বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল ১২ অক্টোবর ২০২৬
০৬:৩৮ পি.এম
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অক্টোবর মাসের নিয়মিত মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. তারিখ সকালে বরিশাল পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত কমিশনার জনাব আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, ডিবি ও অন্যান্য শাখা থেকে আগত অফিসার ও ফোর্সদের সার্ভিস কল্যাণমূলক বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিএমপি কমিশনার উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নানা সমস্যার কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং তৎকালীন সমাধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা, অর্জিত ছুটি মঞ্জুর, নিয়মিত বেতন-রেশন, ডাইনিং ও ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নসহ সর্বাঙ্গীন কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমপি কমিশনার জনাব আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, “জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরি। কল্যাণমূলক প্রতিটি বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট রয়েছে।” একই সাথে তিনি দায়িত্ব পালনে শতভাগ পেশাদারিত্ব, নীতি-নৈতিকতা এবং কড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতি জোর তাগিদ দেন।
নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান প্রসঙ্গে কমিশনার আরও বলেন, “নগরীতে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা, শারীরিক ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নির্মূলে পুলিশকে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।”
কল্যাণ সভার শুরুতে বিএমপিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় সম্প্রতি মৃত্যুবরণকারী এএসআই মোঃ নজরুল ইসলাম আকনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া, সুদীর্ঘ সফল চাকরি জীবন শেষে অবসরে যাওয়া বিএমপির সশস্ত্র এএসআই (১৭৪) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম তালুকদারকে মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সম্মানজনক বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) জনাব আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব সুশান্ত সরকার (পিপিএম)-সহ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ী দুরুদ মিয়া হত্যা মামলায় আদালত এক আসামির জন্য মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে সাতজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজারের নাজিরাবাদের নারাইন পাশা গ্রামের ব্যবসায়ী দুরুদ মিয়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের সাদিক মিয়া সেখানে উপস্থিত হলে দুরুদ মিয়া তার পাওনা টাকা দাবি করেন। সাদিক মিয়া এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকান থেকে বের হয়ে যান। পরে তিনি দলবদ্ধভাবে দোকানে ফিরে এসে ধারালো ছুরি দিয়ে দুরুদ মিয়াকে আঘাত করে পালিয়ে যান।
দুরুদ মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় তার ছেলে মকবুল মিয়া সাদিক মিয়া ও অন্য সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন এবং অপর সাতজনকে বেকসুর খালাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন দুই মার্কিন অধ্যাপক, রবার্ট ই. হল এবং মাইকেল উডফোর্ড। তাদেরকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র অর্থনীতির ভিত্তিতে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য তাদের গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এই পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম হলো ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুরস্কার’। সাধারণভাবে এটি অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার হিসেবেই পরিচিত।
হল এবং উডফোর্ডের গবেষণার কেন্দ্রীয় বিষয় হলো, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এই ধরনের গবেষণা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক ওঠানামা মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বছর অর্থনীতিতে পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বিজয়ীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য যে, অর্থনীতির এই পুরস্কারটি ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা চালু করা হয়। যদিও এটি আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে দেওয়া হয়, এটি নোবেলের মূল উইলে উল্লিখিত পাঁচটি পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত নয়।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মায়ের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা নেই, এমনকি যদি তাকে সঙ্গে রাখা হয় তবে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন পাবনার সাঁথিয়ার গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। কিন্তু এখন সেই সাগর মাকে কাছে পেয়ে আনন্দিত। বৃদ্ধ মা মুন্নি খাতুনও ছেলের সঙ্গে থাকতে পেরে খুশি।
রোববার (১১ অক্টোবর) পাবনার বিজ্ঞ আদালতের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মা-ছেলের মধ্যে বিরোধের সমাধান হয়। আদালতে সাগর তার মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর থেকে তিনি মাকে নিজের সঙ্গেই রেখেছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সাগর মাকে নিয়ে সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন। তার সঙ্গে ছিলেন মামা ও খালু। ইউএনও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে সাগর মাকে সারা জীবন নিজের কাছে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় মা-ছেলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
সাগর হোসেন বলেন, ‘রাগের মাথায় মাকে সঙ্গে না রাখার কথা বলেছিলাম। এরপর থেকে অনুশোচনায় তিন দিন ঘুমাতে পারিনি। এখন বুঝতে পেরেছি, জীবনের বাকি সময় মাকে নিজের কাছেই রাখব।’
মা মুন্নি খাতুন জানান, ছেলের প্রতি তার কোনো রাগ-অভিমান নেই। ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে যত্ন করছেন। তিনি ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, ‘মা-ছেলের বিরোধ মেটাতে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়। মা-ছেলেকে একসঙ্গে দেখে আমি আনন্দিত।’
দীর্ঘদিনের অভিমান ও বিরোধ পেছনে ফেলে মা-ছেলে এখন একই ছাদের নিচে। মুন্নি খাতুনের চাওয়া ছিল সামান্য, ছেলের কাছে একটু আশ্রয়। অবশেষে সেই চাওয়াই পূরণ হলো।
উল্লেখ্য, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি ছিলেন না পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। তাই ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মা মুন্নি খাতুন।
মায়ের করা অভিযোগের শুনানিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদের সামনে সাগর বলেন, ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।’
অন্যদিকে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত অসহায় মা মুন্নি খাতুনের আকুতি, জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থেকে নুন-পান্তা খেয়েও বাকি জীবনটা কাটাতে চান তিনি।
অভিযুক্ত সাগর হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্নি খাতুনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সাগর ও এক মেয়ে রয়েছেন। মেয়েটিরও বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে মায়ের প্রধান অবলম্বন এখন একমাত্র ছেলে সাগর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগর হোসেনের বিয়ের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ছেলে মাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেয়া বন্ধ করে দেন এবং নিজের সঙ্গে রাখতেও অনীহা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ