০৩:২৪ পি.এম
রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ জোর তদন্ত চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঞ্চল্যকর কারণও খুঁজে পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবলে নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার খুন হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অভিযানের মাধ্যমে আটককৃতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে। আটক ব্যক্তিদের নাম হলো শোয়েব, আরমান ও নয়ন।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা আরও জানান, আবুল বাশারের স্বজনেরা তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে গেছেন। তারা ফিরে এসে আদাবর থানায় হত্যা মামলা করবেন। ওই মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই হত্যার ঘটনায় চারজন ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।
আটক চারজনের বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করেছে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পরে কিছু স্থানীয় কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিল। এ সময় হাবিব নামের এক ব্যক্তি নীরব নামের এক যুবককে মারধর করেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ঘটনার পরদিন আদাবর ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নবোদয় হাউজিং বাজার এলাকায় গিয়ে নীরবকে আবার মারধর করেন। তার বিরুদ্ধে নীরবকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
গত বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারে হাবিবের কার্যালয়ে সালিসে বসা হয়। সালিস শেষে সাদ্দাম ও তার সমর্থকেরা নীরব ও তার বড় ভাই রিপনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. সাদ্দাম ও আদাবর ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার (বাদশাহ) আহত হন। আহত দুজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা আরও জানান, বুধবারের হামলার ঘটনার আগে সাদ্দাম আদাবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
স্বজনেরা জানাচ্ছেন, আবুল বাশার পেশায় একজন প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। তিনি পরিবারসহ আদাবর বি-ব্লকে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন