ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশ ও জাতির কল্যাণেই এসেছে এই পরিবর্তন


দেশ ও জাতির কল্যাণেই এসেছে এই পরিবর্তন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে দেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা একটি স্বাভাবিক এবং অবধারিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, তাঁর পদত্যাগের ফলে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল ঘটেছে।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন। অনেকেই হয়তো ভাবছেন কেন হঠাৎ করে তিনি পদত্যাগ করলেন। নির্বাচনের পরে তো বেশ কিছু মাস গড়িয়েছে, তখন এটা হলো না। আমার মনে হয়, হয়তো স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন অথবা তিনি কমফোর্ট (স্বস্তি) ফিল করছেন না। অথবা সরকার থেকে এমন কিছু সংবাদ পেতে পারেন যা তাকে এ পদে না রাখতে চাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির পদে সরকার তাঁকে রেখে অস্বস্তিকর পরিবেশে ছিল, কিন্তু কিছু বলা সম্ভব হয়নি। তাই সরকারের জন্য এবং দেশের জন্য এটি ভালো হয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি ছিলেন এবং এস আলম অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িত ছিল। যেখানে চাকরি করেছেন, সেখানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন। একজন বিতর্কিত ব্যক্তি পদত্যাগ করায় দেশের ও জাতির জন্য ভালো হয়েছে।

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। এর বাইরে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও তেমন কিছু জানা যায়নি। তিনি বলেন, এর বেশি আমি বলতে চাই না। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন না হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক দল ক্ষমতায় থাকলে অন্য দলের সঙ্গে সহাবস্থানের রাজনীতি নেই। যে দল রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছিল তারা যখন ক্ষমতাচ্যুত হয়, তখন নতুন কোনো দল যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাদের ইচ্ছার বাইরে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, যেকোনো সময় তাঁকে অপসারণ বা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করার ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকে।

আরও পড়ুন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না জানবেন কৃষকরা: প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজেও নির্বাচনের পর পদে থাকতে চাননি বলে জানিয়েছেন। সম্ভবত তিনি সরকারের স্থিতিশীলতা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের বয়সও পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। তাই আমি মনে করি, সরকার এবং রাষ্ট্রপতি- উভয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে এই পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে কোনো সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মনজিল মোরসেদ বলেন, কোনো জটিলতাই নেই। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নির্ধারিত আছে। এখানে স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী দল (বিএনপি) যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই পরিবর্তন একটি সংবিধান স্বীকৃত পদ্ধতি বলেও জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ দুইজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


মিরপুরে যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ দুইজন

রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে গোলাগুলির একটি ঘটনা ঘটে। এসময় কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমানসহ মোট ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে, গোলাগুলির ঘটনায় অস্ত্রধারী একজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা এবং তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে, এই আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মিরপুর ১৩ নম্বরের বাসিন্দা এবং বিএনপির কর্মী মো. সুজন জানিয়েছেন যে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে যুবদল নেতা হাফিজুরসহ তারা ৭ থেকে ৮ জন মিলে এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ৩ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। এই ঘটনায় কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমানের শরীরে ২টি গুলি লাগে। আরও জানা যায়, বিএনপি নেতা ইউসুফের বুকে একটি গুলি লেগেছে।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোলাগুলির এই ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যৌন হয়রানির অভিযোগ নাকি প্রতিশোধ? 'নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির মাসুল দিলেন আইসিসি প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৮ এম


যৌন হয়রানির অভিযোগ নাকি প্রতিশোধ?

ইসরায়েল 'দখলদার' প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ভিত্তিতে আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তার আইনজীবী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার রাতে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র করিম খানের অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ ব্যারিস্টার করিম খান ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন।

একই সময়ে তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্তও তদারকি করছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন করিম খানসহ আইসিসির একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলও একটি নিবন্ধে মন্তব্য করেন যে করিম খানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আইসিসির স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত বহন করে।

করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে, যেখানে অভিযোগ করা হয় তার এক নারী জুনিয়র সহকর্মীকে তিনি হয়রানি করেছেন। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিচারক প্যানেলের সুপারিশের পর তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

তবে করিম খান শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, অপসারণের প্রক্রিয়া বেআইনি, পক্ষপাতদুষ্ট এবং যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে।

তার অপসারণের পর নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, তবে আগামী বছরের আগে নতুন নিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, করিম খানের অপসারণের ফলে নেতানিয়াহু ও ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। আদালতের বিচারকরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সেই পরোয়ানা বহাল থাকবে।

আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজ মোশরাফুল: তদন্তে নজর এখন স্ত্রীর দিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খায়রুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৪ এম


নিখোঁজ মোশরাফুল: তদন্তে নজর এখন স্ত্রীর দিকে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের ডুমুরগাছা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত নাছের উদ্দিন আকন্দের ছেলে মো. মোশরাফুল আকন্দ গত ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন

পরিবারের দাবি, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ভৌরাঘাটা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মোশরাফুলের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোশরাফুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তার স্ত্রীর বক্তব্য ও ভূমিকার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ক্ষুব্ধ তরুণদের হাতে হামলার শিকার ‘গোদি মিডিয়ার’ সাংবাদিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৪ এম


ভারতে ক্ষুব্ধ তরুণদের হাতে হামলার শিকার ‘গোদি মিডিয়ার’ সাংবাদিকরা

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন টেলিভিশন সাংবাদিক দেব কোটাক। তিনি বিক্ষোভকারীদের দ্বারা সরকারপন্থী ‘গোদি মিডিয়া’ বলা অভিযোগের সম্মুখীন হন। দেব কোটাক, যিনি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল টাইমস নাও এর প্রতিবেদক, অভিযোগ করেন যে তিনি ভারতের প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ কাভার করতে গিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করার। এর পরে, অনেক বিক্ষোভকারী ‘গোদি মিডিয়া’ স্লোগান দিতে দিতে তার ওপর আক্রমণ করে এবং মারধর শুরু করে। এই হামলার ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে অনেকে পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

দেব কোটাকের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ব্যতিক্রমী হলেও, গত সপ্তাহ থেকে জোরালো হওয়া আন্দোলনে ভারতের মূলধারার প্রায় সকল টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদকর্মীদেরও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। অনেককে সরকারপন্থী এবং ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া’ গনমাধ্যমের প্রতিনিধি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী দেব কোটাক বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা আমাকে প্রায় মেরেই ফেলত। তারা ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের ধারণা, গণমাধ্যম তাদের বক্তব্য তুলে ধরেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে চড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয়েছে। পানির বোতলও ছুড়ে মারা হয়। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তখন শুধু জীবিত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছি।’

সোমবার সংসদ ভবনের দিকে বিক্ষোভকারীদের পদযাত্রায় পুলিশ দমন-পীড়ন করে। এই দমন-পীড়নে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। কোটাক বলেন, ‘তারা বারবার বলছিল, আমরা তাদের বক্তব্য দেখাইনি। কিন্তু এটি ঠিক নয়। আমি উভয় পক্ষের আহত হওয়ার ঘটনাই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি।’ টাইমস নাওয়ের প্রধান সম্পাদক নাভিকা কুমারের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

সাংবাদিকদের প্রতি এই বৈরী আচরণকে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এর বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ভারতের অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। ২০১০ সালে দেশের অবস্থান ছিল ১২২তম, যা ২০২৬ সালে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৭তম স্থানে নেমে এসেছে।

প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, সরকারঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক গোষ্টীর হাতে গণমাধ্যমের মালিকানা কেন্দ্রীভূত হওয়া এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ বৃদ্ধির কারণে এই অবনতি ঘটেছে। এদিকে, এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর ক্ষোভ ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে সংগঠনটি বলেছে, ‘ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন শুধু পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে না, বরং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সমাজের ওপর পড়ে।’

ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক মুখপাত্রও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক রবীশ কুমারকে ‘গোদি মিডিয়া’ শব্দটির প্রবর্তক হিসেবে ধরা হয়। সমালোচকদের মতে, সরকারের প্রতি জবাবদিহি না করা, মোদিকে অতিরিক্ত ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা এবং ভিন্নমতকে উপেক্ষা করার কারণে ভারতের প্রায় সব টেলিভিশন চ্যানেল ও কয়েকটি জাতীয় দৈনিককে এখন ‘গোদি মিডিয়া’ বলা হয়। রবীশ কুমার বলেছেন, ‘গোদি মিডিয়া গণতন্ত্রবিরোধী, জনবিরোধী এবং বিরোধীদলবিরোধী।’

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০১৪ সালের পর সংবাদ পরিবেশনে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৯৯ সালের এশিয়ার নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক মনীষা পাণ্ডের মতে, মূলধারার টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বহু বছরের হতাশার ফল। তিনি বলেন, ‘যখন গণমাধ্যম সরকারকে প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়, তখনই বিকল্প ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উত্থান ঘটে।’

কলকাতায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে, যেখানে প্রতিবেদকরা হামলার শিকার হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কলকাতা প্রেস ক্লাবও হামলার নিন্দা জানিয়ে তাদের বিচারের দাবি করেছে। তবে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%