মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫১ পি.এম
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এখন শুধু সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার অপেক্ষা।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাজ্য সরকারের নীতিতে পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে বিচ্ছিন্ন করতে কৌশলগত ই-ওয়ান করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। সম্প্রতি প্রকল্পটির কাজ আবার শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন খবরের পরই লন্ডন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কয়েক দিন আগে এক বক্তব্যে এড মিলিব্যান্ড ই-ওয়ান প্রকল্পকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে নিয়ে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েল এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেগুলো অপ্রয়োজনীয় এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মনে করে যুক্তরাজ্য।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে যে মামলা করেছে, তাতে বাদীপক্ষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সোমবার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তৃত পদক্ষেপ নেবে তার সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ এই প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসনের সেমিনার কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমাম রাজী টুলুর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী মিঞা।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. মো. নূরুল ইসলাম, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (অতিরিক্ত) আরিফ আহমেদ, এবং পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দার প্রমুখ। শোভাযাত্রা এবং আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী, পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসটি পালিত হয়েছে ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজনের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের চাকলা বাজার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শোভাযাত্রার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এই আয়োজনটি জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো দ্বারা পরিচালিত হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকির হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল আমিন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো উপপরিচালক সানাউল হাবিব, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সায়েদুল ইসলাম, বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সারোয়ার কামাল চঞ্চল এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরে সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৪ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নাটোরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে সাক্ষরতার হারকে শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা এসডিজি’র অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার।
সভায় জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, "এসডিজি’র অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সাক্ষরতার হারকে শতভাগে উন্নীতকরণে আমরা কাজ করে যাবো। এ ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাই সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।"
সভায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো নাটোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রনি আহম্মেদ স্বাগত বক্তব্যে জানান, ২০২২ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী নাটোরে সাক্ষরতার হার ছিল ৭১ শতাংশ। ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক শুমারী অনুযায়ী বর্তমানে তা ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ, ধাপে ধাপে জেলায় সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সহকারী পরিচালক আরও জানান, সাক্ষরতা বলতে বোঝায় লিখতে, পড়তে, হিসাব করতে পারার পাশাপাশি ব্যক্তির পেশা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা। নাটোরে শতভাগ সাক্ষরতার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমানে ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্ম দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ চলমান রয়েছে।
এই ছয় মাস মেয়াদী কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণার্থীদের সাক্ষরতা জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আগামী বছরের শুরুতে জেলার গুরুদাসপুরে ‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপরট্যুনিটি’ নামে একটি বৃহৎ সাক্ষরতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জান্নাতআরা ফেরদৌস, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রোস্তম আলী হেলালী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান প্রমুখও বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে হাম পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলা রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৯ জনে পৌঁছেছে।
একই সময়ে নতুন করে ১৪৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫৭ জন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগীর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৭৬, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৪৬ জনের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৯ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৯ জন এবং জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৫৭ সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬৫ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৬ জন রয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩৫, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪২ এবং হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৭, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ এবং অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুটি হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। দুই বছর বয়সী ওই শিশু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
জেলা ভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সন্দেহজনক হাম রোগে এ পর্যন্ত ৬০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ১৮ ও ৪ জনের। মৌলভীবাজারে ১৩ জন সন্দেহজনক ও একজন নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন। আর সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক হাম রোগে ৫৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪৯ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে হাম ও রুবেলা রোগে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৯ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপ এখনো কমেনি। বরং একদিনে নতুন করে ১৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ