প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হিমবাহ ধসের কারণে নেপালে আকস্মিক পাহাড়ী ঢলে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণার মাধ্যমে হিমবাহের ধসের কারণ অনুসন্ধানে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের ফলেই এই হিমবাহ ধসে পড়েছে। ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারতীয় বিজ্ঞানীরা ভূকম্পন তরঙ্গের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে ভূমিকম্পকে ধসের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
ভারতের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, যা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন-ইসরো’র একটি প্রধান শাখা, তাদের আরএসসি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প এই হিমবাহের ধসের সূচনা করতে পারে। যখন ভারতে কোনো পাহাড়ি বিপর্যয় ঘটে, তখন ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি তাদের সিসমিক গ্রাফে ধরা পড়া কম্পনটি রেকর্ড করে। এনআরএসসি সেই কম্পনের রেকর্ড দেখে ধারণা করেছিল যে, ভূমিকম্পের কারণে ধসের ঘটনা ঘটেছে।
এখন জানা যাচ্ছে, কম্পনের ঘটনা ঘটেছে সত্যি, কিন্তু এটি প্রাকৃতিক ভূমিকম্প নয়। বরং, হিমবাহ ধসের কারণেই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল। এই কম্পন ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে তৈরি হয়েছে, ভূ-গর্ভ থেকে নয়। আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-ইউএসজিএস তাদের বিশ্লেষণ আপডেট করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, নেপালে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। যখন পাহাড়ের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে কোটি কোটি টন বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে দ্রুত নিচে আছড়ে পড়ে, তখন তীব্র ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়। এই ধসের ফলে সৃষ্ট কম্পন পৃথিবীর সিসমিক স্টেশনগুলোতে ধরা পড়েছিল। প্রাথমিক সিসমিক সিগন্যাল দেখে এটিকে প্রথমে ৪.৪ মাত্রার (পরে যা ৫.২ বলে নির্ধারণ করা হয়) সাধারণ ভূমিকম্প বলে মনে করা হয়েছিল। ইউএসজিএস নিকটবর্তী সিসমিক স্টেশন এবং দীর্ঘ-মেয়াদী ভূকম্পন তরঙ্গ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, ভূগর্ভের প্লেট নড়াচড়ার কারণে সেখানে কোনো প্রাকৃতিক ভূমিকম্প ঘটেনি।
তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিসমিক এনার্জি বা কম্পনটি মূলত হিমবাহ ধসে পড়ার ধাক্কা এবং তার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের তীব্র প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, ধসের কারণে কম্পন হয়েছিল, কম্পনের কারণে ধস নয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বড় হিমবাহটি কেন ধসে পড়লো? যদি ভূমিকম্পের কারণে হতো, তাহলে বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যেত। কিন্তু ভূমিকম্প না হলে, এত বড় হিমবাহকে ধাক্কা দিল কে? কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগেরির ভূ-প্রকৃতিবিদ ড্যানিয়েল শুগার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। তীব্র গরমের ফলে হিমবাহ এবং বরফের উপরের স্তর গলে প্রচুর তরল পানি বরফের ফাটল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এই পানি হিমবাহের তলদেশে গিয়ে এক ধরনের পিচ্ছিল স্তর তৈরি করে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল থেকে পুরো হিমবাহটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। এই ধসের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে দেয় এবং পরে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে এই বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা বা পাহাড়ি সুনামি সৃষ্টি করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন