ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এনএসসিতে হিসাব দেয়নি বাফুফেসহ ৩৮ ফেডারেশন


এনএসসিতে হিসাব দেয়নি বাফুফেসহ ৩৮ ফেডারেশন

বাফুফে সহ ৩৮টি ফেডারেশন এনএসসিতে হিসাব জমা দেয়নি।জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিকট দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এনএসসি অ্যাক্টের ২৩ নম্বর ধারায়, যেখানে প্রত্যেক জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার বার্ষিক আয়-ব্যয় এর হিসাব বিবরণী ও অডিট পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। তবে, ৫২ ফেডারেশনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪টি ফেডারেশন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই আইন দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান। এনএসসি ফেডারেশনগুলোকে আর্থিক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি। সাবেক সচিব মো. আমিনুল ইসলাম ফেডারেশনগুলোর কাছে অডিট রিপোর্টের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন।ফেডারেশনগুলো প্রতিবেদন না দেওয়ার কারণে কিছুদিনের জন্য তাদের অনুদান স্থগিত ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই কঠোর অবস্থান তুলে নেওয়া হয়েছে।জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (অর্থ) তনময় ইসলাম সকল ফেডারেশন ও এসোসিয়েশনকে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ব্যয় বিবরণী ও অডিট রিপোর্ট অবিলম্বে প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের অডিট প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার অনুরোধও করেছেন।জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের আয়-ব্যয় বিবরণী ও অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে কাবাডি, সাঁতার, শুটিং, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি, জিমন্যাস্টিক্স, শরীর গঠন, বিলিয়ার্ড, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, রাগবি, মাউন্টেরিং, প্যারা অলিম্পিক, এবং ক্রিকেট বোর্ড। তবে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের অডিট ও আয়-ব্যয় এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন জমা দিয়েছে।দেশের অন্যতম শীর্ষ ফেডারেশন ফুটবল সরকারের কাছে বিভিন্ন সুবিধার জন্য আবেদন করে চলেছে। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। ফুটবল ফেডারেশন এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তিনটি হোম ম্যাচের গেট মানির অর্থও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে পরিশোধ করেনি। ঐ ম্যাচগুলোর আয়-ব্যয় এখনো মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করেনি ফুটবল ফেডারেশন।টবলের পাশাপাশি আরচ্যারি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, কারাতে, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাইক্লিংসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেশন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়-ব্যয় বিবরণী ও অডিট প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক মামলার বিচারে ১০ জেলায় ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০১ এম


মাদক মামলার বিচারে ১০ জেলায় ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলার দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে দেশে ১০ জেলায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে এসব ট্রাইব্যুনালের স্থানীয় অধিক্ষেত্রও নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

নতুন অধিক্ষেত্র অনুযায়ী বিচারাধীন মামলাগুলো ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন ও তাদের বিচারিক এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগরের জন্য পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার জন্য একটি এবং মহানগরের বিভিন্ন থানাকে ভাগ করে চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে দুটি, চট্টগ্রামে চারটি, কক্সবাজারে তিনটি, কুমিল্লায় দুটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরে একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব হুমায়ূন আহমেদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো নতুনভাবে নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। কোনো মামলা যে ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রভুক্ত হবে, সেই ট্রাইব্যুনালেই মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামগতিতে ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎শোরাফ উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ এম


রামগতিতে ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা

‎লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নতুন উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে হাফেজ নেছার উদ্দিনকে সভাপতি, গাজী ইয়াকুব শরিফকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মো. ইব্রাহিম খলিলকে সহ-সভাপতি, আব্দুর রহিম বিন আজাদকে সেক্রেটারি এবং মাওলানা আনোয়ার হোসেনকে জয়েন্ট সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়েছে।
‎
‎বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রামগতি উপজেলার নূরীয়া হাজিরহাট রাস্তার মাথা মাদরাসার সভাকক্ষে আয়োজিত সম্মেলন শেষে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ রামগতি উপজেলা সভাপতি কে. এম. রাকিবের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়।
‎
‎সম্মেলনে সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন।
‎
‎প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসাইন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরিয়তকে গুরুত্ব দিয়ে এ দেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করে।”
‎
‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন, “আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোতেই সমস্যা। এজন্য চরমোনাই পীর বলেছেন, শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই।
‎তিনি আরও বলেন, “আপনারা দেখেছেন ইসলামী আন্দোলন নির্বাচন করে হেরে গেছে। নির্বাচন-পরবর্তীতে আমরা বুঝতে পেরেছি, ইসলামী আন্দোলন হেরে গিয়ে আসলে জিতে গেছে।”
‎
‎সম্মেলন শেষে নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৫ এম


সোনারগাঁয়ে মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

বগুড়ার আদমদীঘিতে কালো বাজারে বিক্রির উদ্দেশে দুটি গুদামে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার মজুদ রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সার ডিলার সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তার দুটি সার গুদাম সিলগালা করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টায় উপজেলার নসরতপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সজল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জুয়েল রানা ও যুগ্ম আহ্বায়ক কোরবান আলীসহ নেতারা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র সাহা নামে দুই সার ডিলার ডিএপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার তার চাঁপাপুর গুদামে মজুদ না করে নসরতপুর বাজারে পৃথক দুটি গুদামে পাচারের উদ্দেশে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা মজুদ করে রাখে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা বিষয়টি জানতে পেরে দুটি গুদাম ঘেরাও করে সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম উল্লেখিত গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন।

এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি সার ডিলারের স্বত্বাধিকারী সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া দুটি সার গুদামে পাচারের জন্য মজুদ রাখা ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সারসহ গুদাম সিলগালা করেন।

বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার জানায়, কৃষকদের সার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রি বা পাচার করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের চিঠি ঘিরে বোয়িংয়ের আড়ালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


ট্রাম্পের চিঠি ঘিরে বোয়িংয়ের আড়ালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্প্রতি প্রেরিত চিঠিটি আকারে ছোট হলেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব গভীর। চিঠির প্রেক্ষাপট হলো বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত। তবে এর ভাষা এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য ধন্যবাদজ্ঞাপন নয়; বরং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, ‘বোয়িং উইল নট লেট ইউ ডাউন, অ্যান্ড আই উইল নট ফরগেট’ (বোয়িং আপনাকে নিরাশ করবে না, এবং আমিও ভুলব না)।’ এরপর তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করেছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন ব্যক্তিগত বার্তা নিছক প্রটোকল নয়; বরং এর মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ইঙ্গিত রয়েছে।

বোয়িং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শিল্প প্রতিষ্ঠান। একটি বড় বিমান ক্রয় শুধুমাত্র উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে এ ধরনের চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করার সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে এর সম্ভাবনা কেবল বিমান ক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

বোয়িংয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে অ্যাভিয়েশন মেইটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও), প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং অ্যারোস্পেস রিলেটেড সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগানো যেতে পারে। অর্থাৎ চুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ভর করবে এটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে কতটা রূপ নেয় তার ওপর। তবে চিঠিটির প্রকৃত তাৎপর্য বোঝার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করা জরুরি।

বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরীয় যোগাযোগ, আঞ্চলিক বাণিজ্য, বন্দর, সমুদ্রপথ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ঢাকা এখন শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্র নয়; বরং বৃহত্তর ওহফড়-চধপরভরপ ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামো, শিল্প, যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার এবং প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাব্য বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে সম্পর্ককে পরস্পরবিরোধী না করে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার উদ্যোগের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চিঠি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে। বাংলাদেশ সম্ভবত ‘মাল্টি–অ্যালাইনমেন্ট’ বা বহুমুখী কৌশলগত ভারসাম্যের পথে এগোচ্ছে। এর অর্থ কোনো একটি পক্ষকে বেছে নেওয়া নয়; বরং বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

এদিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলোর কৌশলগত গুরুত্বও তত বাড়ছে। ওয়াশিংটন স্বাভাবিকভাবেই চাইবে ওহফড়-চধপরভরপ অঞ্চলে চীনের প্রভাব যেন একচেটিয়া না হয়। অন্যদিকে বেইজিংও বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী। এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমান নীতি হতে পারে কারও প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে উভয়ের সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক সহযোগিতা করা। এখানেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বোয়িং কেনার জন্য ব্যক্তিগত ধন্যবাদ, বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা এবং তারেক রহমানের সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে সাক্ষাতের আগ্রহ-সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে এটি বাংলাদেশকে চীনের বিপরীতে দাঁড় করানোর সরাসরি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা অতিরঞ্জিত হবে। বরং এটি দেখায় যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই বৃহৎ শক্তির আগ্রহ বাড়ছে। চিঠিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসাও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ইতিবাচক মন্তব্য সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বরং এটি নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরির একটি রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত।

চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো সম্ভাব্য সাক্ষাতের কথা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠক হলে সেটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। সেখানে শুধু বোয়িং নয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা, রোহিঙ্গাসংকট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। বাংলাদেশের উচিত হবে এমন বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক ও কৌশলগত এজেন্ডা সামনে রাখা। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাজারকে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, দক্ষ জনশক্তি এবং উচ্চমূল্যের রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সম্পর্কটি শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপসহ সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করলে বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে এবং কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ও নিরাপত্তাকেও সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতাকে নিজের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা। চীন থেকে অবকাঠামো ও শিল্প সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাজারসুবিধা এবং ইউরোপ, জাপান ও অন্যান্য অংশীদারের কাছ থেকে উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ-এসব কিছু একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের আওতায় আনা সম্ভব।

তবে এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা চীনের উদ্বেগ বাড়াতে পারে, আবার চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত সামরিক বা কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত কোনো শক্তির পক্ষে অবস্থান নয়, বরং কৌশলগত স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থ।

এই নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইতিবাচক হলেও সেটি যেন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের একমাত্র ভিত্তি না হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন পরিবর্তিত হতে পারে, তাই কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা, কৌশলগত মহলসহ বিভিন্ন স্তরে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর করা প্রয়োজন।

একইভাবে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনীতি, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় পরিণত করা প্রয়োজন। এতে সরকার পরিবর্তন বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থিতিশীল থাকবে।

সব মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক পরিবর্তনের ঘোষণা বলা যাবে না। বোয়িং ক্রয়ও একা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে বাংলাদেশের কৌশলগত ঝুঁকে পড়ার প্রমাণ নয়। বরং এটি এমন এক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথের সংকেত, যখন বাংলাদেশ একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

চিঠির মূল তাৎপর্য তাই বোয়িংয়ের বাইরে। এটি দেখাচ্ছে যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ওয়াশিংটনের কাছে ঢাকার কৌশলগত মূল্য বাড়াচ্ছে।

সফল কূটনীতি হবে সেটিই, যেখানে বাংলাদেশ কারও প্রতিপক্ষ না হয়ে সবার সঙ্গে কাজ করবে, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যেমন চীনের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়, তেমনি চীনের সঙ্গে সহযোগিতাও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশের প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চূড়ান্ত মানদণ্ড হওয়া উচিত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ।

বর্তমানে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান-কোনো একক শক্তির অনুসারী নয়, বরং নিজের জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সহযোগিতায় সক্ষম একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি তাই শেষ কথা নয়, বরং একটি সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বোয়িং দিয়ে যে কথোপকথন শুরু হয়েছে, সেটি যদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতায় বিস্তৃত করা যায়, তাহলে এই ছোট চিঠিটিই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

♦ লেখক : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%