মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,
০৪:০৪ পি.এম
পুকুরের পানিতে মাছের বিচরণ, আর সেই মাছ চাষেই বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে কুইজ প্রতিযোগিতায় মেধার পরিচয় দিয়েছে দীঘিনালার শিক্ষার্থীরা। সফল মৎস্যচাষি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সফল মৎস্যচাষি ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরৎ কুমার ত্রিপুরা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মৎস্যচাষি ও উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে তিন মৎস্যচাষিকে পুরস্কার দেওয়া হয়। তারা হলেন—দীঘিনালা ইউনিয়নের হেডম্যানপাড়ার চিম চিম চাকমা, মেরুং ইউনিয়নের উত্তর রশিকনগরের মো. হাতেম আলী এবং বোয়ালখালী ইউনিয়নের পোমাংপাড়ার ঝিনু রায় পোমাং।
অন্যদিকে মৎস্যসম্পদ ও মাছ চাষ বিষয়ে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিন শিক্ষার্থীকেও পুরস্কৃত করা হয়। তারা হলো—দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ক্রিস্টিনা চাকমা ও সপ্তর্ষি বড়ুয়া নিশি এবং দীঘিনালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিতা চাকমা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাছ শুধু খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে না, দেশের অর্থনীতি ও মানুষের কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা সম্ভব।
সফল মৎস্যচাষিদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একদিকে সফল চাষিদের উৎসাহিত করা হয়েছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মৎস্যসম্পদ সম্পর্কে জ্ঞান ও আগ্রহ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মৎস্যচাষিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আধুনিক মাছ চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ ও কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে আরও আগ্রহী হওয়ার কথা জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধের কারণে ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ সোমবারে থানার বিভিন্ন অপরাধ প্রবণ এলাকার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের সময় একটি ৭ দশমিক ৬৫ মিমি. পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি এবং ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিয়মিত ও পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি এবং সেইসাথে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচ চলাকালীন ঘটে একটি গুরুতর ঘটনা। এই ম্যাচটির দায়িত্ব পালনের সময় আম্পায়ার ধর্মেশ ভরদ্বাজের মুখের এক পাশে বলের আঘাত লাগে। ঘটনাটি ঘটে ১৮তম ওভারে, যখন আশিস মিনারের করা বলে নিউ দিল্লি টাইগার্সের ব্যাটার লক্ষ্য থারেজার খেলা ‘স্ট্রেইট ড্রাইভ'-এর কারণে। ঘটনার পরপরই থারেজা হতভম্ব ও বিচলিত অবস্থায় দেখা যায়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্মেশ ভরদ্বাজকে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। টুর্নামেন্টের আগের একটি ম্যাচে ভরদ্বাজের কাঁধেও আঘাত লেগেছিল। ধর্মেশ ভরদ্বাজ একজন বিসিসিআই-তালিকাভুক্ত ভারতীয় ক্রিকেট আম্পায়ার, যিনি পূর্বে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে আম্পায়ারিং করার অভিজ্ঞতা রাখেন।
এদিকে, ওইদিন ইস্ট দিল্লি রাইডার্স প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৯২ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ দাঁড় করায়। উদ্বোধনী জুটিতে মেহরা এবং রানা ৫.৪ ওভারে ৬২ রান যোগ করেন। মেহরা ২১ বলে ৩৫ রান এবং রানা ২২ বলে ৩৩ রান করেন। পরবর্তীতে ময়াঙ্ক রাওয়াত ২৩ বলে ৪০ রান এবং সূর্যंश রায়না ২১ বলে ৩৩ রান করে দলের জন্য ১৯২ রানে পৌঁছাতে সহায়তা করেন।
নিউ দিল্লি টাইগার্স ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করলেও, তারা দ্রুত নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। ১০.২ ওভারে টাইগার্স ৯৪ রানে ৪ উইকেট হারায়। টাইগার্সরা শেষ পর্যন্ত ১৫৬ রানে অল-আউট হয়ে যায় এবং ৩৬ রানের ব্যবধানে ম্যাচটি তাদের হারতে হয়।
রাইডার্সদের হয়ে বোলিংয়ে আশিস মিনা চার ওভারে ৩২ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন। এই ম্যাচের ভেন্যু অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার আন্তর্জাতিক ম্যাচও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেশার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য এবং বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছেন দলিল লেখকরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিলে জেলার বিভিন্ন এলাকার দলিল লেখকরা অংশ নেন।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক। সমাবেশ শেষে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর বরাবর সাত দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল, আব্দুল করিম, হামিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম মিথেন এবং রিয়াজ আহমেদসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন।
দলিল লেখকদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, প্রতি দলিলে ৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা বাস্তবায়ন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও দলিল মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিলের সুযোগ না রাখা, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স না দেওয়া, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ, দলিল লেখা বা মুসাবিদাকারী হিসেবে দলিল লেখকদের আসামি না করা এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এর আগে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলিল লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর মহানগর, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়েও সমাবেশ পরিচালিত হয়েছে। দলিল লেখক সমিতির নেতারা দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার যে সীমান্তবর্তী এলাকা অবস্থিত, সেখানে বেকার যুবকদের দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য দেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মোট ১৫ জন যুবককে চার সপ্তাহব্যাপী ‘বেসিক ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এই প্রশিক্ষণের শেষের দিনে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক্যাল টুলস তুলে দেওয়া হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সরঞ্জাম তুলে দেন বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির সার্বিক ব্যবস্থাপনার আওতায় জলপাইতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সীমান্ত এলাকার ১৫ জন বেকার যুবক এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
চার সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন ও হাউজ ওয়্যারিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের শেষে তাঁদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক্যাল টুলসও সরবরাহ করে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা তাঁদের বক্তব্য প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ