০৭:০৫ পি.এম
মায়ের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা নেই, এমনকি যদি তাকে সঙ্গে রাখা হয় তবে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন পাবনার সাঁথিয়ার গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। কিন্তু এখন সেই সাগর মাকে কাছে পেয়ে আনন্দিত। বৃদ্ধ মা মুন্নি খাতুনও ছেলের সঙ্গে থাকতে পেরে খুশি।
রোববার (১১ অক্টোবর) পাবনার বিজ্ঞ আদালতের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মা-ছেলের মধ্যে বিরোধের সমাধান হয়। আদালতে সাগর তার মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর থেকে তিনি মাকে নিজের সঙ্গেই রেখেছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সাগর মাকে নিয়ে সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন। তার সঙ্গে ছিলেন মামা ও খালু। ইউএনও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে সাগর মাকে সারা জীবন নিজের কাছে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় মা-ছেলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গার পাচুড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছাত্রনেতা আরব, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে দোয়া কামনা
সাগর হোসেন বলেন, ‘রাগের মাথায় মাকে সঙ্গে না রাখার কথা বলেছিলাম। এরপর থেকে অনুশোচনায় তিন দিন ঘুমাতে পারিনি। এখন বুঝতে পেরেছি, জীবনের বাকি সময় মাকে নিজের কাছেই রাখব।’
মা মুন্নি খাতুন জানান, ছেলের প্রতি তার কোনো রাগ-অভিমান নেই। ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে যত্ন করছেন। তিনি ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, ‘মা-ছেলের বিরোধ মেটাতে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়। মা-ছেলেকে একসঙ্গে দেখে আমি আনন্দিত।’
দীর্ঘদিনের অভিমান ও বিরোধ পেছনে ফেলে মা-ছেলে এখন একই ছাদের নিচে। মুন্নি খাতুনের চাওয়া ছিল সামান্য, ছেলের কাছে একটু আশ্রয়। অবশেষে সেই চাওয়াই পূরণ হলো।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ৪৫ দিনের নবজাতককে কোলে নিয়ে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ আলফাডাঙ্গার দম্পতি গ্রেপ্তার
উল্লেখ্য, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি ছিলেন না পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। তাই ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মা মুন্নি খাতুন।
মায়ের করা অভিযোগের শুনানিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদের সামনে সাগর বলেন, ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।’
অন্যদিকে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত অসহায় মা মুন্নি খাতুনের আকুতি, জীবনের শেষ সময়ে ছেলের সঙ্গে থেকে নুন-পান্তা খেয়েও বাকি জীবনটা কাটাতে চান তিনি।
অভিযুক্ত সাগর হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত।
আরও পড়ুন: কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি, দুই জেলে নিখোঁজ; একজন উদ্ধার
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্নি খাতুনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সাগর ও এক মেয়ে রয়েছেন। মেয়েটিরও বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে মায়ের প্রধান অবলম্বন এখন একমাত্র ছেলে সাগর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগর হোসেনের বিয়ের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ছেলে মাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেয়া বন্ধ করে দেন এবং নিজের সঙ্গে রাখতেও অনীহা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন