বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০০ পি.এম
ভারতীয় গায়িকা ও গীতিকার শ্রিয়া রাও সম্প্রতি একটি রাইড শেয়ারিং গাড়িতে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া এই অস্বস্তিকর ঘটনার বিবরণ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তার অভিযোগ, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই চালক বারবার তার পায়ের দিকে নজর দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজের কথাও জানিয়েছেন শ্রিয়া।
ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শ্রিয়া ওই চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অভিযুক্ত চালকের কারণে ভবিষ্যতে অন্যান্য যাত্রীরা গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারেন।
শ্রিয়ার মতে, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই চালকের আচরণ তাকে অস্বস্তিতে ফেলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘প্রথমদিকে গাড়িতে ওঠার সময়ে মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু দেখছিল। তার কয়েক সেকেন্ড পরে পায়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন। আমারও খুব অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল একেবারেই নিরাপদ নই। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।’
চালক যখন গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। শ্রিয়া জানান, তিনি শুরু থেকেই চালককে গতি কমানোর জন্য অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু চালক তার অনুরোধে সাড়া না দিয়ে বরং আরও দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকেন। এ সময় গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রিয়া বলেন, ‘চালক হঠাৎ গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় শুধু নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলাম। বার বার মনে হয়েছিল এমন কিছু করবই না, যাতে পরিস্থিতি কোন ভাবে খারাপ হয়ে যায়। তাই মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছি।’
শ্রিয়ার দাবি, একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ার কথাও তার মনে হয়েছিল। তবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সেটি করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
ঘটনার পর শ্রিয়া অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাঁধ নেই, সড়ক নেই; সেতুও নেই। প্রতিদিন নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিশুদের। নদী পার হওয়ার জন্য তাদের একমাত্র ভরসা হলো কয়েকটি ড্রাম জোড়া দিয়ে তৈরি ভেলা। মাঝনদীতে ঢেউ উঠলে ভেলা দুলতে থাকে, ফলে আতঙ্কে জমে যায় শিশুদের বুক।
২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় ভেঙে যায় ১৭০ মিটার বাঁধ। এর ১৭ বছর পরেও স্থায়ীভাবে নির্মাণ হয়নি। তাই খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া বদ্ধ নদীর তীরঘেঁষা কয়েক গ্রামের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করছে।
স্থানীয়দের মতে, বাঁধের জায়গায় সড়ক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও শিশুদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। তারা জানায়, শিশুরা দল বেঁধে নদী পার হতে আসে। কেউ আগে ওঠার জন্য অপেক্ষা করে, কেউ ভেলায় বসার জায়গা খোঁজে। ভেলা ছাড়ার পর দুই পাশে থাকা রশি টানতে থাকেন স্থানীয়রা। পানির ওপর ভেসে থাকা ড্রামগুলো কাঁপতে কাঁপতে ওপারের দিকে এগিয়ে যায়।
মহারাজপুর মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ভবতোশ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাঁধটা আইলার সময় ভাঙছে। ১৭ বছর হইয়া গেল, এহনও ঠিক অয় নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাগো পোলাপানরে বই-খাতা দিইয়া ভেলায় উঠাইয়া দিই। ভেলা দুললে বুকটা ধড়ফড় করে, কখন পোলাপান পানিতে পড়ে যায়!’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধের এক পাশে প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি কমিউনিটি ক্লিনিক অবস্থিত। অন্য পাশে রয়েছে কয়েকটি গ্রামের বসতি।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও বয়স্কদের নদী পার হতে হয়। বিকল্প পথ থাকলেও তা দীর্ঘ ও দুর্ভোগের। ফলে গ্রামবাসীর প্রধান ভরসা এই ড্রামের ভেলা।
শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, স্থায়ী বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে স্কুলগামী শিশু, কমিউনিটি ক্লিনিকের রোগী এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল নিরাপদ হবে।
প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন জানায়, প্রতিদিনই সে ড্রামের ভেলায় স্কুলে যায়। কিন্তু ভেলাটি নদীর মাঝখানে গেলে ভয় হয়, যদি উল্টে যায়! তবুও ক্লাসে যাওয়ার জন্য ঝুঁকি নিতে হয়।
অন্য শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানায়, একবার ভেলা উল্টে সে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। সঙ্গে থাকা বই-খাতা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসায় প্রাণে বেঁচে যায় সে।
এদিকে, সন্তান বিদ্যালয়ে গেলেও অভিভাবকরা স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাইয়া মনটা ঘাটে পড়ে থাকে। একবার ভেলায় পার হওয়ার সময় আমার মেয়েসহ কয়েকজন শিশু পানিতে পড়ে গেছিল। আল্লাহর রহমতে সে যাত্রায় বেঁচে গেছে। আমরা আর এভাবে চাই না। একটা রাস্তা বা অন্তত নিরাপদ সেতু দরকার।’
আঞ্জুয়ারা আরও বলেন, বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়। নদীতে পানি ও স্রোত বাড়ে। বাতাসে ঢেউ উঠলে ড্রামের ভেলায় ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনসুর গাজী বলেন, ‘বর্ষা আইলে পানি বাড়ে, স্রোত বাড়ে। তখন এই ভেলায় পার হওয়া আরো বিপজ্জনক। মাইয়ে-ছেলে, বুড়ো মানুষদেরও বাইরে এই কষ্ট করতে হয়। বাঁধ বা একটা সেতু হইলে আমাদের বহু বছরের কষ্ট শেষ হতো।’
প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আইলার পর থেকে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। অনেক অভিভাবক যাতায়াতের সমস্যার কারণে সন্তানদের এ স্কুলে ভর্তি করাতে চান না। অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কারণে বিদ্যালয়ে আসে না। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও স্কুলের যাতায়াতের পথ নির্মাণ করা জরুরি।’
মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক ইউপি সদস্য আবু সাঈদ বিশ্বাস লেন জানান, ‘ভাঙা অংশটি প্রায় ১৭০ মিটার। জায়গাটি গভীর ও বড় হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখানে স্থায়ী বাঁধ অথবা নিরাপদ ভাসমান সেতু প্রয়োজন।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত নিরাপদ পারাপারের অস্থায়ী ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এখন নিরাপত্তাঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাঁধ নির্মাণে সময় লাগলে এর আগেই নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে একটি বাসে তল্লাশি পরিচালনা করে ৯৪টি চোরাই মোবাইল ফোনসহ (অ্যান্ড্রয়েড) আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রবিউল (৩৩), আলাউদ্দিন (২৫), ইসরাফিল (২৭), হৃদয় (৩৫), আলামিন (৩০), আক্কাস (৩৫), ইমরান (৩০) ও ইয়াসিন আরাফাত (৩৮)।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাসটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের কাছ থেকে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং একটি সংঘবদ্ধ চোরাই চক্রের সদস্য। বুধবার সকালে চক্রটি বগুড়ার ধুনটের মাসুদ টেলিকম নামের একটি মোবাইলের দোকানের শাটার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনগুলো চুরি করে। এ ঘটনায় বগুড়ার ধুনট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাসুদ টেলিকমের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরি। বুধবার সকালে মার্কেটের নৈশপ্রহরী দোকানগুলো দেখভালের জন্য মার্কেটে গিয়ে দোকানের তালা কাটা ও শাটার খোলা দেখতে পান। বিষয়টি জানার পর তিনি ধুনট থানার পুলিশকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পালানোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তারা জানান, আটজন ব্যক্তি দুটি সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখান থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় চক্রটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহতের নাম ও পরিচয় এখনও জানা যায়নি। নিহত নারীর পরনে ছিল লাল কামিজ এবং হলুদ রঙের সালোয়ার।
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী কাজলা সুফিয়া গার্মেন্ট-এর বিপরীত পাশে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মাথার মগজ বের হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই নারী মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওই নারী ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন এবং তিনি প্রায়ই ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন।
এসআই আওলাদ আরও জানান, সংবাদ পেয়ে সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য আজ দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারীর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের ঘিওর বাজারে একটি অভিযান পরিচালনা করে ৭,৫০০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে এবং তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযানটি সম্পন্ন করে।
মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম। অভিযানের পর, জব্দকৃত জালটি ঘিওর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
এ সময় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাজনীন নাহার এবং সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন জানায়, দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ