১০:০৯ পি.এম
আজ সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সমস্যা থাকবেই, তবে সেই সমস্যা জর্জরিত হয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে সকলের জন্য আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ এক সময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, কিন্তু আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সবাই যদি একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই সেটা সম্ভব। আজ সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সভার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথাগুলি বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার নির্দেশও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সমন্বয়ে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি কর্পোরেশনসহ মাঠ পর্যায়ে ভেজাল বিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তাদের সামনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা আলোচনা করা হয়। তারা বিশেষভাবে জেলাপর্যায়ে জনবল বাড়ানো, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য আধুনিক সরঞ্জামসহ সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানান তারা। উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্কটের কথা অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এজন্য তিনি তিন সদস্য বিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ তুলে ধরে জনসচেতনতাকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, 'আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন হন না। দেশের পরিবর্তনের জন্য শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সকলকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।' সভায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকর্তাদের মধ্যে জন প্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন