প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এখন থেকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে বাংলাদেশী কর্মীদের কোনো কারণে যদি মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করে, তাহলে কর্মীরা দ্রুততম সময়ে অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা।
এই তথ্য জানা যায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অফিস কক্ষে সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং আল-ঈসার এক সৌজন্য সাক্ষাতে। সাক্ষাতের শুরুতেই আল-ঈসা বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ সুখবর দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যদি সৌদি আরবে কর্মস্থলে বাংলাদেশী কর্মীদের আকামা প্রধান নিয়োগকর্তা বা কফিল নবায়ন না করে, তবে তারা দ্রুত অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না হর্ষজনকভাবে জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উভয় দেশের শ্রম সহযোগিতা জোরদারকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব। একইসাথে সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের জন্য আহ্বান জানানো হয়।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সৌদি ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি জানার জন্য যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।
তাছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দক্ষ এবং পেশাদার কর্মীদের নিয়োগ সহজতর করতে কারিগরি, ভোকেশনাল এবং পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
একইসাথে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট (ওয়ার্ক ভিসা) ও আকামা ইস্যু এবং নবায়ন নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া, ওয়ার্ক পারমিটের বর্ধিত ফি নিয়ে কিছু নিয়োগকর্তা যে বিলম্ব ঘটাচ্ছে, তা সমাধানের জন্য সৌদি সরকারের সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়।
আরিফুল হক চৌধুরী সৌদি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে মন্তব্য করেন कि বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশী কর্মীরা সৌদি আরবে সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে যেমন অবদান রাখছেন, তেমনি রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও তারা গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় বেশ দক্ষ; তাই তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার অনুরোধ জানান। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে গমনকারী মহিলা গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আসন্ন পবিত্র রমজান এবং ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবে সফর করে আটক থাকা বাংলাদেশী কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবনার জবাবে আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ এবং পেশাদার কর্মী নিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম এবং ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, সফর করে আটক বাংলাদেশী কর্মীদের সঙ্গে সিরিয়া সরকারের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদানের পর তাদের ক্ষমার বিষয়টি নিয়ে তারা গুরুত্ব সহকারে কাজ করবেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন