প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা—এই চার জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আবারও ব্যাপক পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। মূলত সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া, অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান এবং আধিপত্য বিস্তারের কারণে সৃষ্ট অপরাধযজ্ঞ কঠোর হাতে দমনের লক্ষ্যে শুক্রবার ভোররাত থেকে এই যৌথ পুলিশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে কেবল কুষ্টিয়া জেলা পুলিশেরই প্রায় দুই শতাধিক সদস্য সরাসরি মাঠে নেমেছেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পদ্মার বিস্তীর্ণ ও দুর্গম চর এলাকাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে একাধিক সশস্ত্র অপরাধী চক্র। এসব এলাকায় বালুমহাল দখল, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রমরমা চোরাচালান, সাধারণ কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল লুটপাট থেকে শুরু করে চরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো বেআইনি কার্যকলাপ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আধিপত্য ধরে রাখতে প্রায়শই এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দা ও কৃষকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে চার জেলার পুলিশ প্রশাসন এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৌশলগত এই অভিযানের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার সীমান্তঘেঁষা পদ্মার দুর্গম চরগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে জনমনে স্বস্তি ফেরানো।
বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার অন্তর্গত রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের পাশাপাশি ভেড়ামারা উপজেলার দুর্গম চরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন অপরাধীরা যেখানে লুকিয়ে থাকতে পারে, এমন সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশের নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব চরাঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই সময় বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ভৌগোলিক দিক থেকে দুর্গম হওয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন করে এই বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু করা হয়েছে।
চলমান এই অভিযান প্রসঙ্গে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদেই শুক্রবার ভোররাত থেকে এই বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। চরের আনাচে-কানাচে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই অভিযান চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদও এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোর থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে জেলা পুলিশের প্রায় দুইশ সদস্য নিরলসভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিকেল নাগাদ অভিযান সমাপ্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অভিযান পুরোপুরি শেষ হলে এর সার্বিক ফলাফল ও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন