ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মরদেহ দাফনের সাহসও আ.লীগের কারও নেই: রাশেদ খাঁন


বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মরদেহ দাফনের সাহসও আ.লীগের কারও নেই: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনার মরদেহ বাংলাদেশে এলে তা দাফন করার মতো সাহস আওয়ামী লীগের কারও নেই। তিনি বলেন, "শেখ হাসিনার দেশে ফেরা তো দূরের কথা।"

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বারুনাতৈল কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনে নিহত মেহেদী হাসান রাব্বির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার খবর প্রচার করা হচ্ছে। তবে, তিনি মন্তব্য করেন, "এমন অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবেন না।"

আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে বাংলাদেশি স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে হত্যা: স্বামী রঞ্জিত গ্রেপ্তার

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যে আওয়ামী লীগ ভারতে পালিয়ে গেছে, সেই আওয়ামী লীগ আবার ফাঁসির দঁড়িতে ঝোলার জন্য বাংলাদেশে ফিরে আসবে, তা পাগল ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না।"

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের এক্সটেনশন ছিল। তিনি জানান, দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ লোক ভারতে পালিয়ে গেছে। দেশে তাদের কিছু দোসর রয়েছে, যাদের হম্বিতম্বি দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, "এসব দোসরকে মোকাবিলা করার জন্য ছাত্রদলই যথেষ্ট।"

বর্তমান বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, "এ মুহূর্তে যারা বিরোধী দলে রয়েছেন, তাদের গণহত্যার বিচারের দাবিতে খুব বেশি সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে না।" তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তারা দল দুটিকে সঙ্গে নিয়েই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে।

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "জামায়াতে ইসলামী বেইমানি করতে পারে, ছাত্রশিবিরও বেইমানি করতে পারে। কিন্তু এ দেশের জনগণ বেইমানি করবে না।"

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অব্যাহতি

এর আগে, রাশেদ খাঁন জুলাই আন্দোলনে নিহত মেহেদী হাসান রাব্বির কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন।

মেহেদী হাসান রাব্বি মাগুরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময় মাগুরা শহর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন। তার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে রাশেদ খাঁন নিহত এ ছাত্রদল নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মার চরাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে চার জেলার পুলিশের যৌথ অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


পদ্মার চরাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে চার জেলার পুলিশের যৌথ অভিযান

কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা—এই চার জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আবারও ব্যাপক পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। মূলত সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া, অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান এবং আধিপত্য বিস্তারের কারণে সৃষ্ট অপরাধযজ্ঞ কঠোর হাতে দমনের লক্ষ্যে শুক্রবার ভোররাত থেকে এই যৌথ পুলিশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে কেবল কুষ্টিয়া জেলা পুলিশেরই প্রায় দুই শতাধিক সদস্য সরাসরি মাঠে নেমেছেন।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পদ্মার বিস্তীর্ণ ও দুর্গম চর এলাকাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে একাধিক সশস্ত্র অপরাধী চক্র। এসব এলাকায় বালুমহাল দখল, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রমরমা চোরাচালান, সাধারণ কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল লুটপাট থেকে শুরু করে চরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো বেআইনি কার্যকলাপ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আধিপত্য ধরে রাখতে প্রায়শই এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দা ও কৃষকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে চার জেলার পুলিশ প্রশাসন এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৌশলগত এই অভিযানের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার সীমান্তঘেঁষা পদ্মার দুর্গম চরগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে জনমনে স্বস্তি ফেরানো।

বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার অন্তর্গত রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের পাশাপাশি ভেড়ামারা উপজেলার দুর্গম চরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন অপরাধীরা যেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে, এমন সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশের নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব চরাঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই সময় বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ভৌগোলিক দিক থেকে দুর্গম হওয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন করে এই বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু করা হয়েছে।

​

চলমান এই অভিযান প্রসঙ্গে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদেই শুক্রবার ভোররাত থেকে এই বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। চরের আনাচে-কানাচে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই অভিযান চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদও এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোর থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে জেলা পুলিশের প্রায় দুইশ সদস্য নিরলসভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিকেল নাগাদ অভিযান সমাপ্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অভিযান পুরোপুরি শেষ হলে এর সার্বিক ফলাফল ও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের চীনা সাবেক সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের চীনা সাবেক সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ

জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান অগাস্ট হ্যানিংয়ের সঙ্গে চীনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার দীর্ঘকালীন যোগাযোগ ছিল। গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে হ্যানিংয়ের গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য প্রকাশ করেছে জার্মান সাময়িকী স্পিগেল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০০৫ সালে জার্মানির বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে অবসরে যাওয়ার পর হ্যানিং চীন সফর করেন একাধিকবার। এই সফরের সময় তার পরিচয় ঘটে চীনের সাবেক মেজর জেনারেল ওয়াং জিয়াংঝেংয়ের সঙ্গে। ওয়াং পূর্ব জার্মানিতে চীনের দূতাবাসে কাজ করেছেন এবং তিনি জার্মান ভাষার কিছু বই চীনা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।

চলতি সপ্তাহে সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছ থেকে গোপন নথি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের কাছে দেওয়ার সন্দেহে হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবসরের পর তিনি স্বাধীন নিরাপত্তা পরামর্শক হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, এই সময়েই এসব ঘটনা ঘটেছে।

তবে সরকারি কৌঁসুলিরা জানায়নি, কোন ধরনের গোপন তথ্য অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

হ্যানিংয়ের আইনজীবী এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য পাঠানো অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেননি। তবে স্পিগেলকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তার মক্কেল জার্মানির স্বার্থের কোনো ক্ষতি করেননি এবং তাকে অন্যায়ভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামের সীমান্তে এসআরবি’র অভিযানে পিস্তল, গুলি ও মাদক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


কুড়িগ্রামের সীমান্তে এসআরবি’র অভিযানে পিস্তল, গুলি ও মাদক উদ্ধার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩) একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও চার বোতল এস্কাফ সিরাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটায় উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অনন্তপুর মাস্টারপাড়া গ্রামে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩-এর রংপুর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অনন্তপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের (৫০) বাড়ির পশ্চিম পাশে বাঁশঝাড়ের মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল, গুলি ও মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-১৩-এর মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ, পূজার জন্য চার দিন বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ, পূজার জন্য চার দিন বন্ধ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার হরণের প্রক্রিয়া ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐতিহাসিক কলকাতার ‘রেড রোড’-এ ঈদের নামাজকে নিরাপত্তা ও যানজটের অজুহাতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে দুর্গাপূজা এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মতো অনুষ্ঠানের জন্য প্রধান সড়কটি দিনের পর দিন বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্গাপূজার মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন মেগা ইভেন্ট, সাজসজ্জা, ৩,০০০ ঢাকির প্রদর্শনী এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির জন্য লালবাজার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার থেকে ১১ই অক্টোবর ভোর পর্যন্ত—অর্থাৎ টানা চার দিন ধরে রেড রোড সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ মঙ্গলবার একটি নির্দেশিকা জারি করে জানান, ৬ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে রেড রোডে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই নির্দেশিকা ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকবে। আবার ৯ তারিখ মাঝরাত থেকে ১০ অক্টোবর গভীর রাত অথবা ১১ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এই রাস্তা।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উৎসবের মরসুমে শহরের সার্বিক যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কেবল রেড রোড সংলগ্ন এলাকা নয়, প্রয়োজনমতো অন্যান্য সংযোগকারী রাস্তা থেকেও কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ যানবাহন অন্য পথে ঘুরিয়ে দিতে পারবে।

এর আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার রেড রোড টানা সাত দিন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। তৎকালীন দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় হাজির হন। তিনি রেড রোডে তৈরি করা সুবিশাল মঞ্চে উপস্থিত থেকে হাজার হাজার মানুষের সামনে যোগব্যায়াম ও আসন প্রদর্শন করেন। সেসময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তৎকালীন গভর্নর তাঁর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

রাজভবন, কলকাতা হাইকোর্ট ও বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সংযোগকারী ব্যস্ততম এই সড়কটি দিনের পর দিন আটকে রেখে ক্ষমতাবানদের ক্ষমতার আস্ফালন প্রদর্শিত হলেও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির প্রতি হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি।

এক ঘণ্টার নামাজের অনুমতি নেই, পূজার আয়োজনে বন্ধ চার দিন

কলকাতার রেড রোডে ১৯১৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১০৭ বছর ধরে প্রতি বছর ঈদের দিনে নিয়মিত ১ ঘণ্টার ঐতিহ্যবাহী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি নিরাপত্তা ও যানজটের অজুহাতে এবার প্রথম সেখানে মুসলিমদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যার বদলে তাদের ময়দানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাত্র এক ঘণ্টার ঈদের জামাতের অনুমতি না মেলা বনাম পূজার প্রস্তুতি ও যোগাসনের নামে দিনের পর দিন প্রধান সড়ক বন্ধ রাখার এই দ্বিচারিতায় পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সাধারণ মানুষ, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলীয় নেতারা প্রশ্ন তুলছেন—যেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের শতাব্দীর পুরোনো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য মাত্র ১ ঘণ্টার অনুমতি মেলেনি, সেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে দিনের পর দিন পথ আটকে রাখা কি ধরনের ধর্মনিরপেক্ষতা?

অধিকারকর্মীদের মতে, এটি স্রেফ কোনো সাধারণ যান নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; বরং সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং রাজ্যজুড়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীভিত্তিক পক্ষপাতিত্ব কায়েম করার নগ্ন মহড়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%