প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনার খাকদোন নদীর অন্তত ১৭ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে মৃত অবস্থায় রয়েছে। কয়েক দশক ধরে খনন না করা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং দখলের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক সময় যে নদী দিয়ে পণ্য ও যাত্রীবাহী বড় বড় নৌযান চলাচল করত, সেখানে এখন নাব্যতা সংকটে নৌযোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। মাছের উৎপাদনও কমেছে। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষিকাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থার মোকাবেলায় নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননের উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদীর সংযোগস্থল খাকদোন নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন খনন না করার ফলে নদীর বড় অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক ও বাঁধ, আবার কোথাও দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কাঁচা-পাকা স্থাপনা। কিছু অংশে মাছ চাষও চলছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক নির্মাণ ও বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এক সময় নৌযান চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে অনেক স্থানে নদীটি সরু খাল বা জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন খনন না করার কারণে নদীটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় কমেছে। নদীপথে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে, যা কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খাকদোন নদীর নাব্যতা সংকট নিরসন এবং পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরগুনা পৌরসভার টাউন হল এলাকা থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত নদীটির প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাজের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া খাকদোন নদী খননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং নৌযোগাযোগ, মৎস্যসম্পদ ও কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় অধিবাসী কামাল মল্লিক জানান, "এই নদীতে ভাটার সময় পানির থাকে না। জোয়ারের সময় যে পানি ওঠে, তা ফসলের খেত পর্যন্ত পৌঁছায় না। একদিকে নদীর অস্তিত্ব যেমন বিলীন হয়ে গেছে, অন্যদিকে কৃষকরা পানি না পাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।"
রবিউল ফকির নামে একজন জানান, "সরকারি নদীটিকে মেরে ফেলেছে বেশ কিছু রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর গতিপথ বন্ধ করে ছোট ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এছাড়া স্লুইস গেট এবং কালভার্টতো আছেই। স্থানীয়দের নৌ যোগাযোগ নিশ্চিত করা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি কাজে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য খালি খনন করা খুবই জরুরি।"
স্থানীয়রা বৃদ্ধ রশিদ হাওলাদার বলেন, "এই নদী দিয়ে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতো। আমি স্বচক্ষে তা দেখেছি। কিন্তু এখন একটি ছোট ডিঙি নৌকা চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। নদীটি খনন করা হলে এই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। অন্তত কৃষকদের সুবিধার জন্য ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নদীটি খনন করা এখন খুবই জরুরি।"
এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, "ইতোমধ্যেই আমরা নদীটি খননের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করেছি। এটি মন্ত্রণালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব শিগগিরই এটি অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নদীটি খনন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। নদীর অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা হলে -নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন