ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রবাসীদের অকালমৃত্যু বাড়ছে কেন? মালদ্বীপে ছয় মাসে প্রাণ হারায় ৪৫ বাংলাদেশি


প্রবাসীদের অকালমৃত্যু  বাড়ছে কেন? মালদ্বীপে ছয় মাসে প্রাণ হারায় ৪৫ বাংলাদেশি

দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটননির্ভর দেশ মালদ্বীপে লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। গত ছয় মাসে দেশটিতে বিভিন্ন কারণে ৪৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মৃতের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে রয়েছে। এই অকালমৃত্যুতে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্যানুসারে, গত ছয় মাসে মারা যাওয়া ৪৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে ৩৫ জন হৃদরোগ বা স্ট্রোকজনিত কারণে, আটজন কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় এবং দুজন আত্মহত্যায় মারা গেছেন।

হাইকমিশন জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ৪৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে ৩৫ জন মালদ্বীপে বৈধভাবে কর্মরত ছিলেন, তবে বাকি ১০ জন অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় দেশে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বহন করেছে।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপ বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহী

মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মতে, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, ঋণের বোঝা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ প্রবাসীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ সময় কাজ, পরিবারের জন্য অর্থ পাঠানোর চাপ এবং চিকিৎসা নিতে অবহেলা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

প্রবাসীদের সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যসচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিকল্প নেই বলেও চিকিৎসকরা জানান।

দেশটিতে একের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব প্রবাসীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এ পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। প্রবাসীদের অকালমৃত্যু রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান মো. মোতাসেম বিল্লাহ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষাবিধি মেনে চলা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: টোকিওতে তারেক রহমানের সংবর্ধনা প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রামের অভাব এবং মানসিক চাপ হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নির্মাণসহ ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত প্রবাসীদের নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার এবং সহকর্মীদের অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

একই সঙ্গে, অবৈধভাবে কর্মরত কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না—এমন প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।

মালদ্বীপে গত বছর ৪৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছিল, তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে স্ত্রী-কন্যাকে বাধ্য হওয়া জাতির জন্য লজ্জা: প্রতিমন্ত্রী নুর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত ইইউ ও বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


অভিবাসন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত ইইউ ও বাংলাদেশ

অভিবাসন সমস্যার সামগ্রিক সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্বকে স্বীকার করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের মধ্যে সাক্ষাতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সময় ইইউ কমিশনার তাঁদের ‘ইস্টার্ন করিডর ইনিশিয়েটিভ’ উপস্থাপন করেন। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে যুক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ করা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই বিষয়ে সহযোগিতায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি কমিশনারকে অবহিত করেন যে, নথিপত্র জালিয়াতি এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, যাতে নিয়মিত অভিবাসনের পথ সুগম হয়। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বহুমাত্রিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনার খাকদোন নদীর ২১ কিলোমিটার খালের ১৭ কিলোমিটার অচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


বরগুনার খাকদোন নদীর ২১ কিলোমিটার খালের ১৭ কিলোমিটার অচল

বরগুনার খাকদোন নদীর অন্তত ১৭ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে মৃত অবস্থায় রয়েছে। কয়েক দশক ধরে খনন না করা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং দখলের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক সময় যে নদী দিয়ে পণ্য ও যাত্রীবাহী বড় বড় নৌযান চলাচল করত, সেখানে এখন নাব্যতা সংকটে নৌযোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। মাছের উৎপাদনও কমেছে। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষিকাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থার মোকাবেলায় নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদীর সংযোগস্থল খাকদোন নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন খনন না করার ফলে নদীর বড় অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক ও বাঁধ, আবার কোথাও দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কাঁচা-পাকা স্থাপনা। কিছু অংশে মাছ চাষও চলছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক নির্মাণ ও বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এক সময় নৌযান চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে অনেক স্থানে নদীটি সরু খাল বা জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন খনন না করার কারণে নদীটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় কমেছে। নদীপথে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে, যা কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খাকদোন নদীর নাব্যতা সংকট নিরসন এবং পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরগুনা পৌরসভার টাউন হল এলাকা থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত নদীটির প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাজের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া খাকদোন নদী খননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং নৌযোগাযোগ, মৎস্যসম্পদ ও কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় অধিবাসী কামাল মল্লিক জানান, "এই নদীতে ভাটার সময় পানির থাকে না। জোয়ারের সময় যে পানি ওঠে, তা ফসলের খেত পর্যন্ত পৌঁছায় না। একদিকে নদীর অস্তিত্ব যেমন বিলীন হয়ে গেছে, অন্যদিকে কৃষকরা পানি না পাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।"

রবিউল ফকির নামে একজন জানান, "সরকারি নদীটিকে মেরে ফেলেছে বেশ কিছু রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর গতিপথ বন্ধ করে ছোট ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এছাড়া স্লুইস গেট এবং কালভার্টতো আছেই। স্থানীয়দের নৌ যোগাযোগ নিশ্চিত করা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি কাজে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য খালি খনন করা খুবই জরুরি।"

স্থানীয়রা বৃদ্ধ রশিদ হাওলাদার বলেন, "এই নদী দিয়ে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতো। আমি স্বচক্ষে তা দেখেছি। কিন্তু এখন একটি ছোট ডিঙি নৌকা চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। নদীটি খনন করা হলে এই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। অন্তত কৃষকদের সুবিধার জন্য ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নদীটি খনন করা এখন খুবই জরুরি।"

এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, "ইতোমধ্যেই আমরা নদীটি খননের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করেছি। এটি মন্ত্রণালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব শিগগিরই এটি অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নদীটি খনন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। নদীর অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা হলে -নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার, চলছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার, চলছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত চার জেলেকে উদ্ধার করেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রকাশ করেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন: মইনুর (৫০), বাদশা গাজী (৩৯), সুজন হোসেন (৩৪) এবং ইমামুল মল্লিক (২২)। তারা সকলেই খুলনার পাইকগাছা থানার অধিবাসী। উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল করার লক্ষ্যে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের বনদস্যু সম্রাট বাহিনী শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, ১১ অক্টোবর দুপুর ২টায় কোস্টগার্ড সেখানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়, ফলে ওই এলাকা থেকে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ১০ অক্টোবর সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা তাদের অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে  সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত আছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।

সরকার প্রধান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। 

এ সময়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

এদিকে বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

এছাড়া বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোয় সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডা আগ্রহী বলে বৈঠকে জানানো হয়। বর্তমানে এ খাতে কানাডার কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণে দেশটির পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রচেষ্টায় কানাডার সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের কথাও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।’

তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। 

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব বলে বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।’

বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে কানাডা ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেবে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহী বলে জানায় প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই।

তিনি তাদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কানাডার পক্ষে দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%