ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে সুমন গ্রেপ্তার


স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে সুমন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহের ঘটনায় মূল আসামি সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি, অন্য কেউ জড়িত কিনা সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি আনিসুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার সুমন স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে আটক করে। সুমনকে নিয়ে পুলিশ কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। কুমিল্লায় পৌঁছালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে সংবাদ সম্মেলন কখন হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি তিনি।

আরও পড়ুন: শশীভূষণ জাহানপুরে মরহুম হাজী মহিউদ্দিন কারী হকিবার স্মৃতি ফুটবল টুনামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

এদিকে, তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, দোকানের সামনে কিছু দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানায়, চারদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাজমিন প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তাজমিন। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় তার অবস্থান ও দোকানির সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য দেখা গেলেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।

আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে, দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। সে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।

বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়ি নিয়ে যায় স্বজনরা। এর আগে রাতে লালমাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা আবদুল আলীম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার, সম্পর্ক ভালো ছিল না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার, সম্পর্ক ভালো ছিল না

বলিউডের প্রতিভাবান অভিনেতা নানা পাটেকরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আড়ালে রয়েছে সংগ্রাম, ব্যক্তিগত বেদনা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের নানা অধ্যায়। তার পর্দায় দাপুটে উপস্থিতি, সংলাপ পরিবেশনের স্বতন্ত্র ধরন এবং অনবদ্য অভিনয় সবসময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাকে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তিনি খুব একটা প্রকাশ্যে আনেননি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে, যখন মাত্র ৫০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন নানা, তখন তার পাশে ছিলেন স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর। এর পাশাপাশি, মাত্র আড়াই বছর বয়সে বড় ছেলেকে হারানোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাও তার জীবনে এসেছে। জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা একসময় নিজেই প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেতা।

অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে নানার জীবন ছিল অনেকটাই ভিন্ন। নাটকের মঞ্চে কাজ করার সময় তার পারিশ্রমিক ছিল খুবই সামান্য। সেই সময় একটি নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে নীলকান্তির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। নীলকান্তি তখন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি ব্যাঙ্কে আধিকারিক হিসেবে কাজ করতেন।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে নানা জানিয়েছেন, একটি নাটকে অভিনয় করে তিনি পেতেন মাত্র ৫০ টাকা। মাসে ১৫-২০টি শো করলেও তার মোট আয় দাঁড়াত প্রায় ৭৫০ টাকা।

অন্যদিকে, ব্যাঙ্কে চাকরি করার সুবাদে নীলকান্তির মাসিক বেতন ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে সংসার চালানো এবং অভিনয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে স্ত্রীর আর্থিক সহায়তা তাকে খুব সাহায্য করেছে।

নানার জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়গুলির মধ্যে অন্যতম তার বড় ছেলে দুর্বাসার মৃত্যু। মাত্র আড়াই বছর বয়সে মৃত্যু হয়। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সন্তানের শারীরিক সমস্যা এবং তাকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলেছিলেন এই অভিনেতা। নানা জানিয়েছিলেন, জন্মের সময় তার ছেলের ঠোঁটে জন্মগত ত্রুটি ছিল। একটি চোখে দেখতেও সমস্যা হতো শিশুটির। সেই পরিস্থিতিতে নিজের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা আত্মসমালোচনাও করেছিলেন। সন্তানের শারীরিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে প্রথমেই তার মনে হয়েছিল, অন্যেরা কী ভাববে।

ছেলেকে হারানোর প্রসঙ্গে নানা জানিয়েছেন, তিনি কাঁদেননি। তবে চোখের জল না ফেলা মানে যে মনের ভিতরে যন্ত্রণা ছিল না, তা নয়। বরং এই ঘটনা তার জীবনে এমন এক ক্ষত তৈরি করেছিল, যার কথা স্মরণ করাও সহজ ছিল না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌলবাদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগানোর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


মৌলবাদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগানোর আহ্বান

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম মন্তব্য করেছেন, চারদিকে মৌলবাদের ষড়যন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বাংলা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "এক পৃষ্ঠা বাংলা শুদ্ধ ভাষায় লিখতে বললে অনেকেই তা পারবেন না।" তিনি জানান, রশ্মিকার, দীর্ঘিকার, র-ফলা ও য-ফলার মতো বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাংলা ভাষা সহজভাবে অনুশীলন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কারণে বাংলা ভাষার আধুনিকায়নের বিষয়ে ভাষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এর আগে রাজবাড়ী একাডেমির উদ্যোগে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সি‌দ্দিকুর রহমান জানান, দুই দিনব্যাপী এই বাংলা উৎসবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। উৎসবে ভাষা প্রতিযোগিতা, বানান শুদ্ধকরণ, বিপরীত শব্দ লেখা, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মরদেহ দাফনের সাহসও আ.লীগের কারও নেই: রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মরদেহ দাফনের সাহসও আ.লীগের কারও নেই: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনার মরদেহ বাংলাদেশে এলে তা দাফন করার মতো সাহস আওয়ামী লীগের কারও নেই। তিনি বলেন, "শেখ হাসিনার দেশে ফেরা তো দূরের কথা।"

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বারুনাতৈল কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনে নিহত মেহেদী হাসান রাব্বির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার খবর প্রচার করা হচ্ছে। তবে, তিনি মন্তব্য করেন, "এমন অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবেন না।"

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যে আওয়ামী লীগ ভারতে পালিয়ে গেছে, সেই আওয়ামী লীগ আবার ফাঁসির দঁড়িতে ঝোলার জন্য বাংলাদেশে ফিরে আসবে, তা পাগল ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না।"

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের এক্সটেনশন ছিল। তিনি জানান, দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ লোক ভারতে পালিয়ে গেছে। দেশে তাদের কিছু দোসর রয়েছে, যাদের হম্বিতম্বি দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, "এসব দোসরকে মোকাবিলা করার জন্য ছাত্রদলই যথেষ্ট।"

বর্তমান বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, "এ মুহূর্তে যারা বিরোধী দলে রয়েছেন, তাদের গণহত্যার বিচারের দাবিতে খুব বেশি সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে না।" তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তারা দল দুটিকে সঙ্গে নিয়েই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে।

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "জামায়াতে ইসলামী বেইমানি করতে পারে, ছাত্রশিবিরও বেইমানি করতে পারে। কিন্তু এ দেশের জনগণ বেইমানি করবে না।"

এর আগে, রাশেদ খাঁন জুলাই আন্দোলনে নিহত মেহেদী হাসান রাব্বির কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন।

মেহেদী হাসান রাব্বি মাগুরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময় মাগুরা শহর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন। তার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে রাশেদ খাঁন নিহত এ ছাত্রদল নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মার চরাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে চার জেলার পুলিশের যৌথ অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


পদ্মার চরাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে চার জেলার পুলিশের যৌথ অভিযান

কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা—এই চার জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আবারও ব্যাপক পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। মূলত সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া, অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান এবং আধিপত্য বিস্তারের কারণে সৃষ্ট অপরাধযজ্ঞ কঠোর হাতে দমনের লক্ষ্যে শুক্রবার ভোররাত থেকে এই যৌথ পুলিশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে কেবল কুষ্টিয়া জেলা পুলিশেরই প্রায় দুই শতাধিক সদস্য সরাসরি মাঠে নেমেছেন।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পদ্মার বিস্তীর্ণ ও দুর্গম চর এলাকাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে একাধিক সশস্ত্র অপরাধী চক্র। এসব এলাকায় বালুমহাল দখল, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রমরমা চোরাচালান, সাধারণ কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল লুটপাট থেকে শুরু করে চরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো বেআইনি কার্যকলাপ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আধিপত্য ধরে রাখতে প্রায়শই এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দা ও কৃষকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে চার জেলার পুলিশ প্রশাসন এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৌশলগত এই অভিযানের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার সীমান্তঘেঁষা পদ্মার দুর্গম চরগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে জনমনে স্বস্তি ফেরানো।

বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার অন্তর্গত রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের পাশাপাশি ভেড়ামারা উপজেলার দুর্গম চরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন অপরাধীরা যেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে, এমন সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশের নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব চরাঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই সময় বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ভৌগোলিক দিক থেকে দুর্গম হওয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন করে এই বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু করা হয়েছে।

​

চলমান এই অভিযান প্রসঙ্গে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদেই শুক্রবার ভোররাত থেকে এই বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। চরের আনাচে-কানাচে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই অভিযান চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদও এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোর থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে জেলা পুলিশের প্রায় দুইশ সদস্য নিরলসভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিকেল নাগাদ অভিযান সমাপ্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অভিযান পুরোপুরি শেষ হলে এর সার্বিক ফলাফল ও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%