ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরগুনার খাকদোন নদীর ২১ কিলোমিটার খালের ১৭ কিলোমিটার অচল


বরগুনার খাকদোন নদীর ২১ কিলোমিটার খালের ১৭ কিলোমিটার অচল

বরগুনার খাকদোন নদীর অন্তত ১৭ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে মৃত অবস্থায় রয়েছে। কয়েক দশক ধরে খনন না করা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং দখলের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক সময় যে নদী দিয়ে পণ্য ও যাত্রীবাহী বড় বড় নৌযান চলাচল করত, সেখানে এখন নাব্যতা সংকটে নৌযোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। মাছের উৎপাদনও কমেছে। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষিকাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থার মোকাবেলায় নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদীর সংযোগস্থল খাকদোন নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন খনন না করার ফলে নদীর বড় অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক ও বাঁধ, আবার কোথাও দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কাঁচা-পাকা স্থাপনা। কিছু অংশে মাছ চাষও চলছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক নির্মাণ ও বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এক সময় নৌযান চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে অনেক স্থানে নদীটি সরু খাল বা জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন খনন না করার কারণে নদীটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় কমেছে। নদীপথে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে, যা কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর ৮১২ মণ্ডপে এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তা

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খাকদোন নদীর নাব্যতা সংকট নিরসন এবং পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরগুনা পৌরসভার টাউন হল এলাকা থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত নদীটির প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাজের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া খাকদোন নদী খননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং নৌযোগাযোগ, মৎস্যসম্পদ ও কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় অধিবাসী কামাল মল্লিক জানান, "এই নদীতে ভাটার সময় পানির থাকে না। জোয়ারের সময় যে পানি ওঠে, তা ফসলের খেত পর্যন্ত পৌঁছায় না। একদিকে নদীর অস্তিত্ব যেমন বিলীন হয়ে গেছে, অন্যদিকে কৃষকরা পানি না পাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।"

রবিউল ফকির নামে একজন জানান, "সরকারি নদীটিকে মেরে ফেলেছে বেশ কিছু রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর গতিপথ বন্ধ করে ছোট ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এছাড়া স্লুইস গেট এবং কালভার্টতো আছেই। স্থানীয়দের নৌ যোগাযোগ নিশ্চিত করা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি কাজে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য খালি খনন করা খুবই জরুরি।"

স্থানীয়রা বৃদ্ধ রশিদ হাওলাদার বলেন, "এই নদী দিয়ে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতো। আমি স্বচক্ষে তা দেখেছি। কিন্তু এখন একটি ছোট ডিঙি নৌকা চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। নদীটি খনন করা হলে এই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। অন্তত কৃষকদের সুবিধার জন্য ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নদীটি খনন করা এখন খুবই জরুরি।"

আরও পড়ুন: বকশীগঞ্জে সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সভা ও বিক্ষোভ

এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, "ইতোমধ্যেই আমরা নদীটি খননের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করেছি। এটি মন্ত্রণালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব শিগগিরই এটি অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নদীটি খনন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। নদীর অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা হলে -নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার, চলছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার, চলছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত চার জেলেকে উদ্ধার করেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রকাশ করেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন: মইনুর (৫০), বাদশা গাজী (৩৯), সুজন হোসেন (৩৪) এবং ইমামুল মল্লিক (২২)। তারা সকলেই খুলনার পাইকগাছা থানার অধিবাসী। উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল করার লক্ষ্যে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের বনদস্যু সম্রাট বাহিনী শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, ১১ অক্টোবর দুপুর ২টায় কোস্টগার্ড সেখানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়, ফলে ওই এলাকা থেকে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ১০ অক্টোবর সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা তাদের অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে  সহযোগিতা করতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত আছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।

সরকার প্রধান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। 

এ সময়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

এদিকে বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

এছাড়া বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোয় সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডা আগ্রহী বলে বৈঠকে জানানো হয়। বর্তমানে এ খাতে কানাডার কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণে দেশটির পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রচেষ্টায় কানাডার সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের কথাও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।’

তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। 

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব বলে বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।’

বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে কানাডা ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেবে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহী বলে জানায় প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই।

তিনি তাদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কানাডার পক্ষে দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'আমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার' : রোনালদো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজেকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এবং সবচেয়ে পরিপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করেন। পর্তুগিজ এই তারকা লিওনেল মেসি, পেলে কিংবা দিয়েগো ম্যারাদোনার ভক্তদের পছন্দকে সম্মান করেন। তবে, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তার মনে কোনো সন্দেহ নেই।

সম্প্রতি সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো উল্লেখ করেন, মানুষ তার বর্তমান ফর্ম এবং গোলের রেকর্ডকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ১ হাজার ৩৩৭ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৯৮০। হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, লক্ষ্য পূরণ হলে সেটি হবে দারুণ অর্জন। তবে, তিনি এ নিয়ে খুব বেশি দূর পর্যন্ত ভাবছেন না।

রোনালদোর এমন মন্তব্যের আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে এসে তিনি বিতর্কে জড়ান। কোচ জর্জ জেজুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এ ঘটনার পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২০০২ সালে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করা রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ক্লাবে খেলেছেন। বর্তমানে আল নাসরের এই তারকা পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। তবে, তার বিশ্বকাপ জেতা হয়নি।

অবসর নিয়ে রোনালদো নিশ্চিত নন। তার ভাষায়, আগামীকাল কী হবে, তা তিনি জানেন না। হঠাৎ একদিন খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলেও মনে করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি-ইয়েমেন উত্তেজনায় ইসরাইলের লাভ, আঞ্চলিক শান্তির আহ্বান ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


সৌদি-ইয়েমেন উত্তেজনায় ইসরাইলের লাভ, আঞ্চলিক শান্তির আহ্বান ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে তেহরান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ‘আমরা মনে করি, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তাতে কেবল ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থাই লাভবান হবে। আমরা চাই না, দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা চলতে থাকুক। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কারণে পুরো অঞ্চল আগে থেকেই উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।’

ইরানের মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, ইয়েমেনের জনগণের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ থেকে মুক্ত থাকার অধিকারও তাদের রয়েছে। বাঘাই বলেন, ‘গত ১০ থেকে ১২ বছরে ইয়েমেনের জনগণ যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গেছে, ইসলামের নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন, উভয়ের দৃষ্টিতেই তা কোনোভাবেই ন্যায্যতা পেতে পারে না।’

সৌদি আরবকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান

ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইরান সৌদি আরবকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এই আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের পর টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, সামরিক পন্থার ওপর জোর দিয়ে রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তিনি মন্তব্য করেন, এ অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই।

আরাঘচি জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

দীর্ঘদিনের বৈরিতার মধ্যেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি করে। এর পর দুই দেশের দূতাবাস পুনরায় চালু হয় এবং এখনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর আগে সাত বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের সমর্থিত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।

গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা আর কত দিন সহ্য করা হবে, তার সীমা রয়েছে। তিনি তেহরানকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%