ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৯:০৩ পি.এম
পৌরসভার কর্মচারী, অথচ তাঁর সঙ্গেই টাকা-পয়সার লেনদেন না করতে মাইকিং করছে খোদ পৌরসভা! এমন ঘটনায় ভাণ্ডারিয়ায় শুরু হয়েছে বেশ আলোচনা-সমালোচনা। ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ হাসিবুল হাসানের নির্দেশনা ও অনুরোধক্রমে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিনভর এ সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে।
হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার নামে পৌরসভার রসিদ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার সহকারী কর নির্ধারক মোঃ তাইয়্যেবুর রহমান রনির বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগের পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে পৌরসভার পক্ষ থেকেই শহরজুড়ে মাইকিং করে বলা হচ্ছে রনির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না!
রনি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বাবুল মুহুরির ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার কথা বলে তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে পৌরসভার নির্ধারিত রসিদ ছাড়াই অর্থ নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হলে নড়েচড়ে বসে পৌরসভা।
এরপরই মাইকিং করে দেওয়া হয় সতর্কবার্তা। সেখানে বলা হয়, পৌরসভার যেকোনো সেবা নিতে হলে নির্ধারিত রসিদ ছাড়া কাউকে কোনো টাকা দেওয়া যাবে না।
স্থানীয়দের কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, এতদিন মানুষ সাধারণত বাইরের প্রতারক থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ শুনেছে। এবার নিজের পৌরসভার কর্মচারীর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রেও মাইকিং শুনে সাবধান হতে হচ্ছে। তবে হাস্যরসের আড়ালে বিষয়টি নিয়ে তাদের উদ্বেগও কম নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পৌরসভার আর্থিক লেনদেনে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষও পৌরসভার সেবা নিতে গিয়ে টাকা দেওয়া-নেওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
পৌরসভার নিজের কর্মচারীর বিরুদ্ধেই যখন পৌরসভাকে মাইক হাতে নামতে হয়, তখন ভাণ্ডারিয়ার মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন হোল্ডিং নম্বর নিতে গিয়ে আগে রসিদ, নাকি আগে সাবধানতা?
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের লেটিরকান্দা গ্রামে পৈতৃক ভিটা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছেন মো. খায়রুল ইসলাম (৪৮)। জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা এসব মামলায় জয়নাল, মোফাজ্জল হোসেন, আবুল বাশার, সেলিম ও দুলাল মিয়াসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘদিন গ্রামের বাইরে ছিলেন খায়রুল ইসলাম। সম্প্রতি পৈতৃক ভিটায় বসবাসের উদ্দেশ্যে গ্রামে ফিরলেও বিরোধের কারণে সেখানে বসবাস করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অন্যত্র চার শতক জমি কিনে বসবাস করছেন।
খায়রুলের অভিযোগ, ১৯৮৮ সালে জয়নাল গং ৯১৬ দাগের ১২ শতক ফসলি জমি কিনলেও পরবর্তীতে ৯১৩ দাগের প্রায় ২৩ শতক পৈতৃক ভিটা দখল করে রাখেন। ওই জমিতে থাকা তাঁর বাবা-মায়ের কবরের আশপাশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখার অভিযোগও করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পৈতৃক ভিটায় ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে জয়নাল, মোফাজ্জল হোসেন, আবুল বাশার ও দুলাল মিয়াসহ কয়েকজন তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় প্রথম মামলাটি করেন তিনি। পরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য জয়নাল ও সেলিমসহ কয়েকজন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন—এমন অভিযোগে নিরাপত্তা চেয়ে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়।
খায়রুল ইসলাম বলেন, “বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া ভিটায় শেষ বয়সটা শান্তিতে কাটাতে চাই। ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতেই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দলিলে কিছু ভুলত্রুটি ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও খায়রুল ইসলাম বসতে রাজি হননি।”
মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের অপেক্ষায় রয়েছেন বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত নথি ও স্মারক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সংঘাতময় ঘটনাগুলোর সাক্ষ্য বহন করে। তিনি এই মন্তব্যটি জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনের পর করেছেন।
আজ, সুসান ভাইজের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ।
পরিদর্শনের সময়, ইউনেস্কো প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মহাপরিচালকের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়, এহসান মাহমুদ শিক্ষা, গবেষণা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এহসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জুলাই জাদুঘরকে শুধু পরিদর্শনের জায়গা হিসেবে নয়, বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ কাজ এগিয়ে নিতে ইউনেস্কোর সঙ্গে আমরা যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’
জুলাই জাদুঘরের গ্যালারিগুলো পরিদর্শন শেষে, সুসান ভাইজ মন্তব্য করেন, ‘জাদুঘরটিতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও স্মারক সংগ্রহ দেখানো হয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের সংঘাতময় ঘটনাগুলোর সাক্ষ্য বহন করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব দলিল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা উচিত।’
এ সময় ইউনেস্কো বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান নরিহিদি ফুরুকাওয়া এবং সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান কিযী তাহনিন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্তপ্রবণ এলাকা, খরাপ্রবণ অঞ্চল এবং অন্যান্য কম ফসলি জমিতে তুলা চাষের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি দেশের তুলার মানের প্রশংসা করে বলেন, তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
আজ বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এজন্য যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেখানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা এবং উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উন্নতমানের পণ্য এবং উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং বিনিয়োগে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য কার্যকর এবং লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা হতে হবে।
মন্ত্রী রঙিন তুলার সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড় তৈরিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রয়োজন কমে যাবে। পরিবেশবান্ধব এবং রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা রয়েছে।
তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়ানো হবে, কোন কোন এলাকায় নতুন করে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে এবং কতজন কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে-এসব তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রতিনিধিদল।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অফিসকক্ষে তারা সাক্ষাৎ করেন।
এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক পরামর্শক ড. ফ্রান্সিসকো কাটায়ামা ও প্রফেসর ড. আবুল কালাম এবং লিয়াজোঁ ও কো-অর্ডিনেশন কর্মকর্তা মো. মোহাসিন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের অবহিত করেন।
এসময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান চাহিদা, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সহযোগিতা কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ