ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দুপুর ২টায় পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দুপুর ২টায় পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ইশরাক হোসেন, যা মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্কের কারণে হচ্ছে।

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

ইশরাক হোসেন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।"

আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে সিআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, উদ্ধার গাড়ি ও সরঞ্জাম

তিনি আরও লেখেন, "ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।"

ইশরাক বলেন, "এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।"

তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার কথা উল্লেখ করে বলেন, "দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!"

আরও পড়ুন: গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সরকারের পরিষ্কার ব্যাখ্যা চায় নেজামে ইসলাম পার্টি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, জানালেন বাবা-মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, জানালেন বাবা-মা

সৌদি আরবের মক্কায় গোপনে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, তাদের না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় জনগণ উভয় দেশের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এবং রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

সৌদি আরবে পৌঁছানোর ৬ মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে পুলিশ নজরুল ও সুইটিকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি সরকার তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন নজরুল। তবে গত বুধবার কোনো পূর্বঘোষণা বা স্বজনদের অবগত না করেই তার ওপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে বিরামপুরে থাকা স্বজনেরা নজরুলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।

নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের না জানিয়ে এবং আমার ছেলেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।"

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।"

ভাইপোর মৃত্যুর খবর শুনে বুধবার রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম।

নজরুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় বাড়ছে। গ্রামবাসী জানান, সৌদি আরব সরকার বিভিন্ন নীতিতে শিথিলতা আনলেও বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন কট্টর সিদ্ধান্ত গ্রহণ হতাশাজনক। তারা দরিদ্র এই কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দুই দেশের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাঙালি মুসলিম নব জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে বিপ্লবদীপ্ত এই কবি মৃত্যুবরণ করেন। কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তৎকালীন বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণা তার কবিতায় পাওয়া যায়। দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহার ক্লিষ্টের করুণ পরিণতি, সমকালের সংকট, জরাগ্রস্ত বাস্তবতা এবং সাম্প্রদায়িকতার হিংস্রতা দেখে তিনি দগ্ধ হয়ে ওঠেন। এ সকল অসঙ্গতি তাকে সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা জোগায়।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত। বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামী ভাবধারার বাহক হলেও, তার কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন ও বাকপ্রতিমা অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আধুনিকতার নানা সৌকর্য তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত হয়েছে।

‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?/ এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? /সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে? / তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে; / অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি...’ এই ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় এবং কালজয়ী কবিতার জনক কবি ফররুখ আহমদ।

ফররুখ আহমদের পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী এবং মাতা বেগম রওশন আখতার। গ্রামের পাঠশালাতেই তার শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হয়। পরবর্তীতে তিনি কোলকাতায় গিয়ে তালতলা মডেল এম.ই স্কুলে ভর্তি হন। পরে কোলকাতার বিখ্যাত বালিগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলে ভর্তি হন। ঐ সময় কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রাথমিক জীবনে কবিত্ব বিকাশে কবি গোলাম মোস্তফা ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেন।

১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৯ সালে কোলকাতার রিপন কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন। ১৯৪১ সালে কোলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ ও সিটি কলেজে, প্রথমে দর্শন এবং পরে ইংরেজীতে অনার্সে ভর্তি হন। কিন্তু কলকাতা সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএতে ভর্তি হলেও, নানাবিধ কারণে পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি।

১৯৪৩ সালে আই.জি প্রিজন অফিসে চাকুরীর মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইয়ে এবং ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকুরী করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৮ সালে কোলকাতা থেকে ঢাকায় এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। ঢাকা বেতারে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ঢাকা বেতারে তিনি ‘ছোটদের খেলাঘর’ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। কবি ফররুখ আহমদ প্রথম যৌবনে ভারতবর্ষের বিখ্যাত কমরেড এম.এন রায়ের শিষ্য ছিলেন। তবে জন্মসূত্রে ইসলামী আদর্শ ও ঐতিহ্যের অধিকারী কবি একসময় ধর্মীয় চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। তার কবিতায় ইসলামী সমাজতন্ত্র মূর্ত হয়ে ওঠে।

কবি ফররুখ আহমদ সৃষ্ট সাহিত্যসম্ভার ভাষা তথা বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। দর্শনগতভাবে তিনি ছিলেন মানবতাবাদী কবি। নীতি আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। কবি ফররুখ আহমদের চিন্তাচেতনা দর্শন সবই ছিল এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তার কবিতা ছিল মানবতাবাদী দর্শনে পরিপূর্ণ, কিন্তু কাব্যে রসবোধেরও কমতি নেই।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-স্বীকৃত একজন অসাধারণ জননন্দিত কবি ফররুখ আহমদ। কবির সাহিত্য জীবনের শুরুতে ‘সওগাত’ পত্রিকায় ফররুখ সম্পর্কে আবু রুশদ লিখেছেন- ‘ফররুখ আহমদ রোমান্টিক কবি, অর্থাৎ তার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তব-বোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তার কাব্যে সৌন্দর্যের জয়গান অকুণ্ঠ, সুদূরের প্রতি আকর্ষণও তার কাব্যের আর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবুও তিনি নিঃসন্দেহে আধুনিক।’ প্রখ্যাত অনেক সমালোচক সাহিত্যিক ফররুখ আহমদ সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।

মানবতাবাদী ও জাতীয় জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ একজন আধুনিক ও সৃষ্টিশীল কবি হওয়ার পরও আত্মপরিচয় ভোলেননি কখনো। সাহিত্য সাধনার দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় তিনি আত্মবিমুখ হননি বরং তার কাব্য ও রচনায় ‘বাঙালি মুসলিম’ পরিচয়টি জাগিয়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন বারংবার।

তার প্রথম ও সেরা কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া আজাদ কর পাকিস্তান (১৯৪৬), সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১), মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩), হাতেম তায়ী (১৯৬৬), পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৬৮), নতুন লেখা (১৯৬৯), ছড়ার আসর (১৯৭০), নয়া জামাত (১৯৫০), হে বন্য স্বপ্নেরা (১৯৭৬), ইকবালের নির্বাচিত কবিতা (১৯৮০), চিড়িয়াখানা (১৯৮০), কাফেলা (১৯৮০), হাবেদা মরুর কাহিনি (১৯৮১), সিন্দাবাদ (১৯৮৩), কিসসা কাহিনি (১৯৮৪), ফুলের জলসা (১৯৮৪), তসবির নামা (১৯৮৬), মাহফিল (১৯৮৭), ফররুখ আহমদের গল্প (১৯৯০), ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য (১৯৯১), দিলরুবা (১৯৯৪) প্রভৃতি তার অমর সাহিত্যকীর্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১ লাখ ২৪ হাজার এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


১ লাখ ২৪ হাজার এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষায়

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভুল সংশোধন করতে গিয়ে হাজার হাজার নাগরিক ভোগান্তিতে পড়ছেন। কারো নাম ভুল, কারো জন্ম তারিখ, আবার কারো বাবা-মায়ের পরিচয়ে রয়েছে ভুল। এসব সংশোধনের জন্য বছরের পর বছর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান মিলছে না।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২৪ হাজার এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক আবেদন একাধিকবার বাতিল হওয়ার পর পুনরায় করা হয়েছে।

এনআইডির ভুলের কারণে চিকিৎসা, পাসপোর্ট, সন্তানের শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে তথ্যের মিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে নাম ও বয়সের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনে জালিয়াতির আশঙ্কা থাকায় ইসি সতর্কতার সঙ্গে আবেদন যাচাই করছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে সম্প্রতি ৭৬ বছর বয়সী উজ্জ্বল রানী সাহা জানতে পারেন যে তাঁর এনআইডি সংশোধনের আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে আবেদন করার পরেও সংশোধন না হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত লাঠিতে ভর দিয়ে নির্বাচন ভবনে যান।

উজ্জ্বল রানীর অভিযোগ, তাঁর এনআইডিতে জন্ম তারিখ, নিজের ও স্বামীর নামের বানানে ভুল রয়েছে। এসব ভুলের কারণে তিনি পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে পারেননি। ফলে ভারতে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও সংশোধন না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন শহিদুল ইসলাম। তাঁর এনআইডিতে নিজের নামের জায়গায় লেখা হয়েছে মাকসুদুর রহমান। পিতা-মাতার নামও ভুল রয়েছে। ২০২৪ সালে সংশোধনের আবেদন করে তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পরও সমাধান না পেয়ে চলতি বছরের জুনে ইসি সচিবের কাছে আপিল করেছেন তিনি।

মনির হোসেনের এনআইডিতে তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের নাম, পরিচয় ও বয়স যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। ভুল সংশোধনে পুরনো ছবিযুক্ত পরিচয়পত্রের প্রমাণ চাওয়ায় ১৯৯৭ সালে নেওয়া টিঅ্যান্ডটির ল্যান্ডফোন সংযোগের নথি খুঁজে জমা দিতে এসেছেন তিনি। শাকিল হোসেনের আবেদনও দুবার বাতিল হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে সংশোধনের জন্য তিনি ঘুরছেন।

এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মহাপরিচালকের এখতিয়ারভুক্ত ৬৯ হাজার ২৫২টি আবেদনসহ সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসবের বড় অংশ নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। পুরো নাম ও বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, কারণ এসব তথ্য পরিবর্তন করে কেউ অসৎ সুবিধা নিতে পারেন।

এনআইডি মহাপরিচালক এইচ এম আনোয়ার পাশা জানান, প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। প্রতিটি আবেদন দফায় দফায় যাচাই করা হয়। এভাবে কাজ চললে আগামী কয়েক মাসে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা অনেক কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঘাইছড়ির বটতলী সড়কে খানাখন্দ, যাতায়াতে দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


বাঘাইছড়ির বটতলী সড়কে খানাখন্দ, যাতায়াতে দুর্ভোগ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কেন্দ্রবিন্দু বটতলী সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার ফলে সড়কের পিচঢালাই উঠে গিয়ে বিভিন্ন অংশ চলাচলের জন্য একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, যাত্রী এবং সাধারণ পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অনতিবিলম্বে সড়কটির টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বটতলী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পরেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি কাদামাটির জলাশয়ে পরিণত হয়ে যায়। রাস্তার একাধিক স্থান বন্যার পানিতে ভেঙে ভেসে গেছে। এর ফলে যানবাহনের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়। প্রায় সময়ই সড়কের গর্তে পড়ে অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, ফলে বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ কাদাপানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির সময়ে এ দুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।

এক অটোরিকশাচালক হালিম বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। গর্তের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীরাও ঝুঁকির কারণে গাড়িতে উঠতে চান না।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর পার হলেও সড়কটির যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় তাঁদের এই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান।

বটতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, বটতলী সড়কের বেহাল দশা উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সড়কটির টেকসই সংস্কার ও নতুন করে পিচঢালাই করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী সাজু আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে বটতলী সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%