বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ পি.এম
আদালত গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে জামিন প্রদান করেছেন। এটি ঘটে যখন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম এবং তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে তিনি দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।
তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। পরে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এসময় বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্বারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ভুবনঘর গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা পূর্বের স্থানে ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রতিবাদ সমাবেশের পর বক্তারা বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘকাল ধরে ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ভোটগ্রহণ হয়ে আসছে। এই কেন্দ্রে এলাকার প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে পুরোনো ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তন করে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে বলে তারা মনে করছেন। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকার ভোটারদের নতুন কেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে পর্যাপ্ত কক্ষ রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে বড় মাঠ ও পর্যাপ্ত খোলা জায়গা। ফলে ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো, ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ রয়েছে। অন্যদিকে, ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন আমড়াতলী ইউনিয়নের মোতালেব, ফিরোজ, কামাল হোসেন মেম্বার, মো. আবুল হোসেন, হাজী সফিক মেম্বার, মিনু বেগম, মর্জিনা আক্তার, মো. ইয়াছিন, মো. দুলাল মিয়া, জলিল মিয়া, বাবুল মিয়া, আলম মিয়া, হানিফ হোসেন, আক্তার, মাহবুব মিয়া ও মানিক মিয়াসহ স্থানীয়রা।
কর্মসূচির শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে পুনরায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবলে প্রতিটি যাত্রার সফলতা শুধুমাত্র ফলাফলের সমীকরণ দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম দেড় বছর কাটানো কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং একটি নতুন দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল।
ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের কাছে পরাজয়ের পর হামজা চৌধুরী নিজের এই অনুভূতি প্রকাশ করেন। এই মিডফিল্ডার অকপটে স্বীকার করেন, জাতীয় দলের সাথে কাটানো সময়ের মধ্যে অনেক উত্থান-পতন ছিল।
এমনকি তিনি বলেন, সফলতার চেয়ে কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে বেশি। তবে তিনি সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে দল ভবিষ্যতে বড় কিছু অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল, আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই এই যাত্রায় অনেক ভালো-মন্দ সময় এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত, ভালো মুহূর্তের চেয়ে আমাদের হয়তো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বেশি হতে হয়েছে। তবে আমরা হাল ছাড়ছি না; একটি সুন্দর ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আমরা সবাই একসাথে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’
শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার মনে করেন, ফলাফল দিয়ে সবসময় দলের উন্নতি বিচার করা যায় না; বরং শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করতে পারাটাই বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ।
অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফুটবল দল প্রতিনিয়ত নিজেদের উন্নত করছে বলে মনে করেন হামজা চৌধুরী। আসিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক অনভিজ্ঞ হলেও, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা যাচাই করার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধীরগতির শুরুর কারণে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিরে আসা কঠিন হয়েছিল। তবে আমার মনে হয়েছে, আমরা আগের ম্যাচের সিঙ্গাপুরের সাথে আরো ভালো খেলেছি।’
ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান সবসময় স্পষ্ট ছিল না বলে মনে করেন হামজা চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এই পর্যায়ে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ। র্যাঙ্কিংয়ে তারা আমাদের ওপরে। কিন্তু মাঠের কিছু কিছু মুহূর্ত দেখলে সেই ব্যবধানটা আসলে বোঝা যায় না। তাই নিশ্চয়ই আমরা কিছু একটা ঠিকভাবেই করছি।’
শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা এখন পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি, সেগুলো নিখুঁতভাবে একসঙ্গে বসাতে পারব।’
বাংলাদেশের উন্নতির জন্য এখনো কয়েকটি জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন হামজা। আর সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে নভেম্বরের ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে চান তিনি।
হামজা বলেন, ‘নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের বড় একটি টুর্নামেন্ট আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেটিকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছি এবং আশা করি সেখানে কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারব।’
বাংলাদেশের সাথে পথচলায় মাঠের বাইরেও নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে হামজার। ইন্দোনেশিয়ায় এবারই প্রথম গেছেন তিনি। বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে দেশটিতে গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। এবার নিজেও ইন্দোনেশিয়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন তিনি।
হামজা বলেন, ‘আমার খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই ভালো! ইন্দোনেশিয়ায় এটাই আমার প্রথমবার। আমার অনেক বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে এখানে এসেছে। তারা শুধু ভালো কথাই বলেছে। তাই নিজে এসে দেখাটাও দারুণ ছিল।’
তবে গরম আবহাওয়াটা কিছুটা কঠিন মনে হয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘মানুষগুলো খুব বন্ধুবৎসল। আবহাওয়াটা আমার জন্য একটু বেশি গরম। তবে সব মিলিয়ে খুব উপভোগ করেছি। আশা করি, আবারও আসতে পারব এবং ইন্দোনেশিয়ার অন্য জায়গাগুলোও ঘুরে দেখতে পারব।’
বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে গ্যালারিতে বড় সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটিও দলের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলে মনে করেন হামজা।
তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি। জানি, গ্যালারিতে আরও বেশি দর্শক থাকবে। তাই দল হিসেবে এটি আমাদের জন্য আরেকটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে।’
ইন্দোনেশিয়া দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষাই হবে বলে মনে করেন হামজা। তবে এ ধরনের দলের বিপক্ষেই নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করতে চান এই তারকা মিডফিল্ডার।
হামজার ভাষায়, ‘ইন্দোনেশিয়া খুব ভালো দল। তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলে। তাই আমাদের জন্য এটিও কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে আমরা এখানে এসেছিই এই কারণে, এই মুহূর্তে আমাদের চেয়ে ওপরে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় গায়িকা ও গীতিকার শ্রিয়া রাও সম্প্রতি একটি রাইড শেয়ারিং গাড়িতে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া এই অস্বস্তিকর ঘটনার বিবরণ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তার অভিযোগ, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই চালক বারবার তার পায়ের দিকে নজর দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজের কথাও জানিয়েছেন শ্রিয়া।
ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শ্রিয়া ওই চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অভিযুক্ত চালকের কারণে ভবিষ্যতে অন্যান্য যাত্রীরা গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারেন।
শ্রিয়ার মতে, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই চালকের আচরণ তাকে অস্বস্তিতে ফেলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘প্রথমদিকে গাড়িতে ওঠার সময়ে মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু দেখছিল। তার কয়েক সেকেন্ড পরে পায়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন। আমারও খুব অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল একেবারেই নিরাপদ নই। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।’
চালক যখন গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। শ্রিয়া জানান, তিনি শুরু থেকেই চালককে গতি কমানোর জন্য অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু চালক তার অনুরোধে সাড়া না দিয়ে বরং আরও দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকেন। এ সময় গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রিয়া বলেন, ‘চালক হঠাৎ গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় শুধু নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলাম। বার বার মনে হয়েছিল এমন কিছু করবই না, যাতে পরিস্থিতি কোন ভাবে খারাপ হয়ে যায়। তাই মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছি।’
শ্রিয়ার দাবি, একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ার কথাও তার মনে হয়েছিল। তবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সেটি করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
ঘটনার পর শ্রিয়া অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাঁধ নেই, সড়ক নেই; সেতুও নেই। প্রতিদিন নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিশুদের। নদী পার হওয়ার জন্য তাদের একমাত্র ভরসা হলো কয়েকটি ড্রাম জোড়া দিয়ে তৈরি ভেলা। মাঝনদীতে ঢেউ উঠলে ভেলা দুলতে থাকে, ফলে আতঙ্কে জমে যায় শিশুদের বুক।
২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় ভেঙে যায় ১৭০ মিটার বাঁধ। এর ১৭ বছর পরেও স্থায়ীভাবে নির্মাণ হয়নি। তাই খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া বদ্ধ নদীর তীরঘেঁষা কয়েক গ্রামের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করছে।
স্থানীয়দের মতে, বাঁধের জায়গায় সড়ক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও শিশুদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। তারা জানায়, শিশুরা দল বেঁধে নদী পার হতে আসে। কেউ আগে ওঠার জন্য অপেক্ষা করে, কেউ ভেলায় বসার জায়গা খোঁজে। ভেলা ছাড়ার পর দুই পাশে থাকা রশি টানতে থাকেন স্থানীয়রা। পানির ওপর ভেসে থাকা ড্রামগুলো কাঁপতে কাঁপতে ওপারের দিকে এগিয়ে যায়।
মহারাজপুর মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ভবতোশ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাঁধটা আইলার সময় ভাঙছে। ১৭ বছর হইয়া গেল, এহনও ঠিক অয় নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাগো পোলাপানরে বই-খাতা দিইয়া ভেলায় উঠাইয়া দিই। ভেলা দুললে বুকটা ধড়ফড় করে, কখন পোলাপান পানিতে পড়ে যায়!’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধের এক পাশে প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি কমিউনিটি ক্লিনিক অবস্থিত। অন্য পাশে রয়েছে কয়েকটি গ্রামের বসতি।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও বয়স্কদের নদী পার হতে হয়। বিকল্প পথ থাকলেও তা দীর্ঘ ও দুর্ভোগের। ফলে গ্রামবাসীর প্রধান ভরসা এই ড্রামের ভেলা।
শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, স্থায়ী বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে স্কুলগামী শিশু, কমিউনিটি ক্লিনিকের রোগী এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল নিরাপদ হবে।
প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন জানায়, প্রতিদিনই সে ড্রামের ভেলায় স্কুলে যায়। কিন্তু ভেলাটি নদীর মাঝখানে গেলে ভয় হয়, যদি উল্টে যায়! তবুও ক্লাসে যাওয়ার জন্য ঝুঁকি নিতে হয়।
অন্য শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানায়, একবার ভেলা উল্টে সে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। সঙ্গে থাকা বই-খাতা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসায় প্রাণে বেঁচে যায় সে।
এদিকে, সন্তান বিদ্যালয়ে গেলেও অভিভাবকরা স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাইয়া মনটা ঘাটে পড়ে থাকে। একবার ভেলায় পার হওয়ার সময় আমার মেয়েসহ কয়েকজন শিশু পানিতে পড়ে গেছিল। আল্লাহর রহমতে সে যাত্রায় বেঁচে গেছে। আমরা আর এভাবে চাই না। একটা রাস্তা বা অন্তত নিরাপদ সেতু দরকার।’
আঞ্জুয়ারা আরও বলেন, বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়। নদীতে পানি ও স্রোত বাড়ে। বাতাসে ঢেউ উঠলে ড্রামের ভেলায় ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনসুর গাজী বলেন, ‘বর্ষা আইলে পানি বাড়ে, স্রোত বাড়ে। তখন এই ভেলায় পার হওয়া আরো বিপজ্জনক। মাইয়ে-ছেলে, বুড়ো মানুষদেরও বাইরে এই কষ্ট করতে হয়। বাঁধ বা একটা সেতু হইলে আমাদের বহু বছরের কষ্ট শেষ হতো।’
প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আইলার পর থেকে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। অনেক অভিভাবক যাতায়াতের সমস্যার কারণে সন্তানদের এ স্কুলে ভর্তি করাতে চান না। অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কারণে বিদ্যালয়ে আসে না। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও স্কুলের যাতায়াতের পথ নির্মাণ করা জরুরি।’
মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক ইউপি সদস্য আবু সাঈদ বিশ্বাস লেন জানান, ‘ভাঙা অংশটি প্রায় ১৭০ মিটার। জায়গাটি গভীর ও বড় হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখানে স্থায়ী বাঁধ অথবা নিরাপদ ভাসমান সেতু প্রয়োজন।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত নিরাপদ পারাপারের অস্থায়ী ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এখন নিরাপত্তাঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাঁধ নির্মাণে সময় লাগলে এর আগেই নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ