রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০০ এম
বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. সুমন হাওলাদার। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হিসাবরক্ষক মো. ফজলুর রহমান।
শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে।
সারা দেশের অধস্তন জেলা আদালতগুলোর ৬০৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫১৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে ভোট পড়ার হার ছিল ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সভাপতি পদে মো. সুমন হাওলাদার ৩১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রেজোয়ান খোন্দকার পেয়েছেন ২০৪ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ফজলুর রহমান ৩১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তারিক আহমেদ রিঙ্কু পেয়েছেন ১৯৩ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. শাহীন আলম ১৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে মো. কামাল হোসেন ১৩৩, মো. আসাদ-উদ-দৌলা (মাসুম) ৭২, মো. হাফিজুল ইসলাম ৪৭, মো. আবু ছায়েদ ২০ এবং আহসানুল কবির (স্বজন) ১৯ ভোট পেয়েছেন।
ফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে সংগঠনের সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণ, অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা একই সঙ্গে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সারা দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের ঐক্য, সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভোটার ও সাধারণ কর্মচারীরা বেতন স্কেল যৌক্তিকীকরণ, বিশেষ ভাতা চালু এবং পদোন্নতির জটিলতা নিরসনসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির বাস্তবায়নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন কমিটি এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম গির্জা মহল্লায় লেচু শাহ মাজারের বিপরীতে অবস্থিত পরিচিত খাবার হোটেল ‘ঘরোয়া’-তে এক তরুণীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হোটেলের পরোটা তৈরির কারিগর মো. কাইয়ুম খাঁনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। ঘটনার সময় তরুণীর মা তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে ‘ঘরোয়া’ হোটেলে খাবার খেতে যান। খাবার শেষে মা-মেয়ে ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধ করে বের হওয়ার সময় পাশে থাকা হোটেলের পরোটা তৈরির কারিগর মো. কাইয়ুম খাঁন তরুণীর দিকে ঝুঁকে পড়ে তার বুকে হাত দিয়ে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় তরুণী ও তার মা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করলে হোটেলের অন্যান্য গ্রাহক এবং আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। এতে হোটেলের ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
ঘটনাটি জানার পর তালাশ বিডির পক্ষ থেকে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে হোটেল ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাওয়া হয়।
হোটেল ম্যানেজার ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানালেও সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সাংবাদিকদের দেখানো বা সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সিসিটিভি-নিয়ন্ত্রিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এমন গুরুতর অভিযোগের পরও ঘটনার সময়কার ফুটেজ সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন না করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সময়ের ফুটেজ সংরক্ষিত আছে কি না এবং থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উপস্থাপন করা হবে কি না—তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঘটনার পর অভিযোগে অভিযুক্ত হোটেলকর্মী মো. কাইয়ুম খাঁন বর্তমানে হোটেলে নেই। হোটেল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে হোটেলে পাওয়া না যাওয়া এবং ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
হোটেল ‘ঘরোয়া’-তে খাবার খেতে আসা জামসেদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, অভিযোগটি গুরুতর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মচারীকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে, ‘ঘরোয়া’ হোটেলের ক্যাশ কাউন্টারে আনোয়ার খানকে একাধিকবার বসে গ্রাহকদের বিল গ্রহণ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যেও উঠে এসেছে, হোটেলটিতে তার নিয়মিত উপস্থিতি ছিল। এতে হোটেলটির সঙ্গে তার প্রকৃত ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ক্যাশ কাউন্টারে উপস্থিতি বা বিল গ্রহণের বিষয়টি একাই মালিকানা কিংবা অংশীদারত্বের আইনগত প্রমাণ নয়—সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই হলেই এ বিষয়ে স্পষ্টতা মিলতে পারে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আনোয়ার খান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য ও প্রতিবেদকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণে আনোয়ার খানের ‘ঘরোয়া’ হোটেলে নিয়মিত উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। তবে তার মালিকানা, অংশীদারত্ব কিংবা ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই প্রয়োজন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে হোটেলে পাওয়া না যাওয়া, সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সাংবাদিকদের না দেখানো এবং তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী।
তবে এ অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রয়োজন হলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরীক্ষা করা এবং অভিযোগে অভিযুক্ত কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিল—অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের ডাকা হবে।
তবে তালাশ বিডির অনুসন্ধানে হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাসের বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে ‘ঘরোয়া’ হোটেলের মালিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম মুঠোফোনে কথা বলেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে ঘটনার সময় আমি হোটেলে উপস্থিত ছিলাম না। বর্তমানে কাইয়ুমকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা তার জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেয়েছি এবং ঠিকানা জানার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলব।
একজন তরুণীর সঙ্গে একটি খাবার হোটেলের অভ্যন্তরে এমন গুরুতর আচরণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্তের দাবি রাখে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগে অভিযুক্ত মো. কাইয়ুম খাঁনকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই—**সিসিটিভি ফুটেজে কী রয়েছে, অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মচারী কোথায় এবং গুরুতর অভিযোগের পর হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন (ডাসু) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) জয়লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি পদের চারটির মধ্যে তারা তিনটিতে জয়ী হয়েছে।
এবিভিপি উগ্রহিন্দুত্ববাদী আরএসএসের মতাদর্শে বিশ্বাসী।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে এবিভিপির ইয়াস দাবাস প্রেসিডেন্ট পদ, রিয়া চাওয়াদি সেক্রেটারি এবং লক্ষ্যরাজ সিং জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে জয়ী হয়েছেন।
এবিভিপির ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি ভিরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি সংবাদমাধ্যম আউটলুককে জানিয়েছেন, "এই জয় এবিভিপির জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এটি জাতীয়তাবাদীর জয়কে প্রতিনিধিত্ব করে। এই জয় দেখিয়েছে এবিভিপি তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং আমাদের ওপর তরুণদের বিশ্বাস আছে।"
কিছু মাস আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিজেপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে জেন-জিরা। তারা ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে বিক্ষোভ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করে। তবে, এর পরেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে বিজেপি সংশ্লিষ্ট দল জয় লাভ করেছে, যা বিজেপির জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।
তবে, দিল্লির ওই আন্দোলনের প্রভাব এ নির্বাচনে ছিল। সংবাদমাধ্যম আউটলুক জানিয়েছে, বিজেপি শীর্ষ তিনটি পদে জয় পেলেও তাদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না।
এর আগে গতকাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও বিজেপি ও আরএসএস সংশ্লিষ্ট এবিভিপির বেশিরভাগ প্রতিনিধি জয়ী হয়েছে।
সূত্র: আউটলুক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনে সৌদি আরবের চালানো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে হুথি গোষ্ঠী।
শনিবার হুথিদের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে হুথি গোষ্ঠী বলেছে, ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ যে কোনো সৌদি সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পূর্ণ বৈধ অধিকার তাদের রয়েছে। নিজেদের সুরক্ষায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
সৌদি আরব এবং হুথি গোষ্ঠী মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও পালটা বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে ওই আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর থেকে রিয়াদ ও হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে উভয় পক্ষই এখন নতুন করে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
এর মাঝেই শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মনুষ্যবিহীন ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওই হামলায় বিমানবন্দরের কাছে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। এই হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহু ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ বাতিল অথবা বিলম্ব ঘোষণা করা হয়েছে।
বিমান ট্র্যাকিং বিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিমানবন্দরের কাছ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
ফ্লাইটরাডার২৪ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে তাদের ওয়েবসাইটে ফ্লাইট ডিসরাপশন ইনডেস্ক ৫.০-তে রেখেছে। যার অর্থ বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত ৮ জন নিহত ও বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপজুড়ে ১৭৪টি ড্রোন এবং রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে দুটি জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪১টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা জ্যাম করেছে। ১৫টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং নয়টি অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শত্রুর জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।’
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানতে গেরান-৪ সিকার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজ দুটির একটি ওডেসাগামী ইউক্রেনীয় বাল্ক ক্যারিয়ার এবং অন্যটি ওডেসা বন্দরে নোঙর করা একটি ট্যাংকার। উভয় জাহাজেই সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিহুভভ নিশ্চিত করেছেন, ১৪টি লোকালয়ে রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। এতে বালাকলিয়া ও লিপকুভাতিভকার মতো শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
খারসন অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর প্রকুদিনের মতে, ২৫টি এলাকা লক্ষ্য করে চালানো গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, এই হামলায় বহুতল আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি, একটি মোবাইল টাওয়ার এবং একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দনেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেকসান্দর গানজা জানান, ড্রোন, আর্টিলারি এবং এরিয়াল বোমা ব্যবহার করে ১০টিরও বেশি স্থানে ভারী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ