প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে একটি গৃহবধূকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরীর সাধুর মোড় এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ির স্বজনরা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওসিসি ইউনিটে ভর্তি করেন। অভিযোগকারী হীরা ইয়াসমিন (৩৫) জানান, তিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে স্বামী আল-মামুন সনেটের সঙ্গে সংসার করছেন। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ দিন আগে ব্যবসার কথা বলে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হলে, তিনি এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে ৭০ হাজার টাকা দেন। এরপর আবারো ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী সনেট তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে নাকে ঘুষি মারলে তিনি রক্তাক্ত হন এবং মাটিতে পড়ে যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করতে এলে অভিযুক্ত ঘোড়ার চাবুক দিয়ে মারধর করেন। এতে তার পিঠে আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। এ সময় তাদের ছোট ছেলে-কে লাথি মারা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী হীরা ইয়াসমিনের দাবি, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে তিনি নিয়মিত ইয়াবা এবং মদ সেবন করেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। তিনি এ নির্যাতনের বিচার এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ চান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল-মামুন সনেটের বাবা আসলাম আলী জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং পরিবারের কারও কথা শোনেন না। তাকে শাসন করতে গেলে উল্টো মারমুখী আচরণ করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও নমরুদ বলে তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, একজন বাবা হিসেবে তিনি নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন এবং ছেলের আচরণে বিব্রত। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সনেট বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মাসুমা মুস্তারী জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন