বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:২০ পি.এম
সোনাল দিনুশা যেন একাই শ্রীলঙ্কার দুর্গকে রক্ষা করছেন। কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় বোলারদের সামনে তিনি একটি দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
একটি দায়িত্বশীল হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে, তিনি অপরাজিত থেকে ম্যাচটিকে ভারতের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টটি এখন এমন একটি রোমাঞ্চকর মোড়ে এসে পৌঁছেছে, যেখানে ম্যাচ ড্র কিংবা ফল হওয়া—দুটোই সম্ভব। বর্তমানে ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ শুভমান গিলের দলের জয়ের পথে দিনুশা বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
এছাড়া কলম্বোর আকাশও ম্যাচকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
একটি ড্র আগামী বছরের ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) সমস্ত হিসাব-নিকেশ বদলে দিতে পারে।
আগামী বছর জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডব্লিউটিসি ফাইনালের লড়াইয়ে ভারতের জন্য এই ম্যাচটির গুরুত্ব অপরিসীম। পয়েন্ট টেবিলের এই দৌড়ে ভারতীয় দল বর্তমানে পিছিয়ে থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর ফাইনালের টিকিট পাওয়ার পথ কিছুটা মসৃণ হয়েছিল। তবে যদি এই টেস্টটি অমীমাংসিত থেকে যায়, তাহলে শুভমান গিলের দলের ফাইনালের স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা লাগবে।
শেষ দিনে বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে স্বাভাবিকভাবেই ভারত ব্যাকফুটে চলে যাবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব শ্রীলঙ্কার বাকি ৩ ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফেরাতে পরিকল্পনা করছেন ভারতীয় বোলাররা।
বর্তমানে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলে ৫৩.৩৩ শতাংশ (পিটিসি) পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের পরেই পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত। এই টেস্টে জয় পেলেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশের বড় হারের সুযোগে চার নম্বরে উঠে আসতে পারবে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু যদি ম্যাচটি ড্র হয়, তাহলে ভারতের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ কমে দাঁড়াবে ৫১.৫২-এ, ফলে অবস্থান থাকবে সেই পাঁচেই।
বর্তমান ডব্লিউটিসি চক্রে এই সিরিজের পর ভারতের সামনে মাত্র সাতটি টেস্ট ম্যাচ বাকি থাকবে। ইতোমধ্যে খেলা ১০টির মধ্যে ৪টিতে হেরে বসা শুভমান গিলের দলের জন্য আগামী প্রতিটি ম্যাচই এখন একপ্রকার ‘নকআউট’ লড়াই।
শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের নভেম্বরে দুটি টেস্ট খেলতে নিউজিল্যান্ড সফর করবে ভারত। এরপর ডব্লিউটিসি চক্রের শেষ সিরিজে আগামী বছর আইপিএলের ঠিক আগে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে পাঁচ ম্যাচের মহাগুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে।
কেউ পেনাল্টি পয়েন্টের মতো কোনো জরিমানা না খেলে, ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ভারতকে বাকি থাকা টেস্টগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই হাসতে হবে জয়ের হাসি। যদি ভারত বাকি আটটি টেস্টের (কলম্বো টেস্টের শেষ দিনসহ) অন্তত সাতটিতে জয় পায়, তবে তাদের পিসিটি দাঁড়াবে ৬৮.৫২। আর যদি ছয়টি জয় ও দুটি হার হয়, তবে পিসিটি নেমে আসবে ৬২.৯৬-এ।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৫৩ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা। আর পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনেই তাদের লিড গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ রানে। এখন ভারতের সামনে একটি বিশাল লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমে লঙ্কানদের ৩ উইকেট শিকার করতে হবে। পরে দিনের শেষে তাদের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য টপকাতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান, যা কিরানা হিলসে কথিত হামলার বিষয়ে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির কৌশলগত সম্পদ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির হুসাইন আন্দ্রাবি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কিরানা হিলস নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য নাকচ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ১৬ থেকে ১৮ মাস পর এমন দাবি সামনে আনা হচ্ছে। এসব মন্তব্যকে তিনি ‘বলিউড-ধাঁচের বক্তব্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
আন্দ্রাবি আরও বলেন, পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পদ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কিরানা হিলসকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকায় হামলা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি উত্থাপিত হয়েছে। সূত্র: সামা টিভি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির প্রতিনিধি দলের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় সিইসির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আরও সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হিমবাহ ধসের কারণে নেপালে আকস্মিক পাহাড়ী ঢলে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণার মাধ্যমে হিমবাহের ধসের কারণ অনুসন্ধানে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের ফলেই এই হিমবাহ ধসে পড়েছে। ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারতীয় বিজ্ঞানীরা ভূকম্পন তরঙ্গের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে ভূমিকম্পকে ধসের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
ভারতের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, যা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন-ইসরো’র একটি প্রধান শাখা, তাদের আরএসসি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প এই হিমবাহের ধসের সূচনা করতে পারে। যখন ভারতে কোনো পাহাড়ি বিপর্যয় ঘটে, তখন ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি তাদের সিসমিক গ্রাফে ধরা পড়া কম্পনটি রেকর্ড করে। এনআরএসসি সেই কম্পনের রেকর্ড দেখে ধারণা করেছিল যে, ভূমিকম্পের কারণে ধসের ঘটনা ঘটেছে।
এখন জানা যাচ্ছে, কম্পনের ঘটনা ঘটেছে সত্যি, কিন্তু এটি প্রাকৃতিক ভূমিকম্প নয়। বরং, হিমবাহ ধসের কারণেই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল। এই কম্পন ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে তৈরি হয়েছে, ভূ-গর্ভ থেকে নয়। আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-ইউএসজিএস তাদের বিশ্লেষণ আপডেট করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, নেপালে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। যখন পাহাড়ের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে কোটি কোটি টন বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে দ্রুত নিচে আছড়ে পড়ে, তখন তীব্র ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়। এই ধসের ফলে সৃষ্ট কম্পন পৃথিবীর সিসমিক স্টেশনগুলোতে ধরা পড়েছিল। প্রাথমিক সিসমিক সিগন্যাল দেখে এটিকে প্রথমে ৪.৪ মাত্রার (পরে যা ৫.২ বলে নির্ধারণ করা হয়) সাধারণ ভূমিকম্প বলে মনে করা হয়েছিল। ইউএসজিএস নিকটবর্তী সিসমিক স্টেশন এবং দীর্ঘ-মেয়াদী ভূকম্পন তরঙ্গ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, ভূগর্ভের প্লেট নড়াচড়ার কারণে সেখানে কোনো প্রাকৃতিক ভূমিকম্প ঘটেনি।
তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিসমিক এনার্জি বা কম্পনটি মূলত হিমবাহ ধসে পড়ার ধাক্কা এবং তার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের তীব্র প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, ধসের কারণে কম্পন হয়েছিল, কম্পনের কারণে ধস নয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বড় হিমবাহটি কেন ধসে পড়লো? যদি ভূমিকম্পের কারণে হতো, তাহলে বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যেত। কিন্তু ভূমিকম্প না হলে, এত বড় হিমবাহকে ধাক্কা দিল কে? কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগেরির ভূ-প্রকৃতিবিদ ড্যানিয়েল শুগার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। তীব্র গরমের ফলে হিমবাহ এবং বরফের উপরের স্তর গলে প্রচুর তরল পানি বরফের ফাটল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এই পানি হিমবাহের তলদেশে গিয়ে এক ধরনের পিচ্ছিল স্তর তৈরি করে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল থেকে পুরো হিমবাহটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। এই ধসের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে দেয় এবং পরে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে এই বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা বা পাহাড়ি সুনামি সৃষ্টি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের পেছনে এসএসসি পরীক্ষায় A+ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী বিত্তের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তাকে ঘিরে বাবা-মায়ের ছিল অনেক স্বপ্ন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিত্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে হতাশ ছিলেন বলে আশপাশের কয়েকজন জানিয়েছেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিত্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।
তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পরিবারের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ