প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে দেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা একটি স্বাভাবিক এবং অবধারিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, তাঁর পদত্যাগের ফলে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল ঘটেছে।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন। অনেকেই হয়তো ভাবছেন কেন হঠাৎ করে তিনি পদত্যাগ করলেন। নির্বাচনের পরে তো বেশ কিছু মাস গড়িয়েছে, তখন এটা হলো না। আমার মনে হয়, হয়তো স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন অথবা তিনি কমফোর্ট (স্বস্তি) ফিল করছেন না। অথবা সরকার থেকে এমন কিছু সংবাদ পেতে পারেন যা তাকে এ পদে না রাখতে চাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির পদে সরকার তাঁকে রেখে অস্বস্তিকর পরিবেশে ছিল, কিন্তু কিছু বলা সম্ভব হয়নি। তাই সরকারের জন্য এবং দেশের জন্য এটি ভালো হয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি ছিলেন এবং এস আলম অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িত ছিল। যেখানে চাকরি করেছেন, সেখানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন। একজন বিতর্কিত ব্যক্তি পদত্যাগ করায় দেশের ও জাতির জন্য ভালো হয়েছে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। এর বাইরে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও তেমন কিছু জানা যায়নি। তিনি বলেন, এর বেশি আমি বলতে চাই না। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন না হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক দল ক্ষমতায় থাকলে অন্য দলের সঙ্গে সহাবস্থানের রাজনীতি নেই। যে দল রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছিল তারা যখন ক্ষমতাচ্যুত হয়, তখন নতুন কোনো দল যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাদের ইচ্ছার বাইরে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, যেকোনো সময় তাঁকে অপসারণ বা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করার ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজেও নির্বাচনের পর পদে থাকতে চাননি বলে জানিয়েছেন। সম্ভবত তিনি সরকারের স্থিতিশীলতা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের বয়সও পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। তাই আমি মনে করি, সরকার এবং রাষ্ট্রপতি- উভয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে এই পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে কোনো সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মনজিল মোরসেদ বলেন, কোনো জটিলতাই নেই। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নির্ধারিত আছে। এখানে স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী দল (বিএনপি) যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই পরিবর্তন একটি সংবিধান স্বীকৃত পদ্ধতি বলেও জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন