০৪:০৩ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ আদেশের ফলস্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া কাটছাঁট করার প্রেক্ষাপটের মাঝে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং নিজের দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বনির্ভরতার দিকে জোর তাগিদ প্রদান করেছেন। এসময়, তিনি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের সেনাবাহিনীর পূর্ণ ট্রানজিশন দ্রুত সিউলের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের নির্দেশ দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, পরমাণু অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসছে এবং কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেনি। তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাথে নিজের অত্যন্ত চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, এই যৌথ সামরিক অনুশীলনটি অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যয়বহুল।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সিউলের অনেক আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অবিবেচক এবং বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪
এমন সংকট মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সিউলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের মিত্রতা মজবুত রাখার পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের শক্তিতে বলীয়ান হতে হবে। লি আরও জানান, একটি শক্তিশালী সামরিক জোট যেমন নিরাপত্তার মূল ভিত্তি তৈরি করে, তেমনি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করা মিত্র হিসেবে আমাদের প্রয়োজনীয়তা এবং মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেই দক্ষিণ কোরিয়া তার সশস্ত্র বাহিনীর স্বাধীন পরিচালনা ক্ষমতা পুনর্দখলের কাজ করবে।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ, কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ না হয়ে অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়েছিল। ফলে, দুই কোরিয়া আইনত এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। কোরীয় যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধকালীন যৌথ পরিচালনার প্রধান নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যায়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত কম্বাইন্ড ফোর্সেস কমান্ড-এর প্রধান হিসেবে একজন চার তারকা মার্কিন জেনারেল দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের বাহিনীর ওপর শান্তিকালীন নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও, যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের ক্ষমতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে রয়েই গেছে। বিগত দুদশকেরও বেশি সময় ধরে এই ক্ষমতা সিউলের হাতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও, নানা কারণে তা পিছিয়ে পড়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন