করছে, আর কিসের থেকেই বা রক্ষা করছে?"
জম্মু স্টেট মুভমেন্ট আপার রূপ নগরে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করে। সংগঠনের নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সময়ভিত্তিক তদন্তের আবেদন জানান।
প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) আওতায় আবদুল্লাহকে আটক করা যায় কি না—তা খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে প্রযোজ্য নির্বাচন আইনের অধীনে বিষয়টি পরীক্ষা করার আহ্বান জানায়।
কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্র শর্মা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শিমলা চুক্তির উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে এবং কাশ্মীর ইস্যু তোলার কোনো অধিকার পাকিস্তানের নেই।
তবে এই অঞ্চলে সংখ্যালঘু অধিকার এবং সার্বিক বিচার ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে ফারুক আবদুল্লাহর উদ্বেগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন রবীন্দ্র শর্মা। তিনি বলেন, রাজ্যসভার আলোচনা ও সরকারের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী কংগ্রেস এখনো জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ 'রাজ্য মর্যাদা' ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বারামুল্লায় আসলে কী বলেছিলেন ফারুক আবদুল্লাহ?
বারামুল্লায় আয়োজিত ওই সমাবেশে আবদুল্লাহ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, কাশ্মীরিরা যদি নিজেদের পরিচয় রক্ষা করতে না পারে, তবে তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অমীমাংসিত কাশ্মীর বিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে পাকিস্তানের ধারাবাহিক উপস্থিতি কাশ্মীরিদের স্বার্থবিরোধী যেকোনো পরিকল্পনা বা ইচ্ছাকে বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, "আপনারা যদি নিজেদের অস্তিত্ব আঁকড়ে ধরে না রাখেন, তবে আপনারা মুছে যাবেন। আমাদের কোনো চিহ্ন বা পরিচয় আর অবশিষ্ট থাকবে না।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ কখনোই নিজেদের ভারতীয় হিসেবে অস্বীকার করেনি। তারা মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সময়ের ভারতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আবদুল্লাহ বলেন, "আমরা কখনো বলিনি যে আমরা ভারতীয় নই। আমরা বারবার নিশ্চিত করেছি যে আমরা ভারতের সাথেই যুক্ত হয়েছি (অ্যাক্সেস করা হয়েছে)।" তিনি অভিযোগ করেন, কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বার্থে হিন্দু ও মুসলমানদের একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, সময়ের সাথে সাথে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন নিশ্চিতভাবেই ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন আজ, ২৭ অক্টোবর। এই বিশেষ দিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার সহকর্মী, বন্ধু এবং ভক্তরা। তবে অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়ার শুভেচ্ছাবার্তায় উঠে এসেছে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের স্মৃতি, পুরোনো দিনের গল্প এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার কথা।
তৌসিফের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পর্শিয়া কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তাদের কৈশোরের সময়ের কিছু মুহূর্ত, পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের ছবিও রয়েছে। পুরোনো ছবিতে দুজনের চেহারা ও সাজপোশাকের পরিবর্তন দেখে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে তারা কতটা বদলে গেছেন।
শুভেচ্ছাবার্তায় স্পর্শিয়া জানান, ২০০৯ সাল থেকে তাদের বন্ধুত্বের শুরু। কৈশোর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলায় তৌসিফ তাকে বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। বন্ধুর পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাকে গর্বিত করে বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক অটুট রয়েছে বলে জানান স্পর্শিয়া। তিনি কামনা করেছেন, তৌসিফের জীবনের আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর হোক এবং তিনি যেন তার প্রাপ্য সবকিছু অর্জন করতে পারেন।
উল্লেখ্য, তৌসিফ মাহবুবের জন্ম ভোলায় হলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে তার যাত্রা শুরু হয়। ২০১৩ সালে নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ‘অলটাইম দৌড়ের উপর’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তৌসিফ। পরবর্তী সময়ে একের পর এক নাটকে অভিনয় করে ছোট পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় জড় হয়ে মিছিলের পরিকল্পনা, রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, নাশকতার পরিকল্পনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১৪ জন নেতাকর্মীকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. মিরাজুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. মোস্তফা সরদার (৪১), মো. রাশেদ (২৮), ঢাকা ৪৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজীব (৪০), মো. সেলিম মিঞা (৫২), আব্দুস সামাদ রনি (৪৪), মো. মমিন হাওলাদার (৩৯), মো. জিহাদ (২০), রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ সদস্য মহিউদ্দিন (৩৫), যুবলীগ কর্মী মো. রাহাদ (১৯), রাতুল (২২), মো. মারুফ (১৯), মো. রায়হান (১৯), সানি (২২) এবং নাজমুল হাসান হৃদয় (২০)।
এদিন আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকুসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পুরানা পল্টন এলাকার আজাদ প্রোডাক্টস গলির মুখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১০০ থেকে ১২০ জন নেতাকর্মী অবৈধভাবে সমবেত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং নাশকতার পরিকল্পনা করেন। খবর পেয়ে পল্টন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা, নাশকতায় অর্থায়নকারী বা ‘গডফাদারদের’ চিহ্নিত করা এবং ব্যবহৃত মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের স্বার্থে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে সাত দিনের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, একই ঘটনায় জড়িত ৪ জন শিশু হওয়ায় তাদের শিশু সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) ৩৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে ৭৫০ কেজি ভারতীয় জিরা, একটি পিকআপ, ৪০০ কেজি চিনি, ২৮০ কেজি চা-পাতা, দুটি মহিষ এবং একটি গরু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুরাইঘাট বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহলদল সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সুরাইঘাট বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫০ কেজি ভারতীয় জিরা ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। জব্দ করা জিরা ও পিকআপের সিজারমূল্য ২৯ লাখ টাকা।
এছাড়া, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর ও সুরাইঘাট বিওপির পৃথক আভিযানিক টহলদল জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪০০ কেজি চিনি, ২৮০ কেজি চা-পাতা, দুটি মহিষ ও একটি গরু জব্দ করা হয়। এসব মালামালের সিজারমূল্য ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
দুটি অভিযানে জব্দ করা মালামালের সর্বমোট সিজারমূল্য ৩৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দ করা মালামাল কাস্টমসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিন ভয়েসেস প্রকল্প বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক নীতি ও পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নকে জোরদার করার জন্য ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করেছে।
জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১) উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর, মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহর কাছে সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (সিথ্রি-ইআর) সহযোগিতায় তৈরি এই সুপারিশের উদ্দেশ্য হলো, সরকারের কপ-৩১ অবস্থানপত্রে উল্লেখিত অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিমাপযোগ্য উদ্যোগে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করা।
জাতীয় নীতি বিশ্লেষণ, জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই সুপারিশগুলো গঠন করা হয়েছে। এতে জলবায়ু অভিযোজন, অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ পরস্পর সম্পর্কিত ১০টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও বিনিয়োগ কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর
সুপারিশে বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ, অর্থায়নের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোজন কার্যক্রমের সুফল কারা কতটা পাচ্ছে, তা মূল্যায়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সূচক এবং নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন জনগণের পৃথক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে জলবায়ু প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে বৈষম্য শনাক্ত করা এবং পিছিয়ে থাকা জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা সহজ হবে।
সহজ ও স্বচ্ছ জলবায়ু অর্থায়নের দাবি
জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও সহজলভ্য, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে গ্রিন ভয়েসেস। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে চিহ্নিত অভিযোজনের প্রয়োজনগুলোতে অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্প তৈরি, বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনকে জলবায়ু বিনিয়োগের পরিকল্পনায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রকল্পটি।
ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ ও নথি সংরক্ষণ জরুরি
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ ও নথি তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে সুপারিশে। জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, জীবিকার ক্ষতি এবং অর্থের অঙ্কে সহজে পরিমাপ করা যায় না—এমন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য ক্ষতির তথ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসব তথ্য নীতিনির্ধারণ, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দাবি উপস্থাপনে সহায়ক হতে পারে।
নারীদের নেতৃত্ব, তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং উপযুক্ত প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিও সুপারিশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু উদ্যোগ বাস্তবায়নে এসব উপাদানকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
সুপারিশকে স্বাগত মন্ত্রণালয়ের
সুপারিশ উপস্থাপনের সময় মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। কপ-৩১ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক ও তথ্য-প্রমাণনির্ভর সুপারিশের প্রাসঙ্গিকতাও তিনি স্বীকার করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার এবং গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কীভাবে চলমান নীতিপ্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
গ্রিন ভয়েসেসের বৃহত্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণা, নীতিসংলাপ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জলবায়ু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব বাড়াতে কাজ করছে প্রকল্পটি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা জনগণের অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করছে তারা।
নারী ও তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু উদ্যোগ
‘গ্রিন ভয়েসেস: এমপাওয়ারিং উইমেন অ্যান্ড ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত একটি কনসোর্টিয়াম উদ্যোগ। এতে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বনহিশিখা ও দ্য আর্থ সোসাইটি।
প্রকল্পটি নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন জোট—উইমেনস ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন অ্যালায়েন্সের (শেরা) কার্যক্রমেও সহায়তা করে। জলবায়ুনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণ বাড়ানো এ নেটওয়ার্কের অন্যতম লক্ষ্য।
গ্রিন ভয়েসেসের গবেষণা সহযোগী হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রি-ইআর জলবায়ুনীতি বিশ্লেষণ ও তথ্য-প্রমাণ তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় নীতির অগ্রাধিকারের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রয়োজনের সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কপ-৩১ সামনে রেখে গবেষণা, বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ ও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের অভিজ্ঞতাকে একত্র করে বাংলাদেশের জলবায়ুনীতি প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে চায় গ্রিন ভয়েসেস। সম্মেলনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু কার্যক্রমের বাস্তবায়নেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে চায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ