বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:১৪ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং ‘বোর্ড অফ পিস’-এর উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে মরক্কো।
উত্তর আফ্রিকার দেশটি প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশ হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল। গত ১৫ জুলাই রাজধানী রাবাতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আইএসএফ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বৌরিতা এবং ‘বোর্ড অফ পিস’-এর মহাপরিচালক নিকোলে ম্লাদেনভের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ অধিনায়ক এবং আল-কুদস কমিটির সভাপতির পদ গ্রহণ করেছেন; তার নির্দেশে এই সামরিক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজার রাফাহ শরণার্থী শিবিরে ৫০০ সেনা পাঠানোর কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সেটি কমিয়ে ২০০ জওয়ানে নামিয়ে আনা হয়েছে।
রাবাতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সামরিক মুখপাত্রদের বক্তব্য হলো, এই পদক্ষেপ মূলত একটি মানবিক মিশন এবং অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ। দেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতেই এই অবদান রাখা হচ্ছে।
সরকারি খাতের সমর্থকরা গাজায় একটি ফিল্ড হাসপাতাল বা সামরিক হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনাকে প্রধান মানবিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করছেন।
কিন্তু মরক্কো সরকারের এই মানবিক আখ্যানকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নাগরিক সমাজ এবং ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীরা। তাদের মতে, মরক্কোর এই পদক্ষেপের আড়ালে মূলত ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিকেই পরোক্ষ সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বয়কট আন্দোলন বিডিএস-এর প্রতিনিধি ও আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, এই কথিত হাসপাতাল স্থাপন একটি ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং রাবাত প্রকৃতপক্ষে গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ নিষ্ক্রিয় করা ও মার্কিন-ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষার ভূমিকায় নামছে।
ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবের আলোকেই তাদের নিরস্ত্রীকরণের শর্তসাপেক্ষ ঘোষণা দিলেও ইসরায়েল সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বদলে ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সেখানে নতুন করে অবৈধ বসতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মরক্কোর মতো একটি আরব দেশের সেনা মোতায়েন ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও সামরিক নিয়ন্ত্রণকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে বলে আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।
দেশের ভেতরেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মরক্কোবাসীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ অনুসারে, মরক্কোর সাধারণ মানুষের প্রায় ৮৯ শতাংশই ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ মেনে নিতে রাজি নয়। তরুণ সমাজ এবং সাধারণ আন্দোলনকারীদের একাংশ এই ঘটনাকে ফিলিস্তিন ভূমখণ্ডে সংঘটিত গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা হিসেবে অভিহিত করছেন। রাজধানী রাবাতসহ বিভিন্ন শহরে রাষ্ট্রীয় চাপ সত্ত্বেও জনগণ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মরক্কোর রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনমতের মধ্যবর্তী ব্যবধান দিনে দিনে আরও স্পষ্ট ও চওড়া হচ্ছে। মরক্কো সরকার এই স্বাভাবিকীকরণকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডগত স্বার্থ অর্থাৎ পশ্চিম সাহারা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন স্বীকৃতি পাওয়ার কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডগ্রাসী নীতির কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় দেশের ভেতরের সাধারণ মানুষ সরকারের এই কৌশলগত অবস্থানকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না।
মরক্কো ছাড়াও কসোভো, আলবেনিয়া, কাজাখস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো কয়েকটি দেশ আইএসএফ বাহিনীতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে, তবে মিসরের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের ভূমিকার পরিধি শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। ফলস্বরূপ, একক আরব দেশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ সেনা পাঠানো মরক্কো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও দেশের সাধারণ মানুষের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের কালিয়ায় সিন্ধান্তবদ্ধ ও ছদ্মবেশী অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূলহোতা আরোজ আলী শেখকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য, পুলিশ সদস্যরা দিনভর কৃষক, ভ্যানচালক, ফেরিওয়ালা ও মুদি দোকানদারের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
বুধবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে, কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল ছদ্মবেশে জোকারচর গ্রামে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে আরোজ আলী শেখকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরোজ আলীর বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় ৫টি মামলা, নড়াইল সদর থানায় ২টি, খুলনার দিঘলিয়া থানায় ১টি এবং গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১টিসহ ডাকাতি, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চুরির অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি করার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি মো. ইদ্রিস আলী বলেন, আরোজ আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতিসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও কৌশলী ছদ্মবেশ ধারণ করে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা এই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছি এবং তাদের গ্রেপ্তারেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮১ জনে পৌঁছেছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, আগের হামলায় আহত আরও দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়াও, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৮১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৩১ জন আহত হয়েছেন বলে খবর প্রদান করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল এদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্জীবিত করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে সুসংহত করার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেছেন, বিগত 'মাফিয়া' সরকার এদেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, people's বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করেছে এবং 'আয়নাঘর' ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সংসদের গত পাঁচটি মাসে আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন (রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট অধিবেশন) অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।
একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাননীয় সংসদ সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তারা কোনো ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।
এছাড়াও তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সংকট সমাধানে সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে এবং ইতিমধ্যেই সুফল পেয়েছে।
নূরুল ইসলাম বলেছেন, আমরা সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার যাই বলি না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন করা।
তিনি ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, ৭৬ বছরে তারা ১০৬ বার সংশোধন করেছে; তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের সংবিধানেও সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হবে যেন নতুন প্রজন্ম একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সুখী-সমৃদ্ধ দেশ পায়।
সরকারি ও বিরোধীদলের সব সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেছেন, আসুন, আমরা আমাদের সব সমস্যা নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করি। পার্লামেন্টই সব সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে।
তিনি দেশে একটি টেকসই ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজপথের পরিবর্তে সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এখন থেকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে বাংলাদেশী কর্মীদের কোনো কারণে যদি মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করে, তাহলে কর্মীরা দ্রুততম সময়ে অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা।
এই তথ্য জানা যায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অফিস কক্ষে সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং আল-ঈসার এক সৌজন্য সাক্ষাতে। সাক্ষাতের শুরুতেই আল-ঈসা বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ সুখবর দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যদি সৌদি আরবে কর্মস্থলে বাংলাদেশী কর্মীদের আকামা প্রধান নিয়োগকর্তা বা কফিল নবায়ন না করে, তবে তারা দ্রুত অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না হর্ষজনকভাবে জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উভয় দেশের শ্রম সহযোগিতা জোরদারকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব। একইসাথে সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের জন্য আহ্বান জানানো হয়।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সৌদি ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি জানার জন্য যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।
তাছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দক্ষ এবং পেশাদার কর্মীদের নিয়োগ সহজতর করতে কারিগরি, ভোকেশনাল এবং পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
একইসাথে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট (ওয়ার্ক ভিসা) ও আকামা ইস্যু এবং নবায়ন নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া, ওয়ার্ক পারমিটের বর্ধিত ফি নিয়ে কিছু নিয়োগকর্তা যে বিলম্ব ঘটাচ্ছে, তা সমাধানের জন্য সৌদি সরকারের সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়।
আরিফুল হক চৌধুরী সৌদি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে মন্তব্য করেন कि বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশী কর্মীরা সৌদি আরবে সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে যেমন অবদান রাখছেন, তেমনি রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও তারা গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় বেশ দক্ষ; তাই তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার অনুরোধ জানান। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে গমনকারী মহিলা গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আসন্ন পবিত্র রমজান এবং ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবে সফর করে আটক থাকা বাংলাদেশী কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবনার জবাবে আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ এবং পেশাদার কর্মী নিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম এবং ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, সফর করে আটক বাংলাদেশী কর্মীদের সঙ্গে সিরিয়া সরকারের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদানের পর তাদের ক্ষমার বিষয়টি নিয়ে তারা গুরুত্ব সহকারে কাজ করবেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ