বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৩৪ পি.এম
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে একটি গৃহবধূকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরীর সাধুর মোড় এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ির স্বজনরা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওসিসি ইউনিটে ভর্তি করেন। অভিযোগকারী হীরা ইয়াসমিন (৩৫) জানান, তিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে স্বামী আল-মামুন সনেটের সঙ্গে সংসার করছেন। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ দিন আগে ব্যবসার কথা বলে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হলে, তিনি এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে ৭০ হাজার টাকা দেন। এরপর আবারো ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী সনেট তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে নাকে ঘুষি মারলে তিনি রক্তাক্ত হন এবং মাটিতে পড়ে যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করতে এলে অভিযুক্ত ঘোড়ার চাবুক দিয়ে মারধর করেন। এতে তার পিঠে আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। এ সময় তাদের ছোট ছেলে-কে লাথি মারা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী হীরা ইয়াসমিনের দাবি, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে তিনি নিয়মিত ইয়াবা এবং মদ সেবন করেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। তিনি এ নির্যাতনের বিচার এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ চান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল-মামুন সনেটের বাবা আসলাম আলী জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং পরিবারের কারও কথা শোনেন না। তাকে শাসন করতে গেলে উল্টো মারমুখী আচরণ করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও নমরুদ বলে তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, একজন বাবা হিসেবে তিনি নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন এবং ছেলের আচরণে বিব্রত। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সনেট বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মাসুমা মুস্তারী জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসা এক নারী পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে জরিমানা এবং কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে কসবা উপজেলা সদরের তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষা শুরুর আগে প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় এ ঘটনা ধরা পড়ে। আটক দুইজন হলেন কসবা মহিলা কলেজের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান (১৮) এবং তার ফুফাতো ভাই ইনজামুল হক (১৯)।
প্রসঙ্গত, পরীক্ষা কেন্দ্রের সূত্রে জানা যায়, তাসফিয়া রহমান তার ফুফাতো ভাইয়ের সহযোগিতায় একটি ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন। পরীক্ষা শুরুর আগে অ্যাডমিট কার্ড যাচাইয়ের সময় কার্ডে উল্লেখিত কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা দেয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত করেন যে, এটি ভুয়া।
অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অ্যাডমিট কার্ড যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মেলার ক্ষেত্রে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা যাচাই করে নিশ্চিত হন যে কার্ডটি ভুয়া। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। ঘটনার পর আটক দুইজনকে কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে রাখা হয় এবং উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম বলেন, ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে তারা আটক হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে বসা নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ভুলবশত অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল।
পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা লিখিত প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ২৫ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আসাদুল ইসলাম জানান, "যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেয়া হোক, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে।" তিনি আরো জানান, সমস্যাটি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান জানান, "বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানোর কথা।" তিনি আরও বলেন, "প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই বাছাই করে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে প্রধান মূল্যসূচক কমলেও ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা পরিমাণ লেনদেন হয়েছে এবং ১৬৩ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন মোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০৫টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯২টি কোম্পানির মোট ৪২ কোটি ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৯১টি শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৬৩টির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৮৫টির কমেছে এবং ৪৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ওইদিন মোট ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৭০ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে।
দিন শেষে, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৪৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএস-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ দশমিক ১ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) শূন্য দশমিক ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল মালেক স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, আইপিডিসি, সিটি ব্যাংক, আইটিসি, স্কয়ার ফার্মা এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইল।
অন্যদিকে দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, সমরিতা হাসপাতাল, মালেক স্পিনিং, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, তিতাস গ্যাস, শাইনপুকুর সিরামিকস, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, বিজিআইসি, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স।
দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল রিজেন্ট টেক্সটাইল, ন্যাশনাল ফিডস, আজিজ পাইপস, ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স, হামিদ ফেব্রিকস, রহিমা ফুডস, বিডি থাই ফুডস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, রহিম টেক্সটাইল, এবি ব্যাংক এবং এপেক্স স্পিনিং।
ক্যাটাগরিভিত্তিক হিসাবে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৮টির মধ্যে ৯৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৮২টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৮টির কমেছে এবং ছয়টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ‘এন’ ক্যাটাগরির একমাত্র প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২০টির মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এ ছাড়া, লেনদেন হওয়া ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ছয়টির ইউনিটদর বেড়েছে, ১৩টির কমেছে এবং ১৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
করপোরেট বন্ডের চারটি ইস্যুর মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে এবং ১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজের (জি-সেক)-এর তিনটি ইস্যুর সবকটির দর কমেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে কারখানার ভবন নিরাপত্তা উন্নয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সহায়তাপ্রাপ্ত ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্টের (ইউবিএসপি) আওতায় অর্থায়ন ত্বরান্বিত করতে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (পিএফআই) জন্য খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সংক্রান্ত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার প্রকল্পটির কম্পোনেন্ট-১-এর আওতায় ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট (বিডি-পি৮৪)’-এর পরিচালনা নির্দেশিকা (অপারেটিং গাইডলাইন) সংশোধন করে একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, পরিচালনা নির্দেশিকার ৪.১(৬) ধারা সংশোধন করে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ভবন নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নে সক্ষম আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিধি বাড়িয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করতেই এ সংশোধন আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে কারখানার সংস্কার, নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং কর্মপরিবেশের মানোন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ঋণ বিতরণ দ্রুততর হবে। এর মাধ্যমে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট (এসএমইএসপিডি) জাইকার প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের (পিআইইউ) সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
সার্কুলারে অংশগ্রহণকারী সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংশোধিত বিধান অবিলম্বে তাদের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সংশোধিত এ বিধান ছাড়া পরিচালনা নির্দেশিকার অন্যান্য সব শর্ত ও বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ