বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৪ পি.এম
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পরিবহন খাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, গন্তব্যভেদে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বন্দরের আমদানিকারকদের জন্য বাড়তি পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি, এই পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সপ্তাহে ছয় দিন ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়। ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের পর, সেগুলো বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাকে করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর ফলে পরিবহন খাতে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায়, মালিকরা আগের ভাড়ায় ট্রাক চালাতে আগ্রহী নন। ফলে, গন্তব্য এবং দূরত্ব অনুযায়ী ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পূর্বে যে গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ভাড়া ছিল, বর্তমানে সেখানে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এর ফলে আমদানিকারকদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ট্রাক মালিকদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাড়তি ভাড়া সমন্বয় করেও তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তাদের দাবি, যদি জ্বালানি তেলের দাম না কমানো হয়, তবে পরিবহন খাতে ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।
নতুন দামের সঙ্গে সমন্বয় করে হিলি স্থলবন্দরে গন্তব্যভেদে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকদের পণ্য পরিবহনে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, "আগে যে ভাড়ায় আমরা বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য নিয়ে যেতাম, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সেই ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলের পেছনেই এখন বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। এর সঙ্গে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালক ও শ্রমিকের খরচ তো আছেই। তাই বাধ্য হয়েই মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছেন।"
বাসচালক আজিজার রহমান মন্তব্য করেছেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু ট্রাক নয়, সব ধরনের পরিবহনেই খরচ বেড়ে যায়। তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ছে। এতে পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাইকে বাড়তি ব্যয়ের চাপ নিতে হচ্ছে।"
ট্রাক মালিক আনন্দ জানিয়েছেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গাড়ি চালানোর খরচ অনেক বেড়েছে। আগের ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করলে অনেক ক্ষেত্রে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠে না। তাই দূরত্ব ও গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে। এরপরও পরিবহন খাতে ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।"
আমদানিকারক নুর-ইসলাম বলেছেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় বাড়লে সেটার প্রভাব সরাসরি বাজারদরে পড়ে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের চাপ ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।"
হিলি স্থলবন্দর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী জানিয়েছেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খাতে ব্যয় অনেক বেড়েছে। নতুন দামের সঙ্গে সমন্বয় করে গন্তব্যভেদে ট্রাকের ভাড়া ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে শুধু ভাড়া বাড়ালেই মালিকদের খরচ পুরোপুরি সমন্বয় হচ্ছে না। জ্বালানি তেলের দাম কমানো বা পরিবহন খাতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা সাহিত্যের অমর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তালোড়া নাগর গ্রন্থাগারের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টা গ্রন্থাগার কার্যালয়ে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তালোড়া নাগর গ্রন্থাগারের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোকলেছার রহমান। সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মোমিন ইসলাম শাওনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা ও তালোড়া বন্দর নগর কবিতা সংসদের সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন সেলিম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও তাঁর বিপ্লবী সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচকরা উল্লেখ করেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য খুব অল্প সময় বেঁচে থাকলেও তাঁর অসামান্য কবিতা যুগ যুগ ধরে নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই ও তারুণ্যের বিদ্রোহী চেতনাকে শাণিত করে আসছে। আলোচনা শেষে স্থানীয় কবি ও সাহিত্যপ্রেমীরা কবির জনপ্রিয় কবিতাগুলো থেকে আবৃত্তি করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে খাবার স্যালাইন ও ট্যাঙ সরবতের সাথে চেতনা নাশক দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানোর মাধ্যমে বাড়ির সকল সদস্যকে অচেতন করে সর্বস্ব লুট করার চেষ্টা করতে গিয়ে দুইজন চোর চক্রের সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনা ঘটে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, যখন স্থানীয় জনতা আটককৃত দুজনকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে শিবালয় থানায় পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। পরে, পুলিশ তাদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
গুরুতর অবস্থায় গৃহকর্তী আলেক জান (৬০) এবং তার ছেলে লালন ফকির (৪০) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গৃহকর্ত্রীর মেয়ের জামাতা শামীম জানান, মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার বৈষ্টমিরচর এলাকায় মনো ফকিরের বাড়িতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পূর্ব পরিচিত দুইজন চোর সর্বস্ব লুট করার উদ্দেশ্যে বাড়ির ৫ সদস্যের মধ্যে কেবল দুইজনকে খাবার স্যালাইন ও ট্যাঙ সরবতের সাথে চেতনা নাশক দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চোর চক্রের সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরের দিন বুধবার সকালে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে চোর চক্রের ওই দুই সদস্য।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন, নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার শোবুদ্দিন উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত-সিরাজ মিয়ার পুত্র মো. শফি ওরফে মিলন (৪০), এবং একই জেলা ও উপজেলার হাটভাঙ্গা গ্রামের মৃত-সিদ্দিক মিয়ার পুত্র মো. শুকুর আলী (৪০)।
শামীম আরও জানান, টমেটো বিক্রি করতে গিয়ে তিন বছর আগে তাদের সাথে পরিচয় হয়। সেই সুবাদে ওই চোর চক্রের সদস্যরা তাদের বাড়িতে এর আগেও একবার এসেছিল। রতনকে ফোন দিয়ে গত মঙ্গলবার চোর চক্রের ওই দুই সদস্য আবার আসে। এসময় রতনের দাদা, দাদি, বাবা-মাসহ ৫জন বাড়িতে ছিলেন। এর মধ্যে রতনের বাবা ও দাদীকে সরবতের সাথে চেতনা নাশক দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ালে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই চোর চক্রের সদস্যরা সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরের দিন বুধবার সকালে নৌকায় নদী পার হওয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে। এরপর স্থানীয় জনতা ওই চোর চক্রের সদস্যদের পুলিশে দেয়।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে এখনও কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে উক্ত বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি ও পরিবহন সেবা ছাড়া চলতি হিসাবের লেনদেনের আওতায় বহির্মুখী রেমিট্যান্স সংক্রান্ত বিধিবিধান একত্র করে একটি সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এই সার্কুলারটি প্রকাশ করেছে।
নতুন সার্কুলারে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা সার্কুলারের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন নির্দেশনা ও সার্কুলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধিবিধানগুলো একটি ডকুমেন্টে একত্র করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সার্কুলার জারির ফলে সমন্বিত কাঠামোর আওতাভুক্ত পূর্বের সব নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে রিপোর্টিং সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।
সমন্বিত সার্কুলারে বহির্মুখী রেমিট্যান্সের বিভিন্ন খাতের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে চিকিৎসা, সরকারি ও আধা-সরকারি সফর, শিক্ষা, ভিসা ও অভিবাসন ফি, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশগ্রহণের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া মুনাফা ও লভ্যাংশ, পরামর্শক ও প্রশিক্ষণ সেবা, বিদেশি এজেন্ট, বিদেশে শাখা খোলা, উড়োজাহাজ ও জাহাজের লিজ ভাড়া, সফটওয়্যার ও আইটি সেবা, ই-কমার্স এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) বিভিন্ন অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কার্ড, কার্ড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং ব্যাংক-মধ্যস্থ আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক-সংক্রান্ত বিধানও এই সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভ্রমণসংক্রান্ত বিধানের আওতায় বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক সফর, হজ ও ওমরাহসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ার নির্দেশনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সার্কুলারের নির্দেশনাগুলো সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা এই সমন্বিত সার্কুলারের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা বা অসামঞ্জস্য দেখা দিলে মূল সার্কুলারে থাকা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সমন্বিত সার্কুলার জারির ফলে বিভিন্ন সময়ে জারি করা আলাদা সার্কুলার খুঁজে দেখার প্রয়োজন পড়বে না এবং ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা সহজেই প্রয়োজনীয় বিধিবিধান খুঁজে পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আদালত গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে জামিন প্রদান করেছেন। এটি ঘটে যখন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম এবং তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে তিনি দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।
তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। পরে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এসময় বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ