ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য ১০ দফা সুপারিশ দিল গ্রিন ভয়েসেস


কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য ১০ দফা সুপারিশ দিল গ্রিন ভয়েসেস

গ্রিন ভয়েসেস প্রকল্প বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক নীতি ও পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নকে জোরদার করার জন্য ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করেছে।

জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১) উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর, মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহর কাছে সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (সিথ্রি-ইআর) সহযোগিতায় তৈরি এই সুপারিশের উদ্দেশ্য হলো, সরকারের কপ-৩১ অবস্থানপত্রে উল্লেখিত অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিমাপযোগ্য উদ্যোগে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করা।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

জাতীয় নীতি বিশ্লেষণ, জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই সুপারিশগুলো গঠন করা হয়েছে। এতে জলবায়ু অভিযোজন, অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ পরস্পর সম্পর্কিত ১০টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও বিনিয়োগ কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর

সুপারিশে বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ, অর্থায়নের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোজন কার্যক্রমের সুফল কারা কতটা পাচ্ছে, তা মূল্যায়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সূচক এবং নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন জনগণের পৃথক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে জলবায়ু প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে বৈষম্য শনাক্ত করা এবং পিছিয়ে থাকা জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা সহজ হবে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

সহজ ও স্বচ্ছ জলবায়ু অর্থায়নের দাবি

জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও সহজলভ্য, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে গ্রিন ভয়েসেস। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে চিহ্নিত অভিযোজনের প্রয়োজনগুলোতে অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্প তৈরি, বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনকে জলবায়ু বিনিয়োগের পরিকল্পনায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রকল্পটি।

ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ ও নথি সংরক্ষণ জরুরি

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ ও নথি তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে সুপারিশে। জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, জীবিকার ক্ষতি এবং অর্থের অঙ্কে সহজে পরিমাপ করা যায় না—এমন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য ক্ষতির তথ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসব তথ্য নীতিনির্ধারণ, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দাবি উপস্থাপনে সহায়ক হতে পারে।

নারীদের নেতৃত্ব, তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং উপযুক্ত প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিও সুপারিশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু উদ্যোগ বাস্তবায়নে এসব উপাদানকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

সুপারিশকে স্বাগত মন্ত্রণালয়ের

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

সুপারিশ উপস্থাপনের সময় মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। কপ-৩১ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক ও তথ্য-প্রমাণনির্ভর সুপারিশের প্রাসঙ্গিকতাও তিনি স্বীকার করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার এবং গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কীভাবে চলমান নীতিপ্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

গ্রিন ভয়েসেসের বৃহত্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণা, নীতিসংলাপ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জলবায়ু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব বাড়াতে কাজ করছে প্রকল্পটি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা জনগণের অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করছে তারা।

নারী ও তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু উদ্যোগ

‘গ্রিন ভয়েসেস: এমপাওয়ারিং উইমেন অ্যান্ড ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত একটি কনসোর্টিয়াম উদ্যোগ। এতে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বনহিশিখা ও দ্য আর্থ সোসাইটি।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকল্পটি নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন জোট—উইমেনস ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন অ্যালায়েন্সের (শেরা) কার্যক্রমেও সহায়তা করে। জলবায়ুনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণ বাড়ানো এ নেটওয়ার্কের অন্যতম লক্ষ্য।

গ্রিন ভয়েসেসের গবেষণা সহযোগী হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রি-ইআর জলবায়ুনীতি বিশ্লেষণ ও তথ্য-প্রমাণ তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় নীতির অগ্রাধিকারের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রয়োজনের সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কপ-৩১ সামনে রেখে গবেষণা, বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ ও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের অভিজ্ঞতাকে একত্র করে বাংলাদেশের জলবায়ুনীতি প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে চায় গ্রিন ভয়েসেস। সম্মেলনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু কার্যক্রমের বাস্তবায়নেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে চায়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ১০৭ চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


চট্টগ্রামে ১০৭ চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ চুরি হওয়া ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া এসব মোবাইল তাদের মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি মালিকদের হাতে মোবাইলগুলো তুলে দেন।

মাসুদ আলম এ সময় বলেন, "জনগণের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হারানো মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনমুখী পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।" তিনি আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানায় দায়েরকৃত মোবাইল হারানো সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যালোচনা করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সমন্বয়ে পরিচালিত নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে ১০৭টি মোবাইল ফোন সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেল প্রকল্পে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল এলঅ্যান্ডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


মেট্রোরেল প্রকল্পে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল এলঅ্যান্ডটি

ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজের চুক্তি ভারতের শীর্ষস্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) অর্জন করেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, তাদের পরিবহন ব্যবসা বিভাগ ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এই কাজের চুক্তি পেয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের এই চুক্তিকে বড় চুক্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের কাজ পেয়েছে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নে এলএন্ডটি'র ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্লাস্ট্রাকচার বিভাগ জাপানের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান সুমিটমো কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে কাজ করবে। চুক্তির আওতায় রেলপথ নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি) স্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এলঅ্যান্ডটি এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলওয়ে সিস্টেম প্যাকেজের কাজও পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ওই প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।

এ বিষয়ে এলঅ্যান্ডটি'র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের প্রধান রামকুমার এস বলেন, "ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর কাছ থেকে বারবার অর্ডার পাওয়াটা বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পরিসরের, সমন্বিত নগর গণপরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে এলঅ্যান্ডটি'র সক্ষমতারই প্রমাণ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা মেট্রোর কাজও প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন।

উল্লেখ্য, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পটি প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করবে। এই প্রকল্পের মধ্যে কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এয়ারপোর্ট রুট এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত পূর্বাচল রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ১৯টি স্টেশন ও পিতালগঞ্জে একটি ডিপো থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজ্জাকের মেজ ছেলে বাপ্পী অভিনয়ে আসেননি, কানাডায় বসবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


রাজ্জাকের মেজ ছেলে বাপ্পী অভিনয়ে আসেননি, কানাডায় বসবাস

নায়করাজ রাজ্জাকের তিন ছেলে রয়েছেন—বাপ্পারাজ, বাপ্পী ও সম্রাট। বড় ছেলে বাপ্পারাজ এবং ছোট ছেলে সম্রাট অভিনয়ের জগতে সক্রিয় থাকলেও, মেজ ছেলে রওশন হোসেন বাপ্পী বরাবরই আড়ালে অবস্থান করেছেন। পর্দার সামনে তার উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়, বরং পর্দার বাইরেও তিনি খুব একটা প্রকাশ্যে আসেন না। প্রায় এক দশক ধরে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি। সম্প্রতি, সেখান থেকে একটি পডকাস্টে যোগ দিয়ে বাবা রাজ্জাককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন বাপ্পী। তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ে না এলেও বাবার সিনেমার প্রযোজনার কাজে ক্যামেরার পেছনে থেকে সক্রিয় ছিলেন।

অনেকের ধারণা, বাপ্পী ছোটবেলা থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে পডকাস্টে তিনি জানান, তার জীবনের দীর্ঘ সময় মা-বাবার সঙ্গেই কেটেছে। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকার তেজগাঁও শাহীন স্কুল, নটর ডেম কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৪ সালে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন। তবে ছেলের বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রথমে রাজি ছিলেন না নায়করাজ।

সেই স্মৃতি মনে করে বাপ্পী বলেন, ‘অন্য ভাইবোনদের মতো আমিও তেজগাঁও শাহীন স্কুলে পড়েছি। এরপর নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৪ সালে কানাডায় চলে আসি। আমি যখন চলে আসি, আব্বা একেবারেই রাজি ছিলেন না। বারবার বলছিলেন—সেখানে গিয়ে তুমি কী করবে? তখন আমার মেয়ে কানাডায় পড়ালেখা করছিল। তাকে বোঝানোর পর তিনি রাজি হন। উনি কিন্তু খুব কঠিন মানুষ ছিলেন। নিজের অনুভূতি সবাইকে বুঝতে দিতেন না। আমি চলে আসার পর আম্মার কাছ থেকে শুনেছি, রুম বন্ধ করে আব্বা অনেক কেঁদেছিলেন।’

বাবার কান্নার সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাপ্পী। একসময় যাকে কঠোর মানুষ হিসেবে দেখেছেন, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা মনে করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়, বাবার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত হন বাপ্পী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠানটির কাজ দেখাশোনা করতেন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে বাপ্পী বলেন, “আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন আব্বা বললেন, তুমি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি দেখো। এরপর পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনে সময় দিতে শুরু করি। ‘সৎ ভাই’ সিনেমা থেকে আমি প্রযোজনার কাজের সঙ্গে যুক্ত। এরপর ‘চাপাডাঙ্গার বউ’ দিয়ে বড় ভাই বাপ্পারাজ সিনেমায় নাম লেখায়। আর সম্রাট তখন অনেক ছোট।”

একসময় অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল বাপ্পীর। মার্শাল আর্টও শিখেছিলেন তিনি। কিন্তু পড়াশোনার চাপ এবং পরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত অভিনয়ে আসা হয়নি তার।

এ প্রসঙ্গে বাপ্পী বলেন, “অভিনয় করার আগ্রহ ছিল। মার্শাল আর্টও শিখেছিলাম। কারণ সে সময় সোহেল রানা আঙ্কেল মার্শাল আর্টের সিনেমা শুরু করেছিলেন, যা আমার খুব ভালো লেগেছিল। আব্বাও মার্শাল আর্ট শিখতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় আর মনোযোগ দিতে পারিনি। এরপর ব্যবসায় যখন ঢুকে গেলাম, তখন মন ঘুরে যায়। তবে সিনেমার পেছনে অনেক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বিশেষ করে ‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা থেকে শুরু করে রেকর্ডিং পর্যন্ত আব্বার সঙ্গেই ছিলাম।”

পর্দায় অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক। তবে পরিবারের কাছে তিনি কেমন ছিলেন, সে কথাও জানিয়েছেন বাপ্পী। তার ভাষায়, সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রে যেমন কঠোর ছিলেন রাজ্জাক, তেমনি তাদের প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ।

বাপ্পী বলেন, ‘বাবা হিসেবে উনি ছিলেন অসাধারণ। একজন পারফেক্ট বাবা হিসেবে সন্তানদের যেভাবে মানুষ করতে হয়, ঠিক সেভাবেই আমাদের গড়ে তুলেছেন। উনার শাসন যেমন কড়া ছিল, তেমনি সন্তানদের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। সন্তানদের সময় দেওয়া, খোঁজখবর রাখার বিষয়গুলো তিনি খুব খেয়াল রাখতেন। প্রায়ই আমাদের নিয়ে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যেতেন।’

বাবার কঠোর শাসনের পেছনে যে সন্তানদের ভালো রাখার চিন্তা ছিল, তা বড় হওয়ার পর আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন বাপ্পী। সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে না থাকার নিয়ম থেকে শুরু করে সন্তানদের জন্য বাড়িতে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা—সবকিছুই ছিল রাজ্জাকের পরিকল্পনার অংশ।

এ প্রসঙ্গে বাপ্পী আরও বলেন, ‘উনার কড়া শাসনটা আমাদের খুব কাজে লেগেছে। সে সময় হয়তো মাঝে মাঝে মনে করতাম, উনি এত কড়া কেন? এত রাগারাগি কেন করেন? এখন বুঝি, আমাদের ভালোর জন্যই তিনি এমন করতেন। উনার কড়া নিয়ম ছিল, সন্ধ্যার পর আমরা ঘরের বাইরে থাকতে পারব না। এ কারণে বাসার মধ্যেই অনেক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সুইমিংপুল, পশুপাখি, বিড়াল—সবকিছু ছিল আমাদের। ছুটির দিনে আমাদের বন্ধুরাও বাসায় চলে আসত। আমাদের তো খারাপ পথে যাওয়ার কোনো রাস্তাই ছিল না। কারণ আব্বার কারণে সবাই আমাদের চিনত। কিছু হলেই বাসায় খবর চলে আসত। আমরাও খুব সাবধানে থাকতাম। আব্বা সব সময় বলতেন—এমন কিছু কোরো না, যাতে মানুষ তোমাদের খারাপ বলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন সাহিল চৌহান ও অপর ক্রিকেটাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন সাহিল চৌহান ও অপর ক্রিকেটাররা

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে দ্রুত সেঞ্চুরি করা যেকোনো ব্যাটারের জন্য একটি বিশাল সাফল্য। মাত্র ১২০ বলের ইনিংসে তিন অঙ্কের রান করতে হলে পুরো দলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের প্রয়োজন হয়। তবে কিছু ব্যাটার এককভাবে অবিশ্বাস্য গতিতে শতকের দেখা পেয়েছেন।

এখন দেখা যাক, এই কীর্তি অর্জনকারী ক্রিকেটারদের নামগুলো কী কী-

১. সাহিল চৌহান (এস্তোনিয়া) — ২৭ বল

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডটি এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের দখলে। ২০২৪ সালের ১৭ জুন সাইপ্রাসের বিপক্ষে তিনি মাত্র ২৭ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তার ইনিংসে ছিল ১৮টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত তিনি ৪১ বলে ১৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

২. মুহাম্মদ ফাহাদ (তুরস্ক) — ২৯ বল

২০২৫ সালের ১২ জুলাই বুলগেরিয়ার বিপক্ষে তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ মাত্র ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেন। তার এই ইনিংসটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম শতক হিসেবে স্থান করে নেয়।

৩. অভিষেক শর্মা (ভারত) — ৩০ বল

ভারতের বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক শর্মা ২০২৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেন। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ব্যাটারদের মধ্যে এটি দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতকের অন্যতম নজির।

৪. ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনজন — জান নিকোল লফটি-ইটন (নামিবিয়া), সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে), ফিন অ্যালেন (নিউজিল্যান্ড)

২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন নামিবিয়ার জান নিকোল লফটি-ইটন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর গাম্বিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন। তার অপরাজিত শতকে নিউজিল্যান্ড সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। পূর্ণ সদস্য দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্রুততম সেঞ্চুরি।

৫. কুশল মাল্লা (নেপাল) — ৩৪ বল

২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে নেপালের কুশল মাল্লা মাত্র ৩৪ বলে সেঞ্চুরি করেন। তার এই ইনিংসটি নেপালের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত।

৬. ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছেন চারজন — ডেভিড মিলার (দক্ষিণ আফ্রিকা), রোহিত শর্মা (ভারত), সুদেশ বিক্রমাসেকারা (চেক প্রজাতন্ত্র), অভিষেক শর্মা (ভারত)

২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট তুরস্কের বিপক্ষে সুদেশ বিক্রমাসেকারা সেঞ্চুরি করেন। ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন অভিষেক শর্মা।

৭. ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন দুইজন — অভিষেক শর্মা (ভারত), টিম ডেভিড (অস্ট্রেলিয়া)

২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক এই কীর্তি গড়েন। একই বছর ২৫ জুলাই এই রেকর্ডে ভাগ বসান টিম ডেভিড।

৮. ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করেছেন দুইজন — জনসন চার্লস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ফিল সল্ট (ইংল্যান্ড)

২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন চার্লস। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রেকর্ডে ভাগ বসান সল্ট।

৯. সাঞ্জু স্যামসন (ভারত) — ৪০ বল

বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর এই রেকর্ড গড়েন স্যামসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%