মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৩ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মজুত করে রাখা এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ২০৯ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দকৃত এসব সারের সরকারি মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী। এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের শোভাগঞ্জ বাজারে ‘মেসার্স আজাহার আলী’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঈফফাত জাহান তুলি। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুত করে রাখার অভিযোগে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মজুত করা ১০২ বস্তা ইউরিয়া ও ১০৭ বস্তা এমওপি সার পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও জব্দকৃত সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়।
এর মধ্যে ১০২ বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা এবং ১০৭ বস্তা এমওপি সারের সরকারি মূল্য ১ লাখ ৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা ২০৯ বস্তা সারের সরকারি মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, পরবর্তীতে এসব সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুত করে চড়া দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সত্যতা পাওয়ায় ২০৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থে নিয়মিতভাবে বাজার ও সার বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্দেশ্য কেবল প্রযুক্তি নির্ভরতা বা সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা, এমন মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘ই-ফেক্টিভ ই-গভর্ন্যান্স: অ্যাক্সিলারেটিং ই-গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। জাতীয় ডেটা গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও জাতীয় দায়িত্বশীল ডেটা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক এই সেমিনারের আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের অর্থায়নে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আলাদা ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলেই ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। নাগরিকদের কাছ থেকে একই তথ্য বারবার সংগ্রহ না করে অভিন্ন সক্ষমতা, আন্তঃকার্যক্ষমতা ও জাতীয় ডেটা বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদ এবং অনুমোদিত তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তঃকার্যক্ষমতা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুশাসন, অভিন্ন মানদণ্ড, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাও জড়িত।
তিনি বলেন, নাগরিকের কাছে সরকার কোনো বিচ্ছিন্ন মন্ত্রণালয় বা তথ্যভান্ডার নয়; বরং সরকার একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। তাই সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোকে পরস্পর সংযুক্ত একটি পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলা আবশ্যক। তথ্য বিনিময়ে নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় সক্ষমতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ সংযোগ, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সাইবার নিরাপত্তা ও দক্ষ জনশক্তি এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদন- এই পাঁচটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। শক্তিশালী ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, নিরাপদ ডেটা বিনিময় ও উন্মুক্ত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস নিশ্চিত করে তরুণদের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুক্ত করা হবে। স্টার্টআপ খাতে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সঠিক নীতি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে সমন্বিত ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সরকারের ডেটার মালিকানা, দায়িত্বশীলতা ও আস্থা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভিশন ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি দলের হেড অব ইউনিট ও হেড অব কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেইজা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক, ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য ইনগ্রিড টুনেকুর্গ, ইজিএর হেড অব ডিজিটাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড সলিউশনস কম্পিটেন্স সেন্টার আরভো অট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব ফারাহ শাম্মী এনডিসি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মবের অপসংস্কৃতি রোধে সরকার সজাগ রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার অনেকাংশেই মবকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে বিজিবির একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণে বিজিবিকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে সীমান্তে চোরাচালানসহ অন্যান্য সকল ধরনের অপরাধ কমে আসবে। পাশাপাশি, চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
দুপুরে বিজিবির সিলেট সেক্টরের কার্যালয়ে ‘সীমান্ত স্কুল অব ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, সিলেট সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সিলেট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
এছাড়া, সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বড়দিয়া বাজার খেয়াঘাট চত্বরে নবগঙ্গা নদীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন-নড়াইলের খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ ও কোটাকোল ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আল মামুন, মোল্যা শাহাদাত হোসেন, সবুজ খান, মামুন খান, ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান কিসমত, সিরাজুল হক শিমুল, তুহিন হোসেন, সুলতানা বেগমসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, গত ২৯ আগস্ট (শুক্রবার) ভোরে নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর আকস্মিক ভাঙনে একনিমিষে বড়দিয়া খেয়াঘাট চত্বরের ১০টি বসতঘর, গাছপালা, টিউবওয়েলসহ ভিটেমাটি হঠাৎ করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে বড়দিয়া বাজারের ৪০০ ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১৫টি পরিবার এবং বড়দিয়া খাদেমুল ইসলাম মাদরাসা, খেয়া ও ফেরিঘাট চত্বর। তাই ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজীৎ কুমার সাহা জানান, নবগঙ্গা অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ নদী। এই নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলছে। এছাড়া স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে বড়দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে আমরা কাজ করতে পারব। এছাড়া বর্ষা মওসুমে তাৎক্ষণিক ভাঙন প্রতিরোধে ঝুঁকি এলাকা বিবেচনায় আপদকালীন কাজের অংশ হিসেবে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তুতি রয়েছে। যার মাধ্যমে মানুষের বাড়িঘর ও মূল্যবান স্থাপনা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোর পর সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘কঠোরভাবে’ আঘাত হানার হুমকি প্রদান করেছেন।
এছাড়া, তার অর্থমন্ত্রী তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ছয় মাস ধরে চলমান যুদ্ধের পরেও দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা বিরাজমান। ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ অব্যাহত রেখেছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর একটি ইরানি দ্বীপে হামলা চালায়। হামলার কিছু সময় পরেই তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ করে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বড় ধরনের সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের পর ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, "আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।"
ট্রাম্প আরও বলেন, "এর জবাব দেওয়া হবে।"
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে ইরানের মাইন পুঁতে রাখা ঠেকাতে তারা লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে, ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তেহরান জানায়, হামলাগুলো সেখানে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
তবে সোমবার পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংলাপের আহ্বান জানান।
কিরগিজস্তানে এক সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা সমঝোতা ও বোঝাপড়ার পথ খুঁজে যেতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে নয়, এ অঞ্চলের স্বার্থেও নয়।"
তিনি আরও বলেন, "বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।"
ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন-
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রোববার লারাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছে।
ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে এগুলোর উৎস সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি।
ইরান আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাদেরও তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে। পাশাপাশি, হরমুজের ওপর একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।
আবুধাবি জানিয়েছে, তারা দেশের জলসীমার ওপর একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। তবে আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় আইআরজিসি জানায়, হরমুজের ওপর আরও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালাতে না পারে।
সোমবার রাতে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানায়, প্রণালী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হানে। এতে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।
-‘চাপ অব্যাহত থাকবে’-
কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর এই পাল্টাপাল্টি হামলা হলো। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
এর আগে, সোমবার ট্রাম্প ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে এবং ‘তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
উত্তর ক্যারোলাইনায় জি-২০ বৈঠকে সাংবাদিকদের বেসেন্ট বলেন, "আমরা চাপ অব্যাহত রাখব। এখানে এরই মধ্যে আমরা খুবই ভালো আলোচনা করেছি।"
তিনি আরও বলেন, এই চাপ প্রয়োগের কার্যক্রমে ‘কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে’ একটি মোড় আসতে পারে।
হরমুজ প্রণালী অবরোধের মাধ্যমে ইরানও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের জন্য পণ্যের দাম বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ