প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েল 'দখলদার' প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ভিত্তিতে আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তার আইনজীবী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার রাতে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র করিম খানের অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ ব্যারিস্টার করিম খান ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন।
একই সময়ে তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্তও তদারকি করছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন করিম খানসহ আইসিসির একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলও একটি নিবন্ধে মন্তব্য করেন যে করিম খানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ আইসিসির স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত বহন করে।
করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে, যেখানে অভিযোগ করা হয় তার এক নারী জুনিয়র সহকর্মীকে তিনি হয়রানি করেছেন। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিচারক প্যানেলের সুপারিশের পর তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
তবে করিম খান শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, অপসারণের প্রক্রিয়া বেআইনি, পক্ষপাতদুষ্ট এবং যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে।
তার অপসারণের পর নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, তবে আগামী বছরের আগে নতুন নিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, করিম খানের অপসারণের ফলে নেতানিয়াহু ও ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। আদালতের বিচারকরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সেই পরোয়ানা বহাল থাকবে।
আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন